ধর্মতলা আসলে এসেছে 'দ্রুম' শব্দটি থেকে? জেনে নিন, আসলে কী অর্থ

সুবলচন্দ্র মিত্র সংকলিত 'আদর্শ বাঙ্গালা অভিধান'-এ দ্রুম শব্দটির অনেকগুলি অর্থ দেওয়া হয়েছে। যথা, বৃক্ষ, পারিজাত বৃক্ষ, কুবের আর রুক্মিণীগর্ভজাত কৃষ্ণের পুত্র।

Asit Das
৪ মিনিট
ধর্মতলা আসলে এসেছে 'দ্রুম' শব্দটি থেকে? জেনে নিন, আসলে কী অর্থ

'দ্রুম' শব্দটি আগে যেমন ব্যবহৃত হতো, আজকাল তার কণামাত্র হয় না। হয়তো দ্রুম-এর তদ্ভব কোনও রূপ আমরা নিজেদের অজান্তে ব্যবহার করে চলেছি। সেগুলো ধরার কোনও ছাঁকনি নেই। তবে ভাষায় চিরুনিতল্লাশি চালিয়ে চেষ্টা করে দেখা যায়। আমরা জানি, রাধাকান্ত দেবের লেখা অভিধানের নাম 'শব্দকল্পদ্রুম'। এই নামে সুকুমার রায়ের একটি ছড়াও আছে। 'দ্রুম'-এর অর্থ যে বৃক্ষ বা গাছ, সেটা বলাই বাহুল্য।

সংসদ বাংলা অভিধানে দ্রুম শব্দের ব্যুৎপত্তি আছে, [সং.√দ্রু(ঊর্ধ্বগতি)+ম]। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বন্দেমাতরম্'-এ যে 'ফুল্লকুসুমিত দ্রুমদলশোভিনীম্' অংশটি আছে, সেকথা বেশিরভাগ অভিধানকারই মনে করিয়ে দিয়েছেন। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান' খুললে দ্রুম-এর ব্যুৎপত্তি দেখা যায়, [দ্রু(গত্যর্থে)+ ম ]। এবার আসা যাক হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গীয় শব্দকোষ'-এ। তিনি লিখেছেন, [দ্রু +ম অস্ত্যর্থে, দ্রুমৎ> দ্রুম(?)– দারুযুক্ত] চিত্রপথদ্রুমাম্, বদ্ধপল্লবপুটাঞ্জলিদ্রুম, শব্দগুলি তিনি সংস্কৃত সাহিত্য থেকে তুলে এনেছেন।দ্রুমাশ্রম, দ্রুমব্যাধি, দ্রুমরাজ, দ্রুমময়, দ্রুমারি, দ্রুমবান, শব্দগুলি তো আছেই অভিধানে। সুবলচন্দ্র মিত্র সংকলিত 'আদর্শ বাঙ্গালা অভিধান'-এ দ্রুম শব্দটির অনেকগুলি অর্থ দেওয়া হয়েছে। যথা, বৃক্ষ, পারিজাত বৃক্ষ, কুবের আর রুক্মিণীগর্ভজাত কৃষ্ণের পুত্র।

অভিধানের কথা তো অনেক হল, তা দ্রুম শব্দটি আমরা আর ব্যবহার করি না কেন? গাছ এসে তো দ্রুম, বৃক্ষ, পাদপ, মহীরুহ, শব্দগুলির ভাত মেরে দিয়েছে। বৃক্ষের অপভ্রংশের তবু দেখা মেলে, যথা বিরিখ, বিরিখি। দ্রুম শব্দের তদ্ভব রূপগুলি গেল কোথায়?

তন্নতন্ন করে অভিধান ঘেঁটেও আপনি দ্রুম-এর তদ্ভব রূপের দেখা পাবেন না। তবে আভাসে-ইঙ্গিতে আপনাকে ধরে নিতে হবে, কোন কোন শব্দ দ্রুম থেকে আসা সম্ভব।

'দরমা' শব্দটির কথা কাউকে মনে করিয়ে দিতে হয় না। এর অর্থ বাঁশের চাঁচারি থেকে তৈরি ঘরের দেওয়ালের বিকল্প, টাটি ইত্যাদি। ব্যুৎপত্তি দেওয়া আছে হিন্দি 'দরমা' থেকে। তা হিন্দি দরমা কোথা থেকে এল, বলা নেই কোথাও। এই দরমা তো দ্রুম থেকে আসতেই পারে। গাছের আঁশ থেকে যখন তৈরি, তখন তৎসম দ্রুম থেকে তো আসতেই পারে হিন্দি আর বাংলা দু'ভাষাতেই। আসার রাস্তাটি হচ্ছে, দ্রুম> দুরমো> দরমো> দরমা। দরমা বা ছেঁচাবেড়া দিয়ে তৈরি বাড়ি তো পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তু মানুষজনের কলকাতাবিজয়ের দিকচিহ্নবিশেষ।

এরপর 'দুরমুশ' শব্দটির কথা না বললেই নয়। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস লিখেছেন, হিন্দি দুরমট্ থেকে দুরমুশ। তা হিন্দিতে দুর্মট বা দুরমট্ এল কোথা থেকে? দুরমুশ জিনিসটিতে গাছের ডাল বা বাঁশের আগায় লোহার পেষাইকারী বা 'পিটনে' লাগানো থাকে। বিশেষত, আগেকার দিনে ঘরের ভিত পেটার জন্য দুরমুশের প্রয়োগ করা হত। গাছের ডাল বা বাঁশের খণ্ড থাকায় দ্রুমশ বা দ্রুমজ থেকে দুরমুশ আসতেই পারে। রোমশ হস্তে দ্রুমশ ব্যবহার করে কেউ কেউ তো তিনতলা বাড়ির ভিতও দিতেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'জামি' শব্দটি কি অশ্লীল? জানেন এই হারিয়ে যাওয়া শব্দের অর্থ

জামি মানে যে কুলস্ত্রী, কুলবধূ বা দুহিতা, এটি বেশিরভাগ প্রামাণ্য অভিধানেই আছে। তা, হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'বঙ্গীয় শব্দকোষ', জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাসের 'বাঙ্গালা ভাষার অভিধান', সুবলচন্দ্র মিত্রর 'আদর্শ বাঙ্গলা অভিধান' বা নগেন্দ্রনাথ বসুর 'বিশ্বকোষ'– যাই হোক না কেন।

দুরমো বা দুরমা বলে একজাতীয় নারকেল পাওয়া যায়। সংসদ বাংলা অভিধানে শব্দটি আছে। মোটামুটিভাবে ডাব আর ঝুনো নারকেলের মাঝামাঝি এই নারকেল। 'নারকেল দোমালা হয়েছে', নারকেল-পাড়া ছোকরাদের মুখে এই লব্জ আমরা অনেকেই শুনেছি। এই দোমালা, দুরমা বা দুরমো- শব্দগুলি দ্রুম-এর অপভ্রংশ বলে মনে হয়। তালগাছ যখন দ্রুমরাজ বা দ্রুমশ্রেষ্ঠ বলে পরিচিত, দোসর নারকেল গাছের ফলকে দুরমো, দুরমা, দোমালা বলে ডাকা হতেই পারে। দুরমুশকে গ্রাম্য ভাষায় নাকি ধুরমুশ বলে। স্মৃতি যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করে, আমিও সুদূর গ্রামীণ অতীতে ধুরমুশ কথাটি শুনেছি।

ছেলেবেলায় ধুরমোতলা বলে একটি জায়গার নামও শুনতাম লোকমুখে। পরে জেনেছিলাম জায়গাটির আসল নাম ধর্মতলা। আমি কিন্তু কলকাতার বিখ্যাত ধর্মতলার (Esplanade) কথা বলছি না, গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ধর্মতলা-নামের কথা বলছি। পরবর্তীকালে শ্রীরামপুরে ডাক্তারি করতে গিয়ে সেখানেও দেখেছি বহাল তবিয়তে আছে একটি ধর্মতলা। তাহলে কি দ্রুমতল থেকে দুরমোতলা হয়ে ধুরমোতলা তথা ধর্মতলা? আসলে কি ধর্মের পীঠস্থান নয়, নেহাতই গাছতলা ছিল জায়গাগুলি? গাছতলাতেই আস্তে আস্তে গড়ে উঠেছিল ধর্মের আলাপআলোচনার ঠেকগুলি?

না হওয়ারই বা কী আছে?

তবে কল্পনাকে আর একটু প্রসারিত করে যদি কেউ ভাবে দ্রুমঠাকুর-ই কালের প্রবাহে দুরমোঠাকুর বা ধুরমোঠাকুর হয়ে ধর্মঠাকুর বনে গেছেন, তাহলে তাকে দোষ দেওয়া যাবে না! কেননা ধর্মঠাকুর মূলত গ্রামীণ বৃক্ষকেন্দ্রিক দেবতা। ধর্মঠাকুরের পুজোয় একটি গাছের কাণ্ডকে আলতাসিঁদুর-চালের গুঁড়িগোলা দিয়ে সাজানো হয়। গাছের নিচে পোড়ামাটির তৈরি ঘোড়ার মূর্তি, মাটির সরা, কলসি ইত্যাদি রাখা হয়। গৌতম বুদ্ধের বোধিবৃক্ষর নিচেই যে সিদ্ধিলাভ, মহানির্বাণ ইত্যাদি ঘটেছিল, তা তো আমরা জানিই। বৌদ্ধদের ধম্ম-ও কি আসলে দ্রুম-শব্দজাত? প্রশ্নটি তোলা কিন্তু অমূলক নয়। অন্তত বৌদ্ধধর্মের উদারতা এই ধরনের প্রশ্নকে বরাবর প্রশ্রয় দেয়। গাছের নিচে সুজাতার পায়েসের কথা তো আমজনতার কাছে অজানা নয়।

সুকুমার রায় 'আবোল তাবোল'-এর 'শব্দকল্পদ্রুম' ছড়াটিতে লিখেছেন,

ঠাস্ ঠাস্ দ্রুম দ্রাম, শুনে লাগে খটকা–

ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পটকা!

বস্তুত তৎসম শব্দ 'দ্রুম'-কে এত মুনশিয়ানার সঙ্গে তিনি ছড়াটিতে ব্যবহার করেছেন যে, চমকে উঠতে হয়। দ্রুমের সঙ্গে দ্রামের অনুপ্রাস দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রতিভা থাকলে বহু তৎসম শব্দকেই অনায়াসে ছড়ায় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, শব্দটিকে নিয়ে কিঞ্চিৎ খেলাও করা যায়। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কস্মিনকালে দ্রুম শব্দটি ব্যবহার করেননি বলে জানাচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি বিচিত্রা অনলাইন টেগোর ভেরিওরাম। জানি না, এটা সত্যি কি না।

তবে একটি কথা মাথায় রাখা দরকার, উচ্চারণগতভাবে শব্দটি দ্রুম-অ (হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়)। এক্ষেত্রে দ্রুমদলশোভিনীম্ স্মর্তব্য। তবে বাংলায় দ্রুম্ উচ্চারণ করা হয় হরবখত।

রাজা রাধাকান্ত দেবের শব্দকল্পদ্রুম সংস্কৃত অভিধানের জগতে একটি ব্যতিক্রমী অভিধান। যদিও সংস্কৃত গদ্য, এর হরফ কিন্তু বাংলা। ১৮০৩ সাল থেকে রাধাকান্ত এই বিপুলাকার অভিধানটির সংকলন শুরু করেন, প্রথম খণ্ডটি বেরোয় ১৮১৯-এ। শেষ তথা অষ্টম খণ্ড বেরোয় ১৮৫৮-য়। তাঁর চল্লিশ বছরের সাধনায় এটি সম্ভবপর হয়েছিল। বিধবাবিবাহ প্রচলনের বিরোধিতা করে তিনি বাঙালি সমাজের যতটা ক্ষতি করেছিলেন, তা কড়ায়-গণ্ডায় পুষিয়ে দিয়েছিলেন এই অভিধানটি লিখে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তো বটেই, উকিল-ব্যারিস্টাদের মধ্যেও এর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

দ্রুমারি শব্দটি নিয়ে আলাদা করে একটু বলতেই হয়। দ্রুমারি মানে হাতি। দ্রুম + অরি > দ্রুমারি। হাতির পাল জঙ্গলের ভিতর দিয়ে গাছের ডালপালা ভাঙতে ভাঙতে যায়। কচি ডাল খেতে খেতে চলে গজেন্দ্রগমনে। দ্রুম বা গাছের শত্রু হাতি, তাই নাম দ্রুমারি। দ্রুমারি শব্দটির অপভ্রংশের খোঁজে আছি। প্রতিমা বড়ুয়ার হস্তীর গান শুনেছি বারবার, হস্তিবিশারদ ধৃতিকান্ত লাহিড়ীচৌধুরীর শিকারের গল্পও পড়েছি অনেকবার, তারই কোথাও দ্রুমারি শব্দটির তদ্ভব রূপ লুকিয়ে থাকতে পারে। আর বুদ্ধদেব গুহ তাঁর অজস্র শিকার ও অরণ্য-অ্যাডভেঞ্চারের গল্পে দ্রুমারি হাতির কথা লিখে যেতেও পারেন।

লিখেছেন
Asit Das
Asit Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।