সমস্ত পরীক্ষা বিফলে? অমর হতে চেয়ে যৌবন হারালেন বিখ্যাত এই উদ্যোক্তা

Bryan Johnson Anti-aging Experiment: গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে রেপামাইসিন ওষুধটি আসলে জৈবিক বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করেছে। যৌবন রক্ষার পরিবর্তে, দ্রুত বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে এই ওষুধ।

inscript
৩ মিনিট
সমস্ত পরীক্ষা বিফলে? অমর হতে চেয়ে যৌবন হারালেন বিখ্যাত এই উদ্যোক্তা

মানুষ যদি মানুষ মারতে পারে, মানুষ যদি দুরারোগ্য রোগ সারানোর ওষুধ আবিষ্কার করতে পারে, মানুষ যদি অন্য গ্রহে বাসা বাঁধার কথা ভাবতে পারে, তাহলে অমর হতে বা চিরযৌবন ধরে রাখতে পারে না কেন? এভারগ্রিন বা চিরসবুজ বলে কয়েকজনকে আমরা ডেকে থাকি ঠিকই কিন্তু তা নেহাতই শ্রদ্ধা অথবা তাঁর অদম্যভাবের জন্য। শারীরিকভাবে চিরযৌবন থাকা বিজ্ঞানে অসম্ভব! তবে ইমমর্টালিটি মুভমেন্টও তো চলছে বিশ্বে! অর্থাৎ মানুষ বিশ্বাস করছে, চাইলে ঘড়িয়ে উল্টোদিকে হাঁটানো যায়, দেহ পট সনে নট সকলই হারায় না! বিখ্যাত টেক টাইকুন তথা বায়োহ্যাকার ব্রায়ান জনসন আধুনিক এই অমরত্ব আন্দোলনের মুখ। অমর হওয়ার জন্য বছরে ২ মিলিয়ন ডলার খরচা করেন তিনি। এই টাকার বিনিময়ে নিজের দেহে হাজারও পরিবর্তন ঘটান তিনি। কখনও ছেলের তাজা রক্ত নিজের দেহে সঞ্চালন করান, কখনও নিজের দেহের সম্পূর্ণ প্লাজমাই বদলে নতুন প্লাজমা নেন। অমর হওয়ার সমস্ত সম্ভাব্য পথই তিনি ব্যবহার করে ফেলেছেন।

তবে সাম্প্রতিকতম স্বীকারোক্তিতে, ৪৬ বছর বয়সী ব্রায়ান জনসন এক তিক্ত সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন বিশ্বকে। বলেছেন, বার্ধক্যকে ধীর করতে গিয়ে হয়তো বুড়িয়ে যাওয়ার গতি বাড়িয়ে ফেলেছেন তিনি। চিরযৌবন হওয়ার নেপথ্যে ব্রায়ান একটি নির্দিষ্ট ওষুধের কথা বলেছেন, Rapamycin। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিওতে ব্রায়ান জনসন বলছেন রেপামাইসিন বিষয়ে তাঁর হিসেবনিকেশে হয়তো বড় ভুল থেকে গেছে। রেপামাইসিন হচ্ছে মূলত ইমিউনোসপ্রেসেন্ট, মূলত অঙ্গ প্রতিস্থাপন হওয়া রোগীদের জন্যই এটি তৈরি। তবে এই ওষুধের অ্যান্টি-এজিং ক্ষমতা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়, ব্রায়ান জনসন নিজে পাঁচ বছর ধরে এই ওষুধটি পরীক্ষা করছিলেন।

ইনস্টাগ্রামে এই পোস্টটি দেখুন

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অবিশ্বাস্য! বয়সকে উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন এই ব্যক্তি? কীভাবে?

Anti Ageing Technique: সকাল সকাল ৬০ খানি ওষুধ খান ব্রায়ান। বাকি দিনে আরও ৪০ টা!

২০০৯ সালের একটি গবেষণায় জানা যায়, রেপামাইসিন ইঁদুরের আয়ুষ্কাল ১৪% পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালে মানুষের উপর একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধ খেয়ে ৬৫% রোগীরা সুস্থ বোধ করেছেন। ব্রায়ান জনসন এই ওষুধের সম্ভাব্য সুবিধা এবং ঝুঁকির ভারসাম্য বজায় রাখতে নানা ডোজে খুব সতর্ক হয়েই এই ওষুধ খেতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু বয়স থমকে যাওয়ার পরিবর্তে অস্বস্তিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করতে শুরু করেন তিনি।

দেখা যায়, মুখের মধ্যে ঘা হতে শুরু করছে। ক্ষত সারতে অনেক সময় লাগছে, কোলেস্টেরলের ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে। রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো বিশ্রামরত অবস্থাতেও জনসনের হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয় ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণা। নতুন এই গবেষণা বলছে, গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে রেপামাইসিন ওষুধটি আসলে জৈবিক বার্ধক্যকে ত্বরান্বিত করেছে। যৌবন রক্ষার পরিবর্তে, দ্রুত বয়স বাড়িয়ে দিতে পারে এই ওষুধ - অন্তত জনসনের ক্ষেত্রে তো বটেই।

যে বার্ধক্যকে এড়াতে তিনি কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন, সেই বার্ধক্যের মুখোমুখি হয়ে, ব্রায়ান জনসন অবশেষে সত্যকে সহজে নেওয়ার পথেই এগোচ্ছেন। জানিয়েছেন, ওই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। তার মানেই যে তিনি সম্পূর্ণ পরীক্ষা থেকে সরে এসেছেন এমন নয়। তিনি বলছেন, সাফল্য এবং ব্যর্থতা দুই বিষয়ে কথা বলাই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রায়ান জনসন নিজে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অমর হওয়ার বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করাচ্ছিলেন নিজেরই উপর, জেনেশুনেই তিনি এই পথে হেঁটেছেন, প্রচণ্ড রকমের ঝুঁকি নিয়েছেন, অসম্ভবকে বাস্তব করে দিতে চেয়েছেন। তবে একটি বিষয় স্বীকার্য, বার্ধক্যের বিরুদ্ধে দৌড়তে গিয়ে সবচেয়ে পরীক্ষিত পদক্ষেপও ব্যুমেরাং হয়ে যেতে পারে। বায়োহ্যাকিং আদতে সম্ভব কিনা তা এখনও প্রশ্নই রয়ে গেল। ব্রায়ান জনসন সেই বিষয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার এক বিশাল দরজা খুলে দিয়েছেন। তবু, অমরত্বের শর্টকাট হয় কিনা, এই নিয়ে কতদূর অবধি মানুষের কাটাছেঁড়া করা উচিত তা প্রাকৃতিক নিয়মের সঙ্গে মানুষের এক লড়াইয়েরও সূচনা করে দিয়ে গেল নিঃসন্দেহে।

কিছুকাল আগে ব্রায়ান জনসন ভারত সফরে এসেছিলেন। পডকাস্টার নিখিল কামাথের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের কথা ছিল তাঁর। তবে বায়ুর গুণমান অত্যন্ত খারাপ হওয়ার কারণে পডকাস্ট রেকর্ডিং থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। ভারতীয়দের উদ্দেশে বলেছিলেন, "নিজেদের সংগঠিত করুন" বলেছিলেন বায়ুদূষণ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?