'ভয়ঙ্কর ছিল প্রথম ২৪ ঘণ্টা'... সুড়ঙ্গের ভয়াল স্মৃতি ভুলতে পারছেন না হিমাচলের বিশাল

Uttarkashi Tunnel Collapse: প্রাথমিক ভাবে ওঁরা ভেবেছিলেন, বড়জোর পাঁচ থেকে দশদিনের মধ্যেই তাঁরা বাইরের বেরিয়ে আসবেন। তবে ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকে অপেক্ষা।

Sohini Das
৩ মিনিট
'ভয়ঙ্কর ছিল প্রথম ২৪ ঘণ্টা'... সুড়ঙ্গের ভয়াল স্মৃতি ভুলতে পারছেন না হিমাচলের বিশাল

সতেরো দিনের একটা যুদ্ধ। যে যুদ্ধের শেষে বাড়ি ফেরা আদৌ আছে কিনা জানতেন না সুড়ঙ্গে বন্দি ৪১ জন শ্রমিক। ভিতরে বাইরে এক অবিরাম লড়াই শেষে এসেছে এক আশ্চর্য জয়। যেখানে হারেনি কোনও পক্ষই। বিপর্যয়ের মুখের উপর দিয়ে সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে বন্দি সমস্ত শ্রমিকের প্রাণ ফিরিয়ে এনেছেন হাজার হাজার উদ্ধারকারী। সেই মিছিলে কে নেই। স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা দল। নেমেছিল সেনা, এনডিআরএফ। এই উদ্ধারপ্রক্রিয়ায় ক্রমাগত মাথা খাটিয়েছেন একাধিক ইঞ্জিনিয়ার। দেশ-বিদেশ থেকে নানা বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে আসা হয়েছিল এই কাজের জন্য। এত বড় উদ্ধারকাজ এর আগে দেখেনি দেশ।

এ দেশের বেশিরভাগ বড় কাজই হয় ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের দিয়ে। সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গের কাজ করতেও বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছিলেন শ্রমিকেরা। বিশাল কুমার নামে এক শ্রমিক এসেছিলেন হিমাচলপ্রদেশ থেকে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা। ভাগ করে নিয়েছেন ওই ১৭ দিনের ভয়ঙ্কর লড়াইয়ের গল্প। বিশাল জানান, সুড়ঙ্গে আটকে পড়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা ছিল ভয়াবহ। কারণ ওরা জানতেই না, আদৌ ওদের বাঁচাতে কিংবা সাহায্য় করতে আসছেন কিনা। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করাটাই ছিল সেসময় একটা চ্যালেঞ্জ।

ক্রমে বাইরের পৃথিবী জানল, এই অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে রয়েছেন ৪১টি প্রাণ। কাজ করছে না ওয়াকিটকি। বাইরে কীভাবে জানাবেন যে আটকে পড়েছেন তাঁরা সুড়ঙ্গের ভিতরে। এমন সময়ে মাথায় আসে, দুটি পাইপ থাকে সুড়ঙ্গে। একটি অপরিষ্কার জল বাইরে পাঠানোর। দ্বিতীয়টি দিয়ে বাইরে থেকে বিশুদ্ধ জল ঢোকে সুড়ঙ্গের ভিতরে। তাঁরা ওই বর্জ্য জলের পাইপটিকেই সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেছেন শ্রমিকেরা। তাঁরা যে আটকা পড়ে রয়েছেন সুড়ঙ্গের মধ্যে, জানানোর চেষ্টা করেন সকলকে। তিন থেকে চার বার পাম্প চালানো হয় এমন ভাবে, যাতে তা সঙ্কেতের মতো ঠেকে বাইরের পৃথিবীর কাছে। না, ব্য়র্থ হয়নি সেই চেষ্টা। এর পর দশ থেকে বারো ঘণ্টার মধ্যে সেই পাইপ দিয়েই ক্রমে অক্সিজেন আসতে শুরু করে তাঁদের কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ইনসান কো ইনসান সমঝে!' শ্রমিকদের বাঁচানোর পুরস্কারমূল্য ফিরিয়ে যা চাইলেন ব়্যাটহোল মাইনার্সরা

Uttarakhand Tunnel Rescue: উত্তরকাশীর এই সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারকাজ সফল হওয়ার পর যখন প্রত্যেক শ্রমিককে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।

| Mandi, Himachal Pradesh: Vishal Kumar who was rescued from the Silkyara tunnel, receives a welcome as he reaches his native place.

— ANI (@ANI)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গে ঘাপটি মেরে নয়া বিপদ! আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে উত্তরকাশী

Uttarkashi Tunnel Collapse: সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সুড়ঙ্গের পাশেই তৈরি হয়েছে বিশাল বর্জ্যের পাহাড়। যেখানে যখনতখম ফের নামতে পারে ধস। এবং সেই ধসের জেরে ধুলোয় মিশে যেতে পারে আশপাশের জনবসতি।

ক্রমে ফুরিয়ে আসছিল মোবাইলের চার্জ। বাধ্য় হয়েই তাঁরা বন্ধ করে দেন মোবাইলগুলি। বিশাল জানান, প্রথম ওই ২৪টি ঘণ্টা ছিল হৃদপিণ্ড বন্ধ করে দেওয়া। আর কোনওদিন কি বেরোনো হবে বাইরের পৃথিবীতে। তবে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে বোঝার পর একটু কমে উৎকণ্ঠা। তখনও কি জানতেন তাঁরা ওই সুড়ঙ্গেই কাটাতে হবে ১৭টা দিন। প্রাথমিক ভাবে ওঁরা ভেবেছিলেন, বড়জোর পাঁচ থেকে দশদিনের মধ্যেই তাঁরা বাইরের বেরিয়ে আসবেন। তবে ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকে অপেক্ষা। হিমাচলের বাসিন্দা বিরাট জানিয়েছেন, তাঁরা ভেবেছিলেন, বেশিরভাগ সময়টা ঘুমিয়ে কিংবা বাকিদের সঙ্গে গল্প করেই কেটে যাবে।

খাবার আসছিল, জল আসছিল। অক্সিজেন পাঠানো হচ্ছিল আমাদের কাছে। কিন্তু ক্রমশ ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছিল। বাইরের আলো দেখার জন্য, পরিবারের মানুষগুলোর মুখ দেখার জন্য ভিতরে ভিতরে কেমন একটা অস্থিরবোধ করতেন শ্রমিকেরা। গত বারোই নভেম্বর ওই সুড়ঙ্গের ভিতরে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই ধস নামে। আটকে যায় সুড়ঙ্গ থেকে বেরোনোর সমস্ত পথ। উদ্ধারকাজ শুরু হলেও বারবার উদ্ধারের পথে এসেছে কাঁটা। কখনও খুঁড়তে গিয়ে নেমেছে ধস, কখনও আবার দিল্লি থেকে উড়িয়ে আনা মার্কিন খননযন্ত্র গিয়েছে ভেঙে। শেষপর্যন্ত ব়্যাটহোল মাইনার্সদের আনা হয়। যন্ত্র হাত তুলে দেওয়ার পর হাত দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো হয় শেষমেশ।

অবশেষে মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করা হয় বন্দি শ্রমিকদের। উদ্ধারের পর চিনিয়ালিসাউরের একটি অস্থায়ী হাসপাতালে রাখা হয় তাঁদের। পরে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঋষিকেশের এইমস হাসাপাতালেও আনা হয় তাঁদের। সেখানে পরীক্ষানিরিক্ষার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে শ্রমিকদের। সকলেই সুস্থ রয়েছেন মোটামুটি। ফিরেও যাবেন বাড়িতে। তবে স্মৃতি থেকে ওই দুঃসহ ১৭দিনকে তাড়িয়ে দেওয়া বোধহয় সহজ নয়। সেই স্মৃতি বুকে নিয়েই আপাতত পুরনো জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন বিশালরা।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।