'হাতের ওপর হাত' এখন অতীত! ৬০ বছর পর পরিবর্তনের ঝড়, হঠাৎ কেন লোগো বদল নোকিয়ার?
Nokia New Logo : ৬০ বছর পর সেখানেই এল পরিবর্তনের হাওয়া! সম্প্রতি নিজেদের পুরনো সেই বিখ্যাত লোগো বদলে ফেলল নোকিয়া কোম্পানি।

“হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয়।” শঙ্খ ঘোষের কবিতার এই লাইনটি এখনও নানা জনে নানা ভাবে ব্যবহার করেন। একটা হাতের ওপর আরেকটা হাত উঠে আসছে, একে অপরকে ছুঁতে চাইছে – এই কথাটি বললেই একটি দৃশ্য মনে পড়বে প্রায় প্রত্যেকের। নোকিয়ার সেই বিখ্যাত লোগো, সঙ্গে ট্যাগলাইন ‘কানেকটিং পিপল’। বহু মানুষের ভরসার চিহ্ন ছিল সেটি। নোকিয়ার মোবাইল ফোন মানেই আর কোনও চিন্তা নেই। আজকের স্মার্টফোন, এআই নির্ভর পৃথিবীর আগে সেটাই ছিল সবার কাছের বন্ধু। বহু কথাবার্তা, প্রেম, বন্ধুত্বের সাক্ষী থেকেছে নোকিয়া আর তার সেই বিখ্যাত লোগো, যাকে এক ডাকে লোকে চিনে নিত।
৬০ বছর পর সেখানেই এল পরিবর্তনের হাওয়া! সম্প্রতি নিজেদের পুরনো সেই বিখ্যাত লোগো বদলে ফেলল নোকিয়া কোম্পানি। গাঢ় নীল রঙের সেই ‘NOKIA’ লেখাটির বদলে নতুন ফন্ট, নতুন রঙের ছোঁয়া। পাঁচটি অক্ষর, পাঁচটি ভিন্ন আকৃতির। সেইসঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডের সাদাসিধা ব্যাপারটিও সরে গিয়ে উঠে এসেছে ঝাঁ চকচকে রং। আরও স্মার্ট চেহারা নিয়ে গ্রাহকদের সামনে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করল ১৫০ বছরেরও বেশি পুরনো ফিনল্যান্ডের এই টেলিকম কোম্পানি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Jyoti Basu: সেই সময় আউটগোয়িং এবং ইনকামিং উভয়ের জন্য প্রাথমিক রেট ছিল ৮.৪ টাকা প্রতি মিনিট।
কিন্তু হঠাৎ করে কেন এমন পরিবর্তন? নস্টালজিয়ায় কেন এমন বদল নেমে এল? তারও সুস্পষ্ট জবাব দিয়েছেন নোকিয়ার বর্তমান সিইও পেকা লুন্ডমার্ক (Pekka Lundmark)। একটা সময় কেবল বাংলা বা ভারত নয়, গোটা পৃথিবীর টেলিকমিউনিকেশনের জগতে বিপ্লব এনেছিল নোকিয়া। বিশ্বজুড়ে প্রচুর মানুষ স্রেফ এই কোম্পানির ফোনই ব্যবহার করত। ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছিল এই কোম্পানি। কিন্তু যত দিন গিয়েছে, প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়েছে। অ্যাপেল কোম্পানিও নিজেদের আইফোনে নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। এছাড়াও অ্যান্ড্রয়েড প্রযুক্তির হাত ধরে একটা বড় বাজার দখল করেছিল স্যামসাং (Samsung)। পরবর্তীকালে চিনা কোম্পানি শাওমির (Xiomi) বিভিন্ন স্মার্টফোনের মডেল বাজারে আসে। একটু একটু করে সবাই সেদিকেই চলে যায়।
আর এই পুরো বাজারটায় কার্যত একা হয়ে যায় নোকিয়া। প্রযুক্তির বিপ্লবে অন্যান্যরা এগিয়ে গেলেও নোকিয়া সেভাবে এগোতে পারেনি। ফলে একটু একটু করে বিখ্যাত এই ব্র্যান্ডটি পিছনের সারিতে চলে যায়। মোবাইল বিক্রিও কমে যায়। ২০২০ সালে নোকিয়ার দায়িত্ব নেন পেকা লুন্ডমার্ক। তারপরই ব্যবসা বাড়ানোর জন্য বেশকিছু পরিবর্তন আনেন তিনি। নিত্যনতুন পরিকল্পনার ওপর ভর করে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু নোকিয়ার। সংবাদমাধ্যমের সামনে পেকা বলেছেন, আগের থেকে ব্যবসা বেড়েছে ২১ শতাংশ। কিন্তু এটাই যথেষ্ট নয়। অন্যান্য টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে টেক্কা দিতে গেলে আরও বড় জায়গায় যেতে হবে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সম্প্রতি ভিভোর অফিসগুলিতে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। গোটা দেশের প্রায় ৪৮টি অফিসে তারা তল্লাশি চালায় এবং তারা দাবি করে যে ভিভো কর ফাঁকি দেওয়ার জন্যে প্রায় ৬২,৪৭৬ কোটি টাকা দেশ থেকে সরিয়েছে।
তারই পরিকল্পনা হিসেবে নোকিয়ার নতুন এই যাত্রা। নোকিয়ার সিইও-র বক্তব্য, কোম্পানি এবার নতুন করে পথ চলতে চাইছে। নিজেদের কাজের পরিসর আরও বড় করতে চাইছে। সেই নতুন পথচলার শুরুয়াৎ হল লোগো পরিবর্তন করে। পুরনো লোগোটি যতই আইকনিক আর নস্টালজিয়ায় ঘেরা হোক না কেন, আজকের ক্রমাগত ছুটে চলা পৃথিবীর সঙ্গে টেক্কা দিতে গেলে তাকে বদলাতেই হবে। সেজন্যই আরও ঝকঝকে আর স্মার্ট হয়ে নোকিয়ার এই আত্মপ্রকাশ বলে জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও পেকা লুন্ডমার্কের বক্তব্য, এখন কেবল মোবাইল তৈরিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না নোকিয়া। তারা নিজেদের আরও বিভিন্ন দিকে বিস্তার করবে। টেলিকম প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে সার্বিকভাবে কাজ করবে এই প্রতিষ্ঠান। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন দিকে নিজেদের ছড়িয়ে দেবে এটি। এখন সেই দিকগুলোর অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে বিশ্বের আপামর নোকিয়াপ্রেমী।






