প্রতিপক্ষ গোটা বিজেপি নয়, অভিযোগেই প্রমাণ লড়াইটা আসলে অভিষেক বনাম শুভেন্দুর

তীব্র হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একদা তৃণমূলের সৈনিক, মমতা-শিষ্য শুভেন্দু অধিকারীর সম্মুখ সমর!

Ramen Das
৩ মিনিট
প্রতিপক্ষ গোটা বিজেপি নয়, অভিযোগেই প্রমাণ লড়াইটা আসলে অভিষেক বনাম শুভেন্দুর

বিজেপি ঠেকাতে এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নিচ্ছে তৃণমূল! রাজনৈতিকভাবে 'কঠিন স্তম্ভ'কে কাবু করলেই কেল্লা ফতে! দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে আর বাড়তে না দেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব! সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইঙ্গিত দিচ্ছে ঠিক এমনই। কারণ, তৃণমূল-বিজেপি অথবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-বিজেপি লড়াই ঠিক যতটা প্রকাশ্যে আসছে, তার অনেক বেশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি-র বিবাদ প্রকাশ্যে আসছে নিরন্তর। সিপিএম, কংগ্রেসের 'সেটিং তত্ত্বে'র আবহেই এই লড়াই উপস্থাপিত হচ্ছে বঙ্গবাসীর সামনে। যেখানে রাজনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে নীতির লড়াইয়ের আঙ্গিকেই ক্রমশ জায়গা করছে ব্যক্তিগত লড়াই। অর্থাৎ মমতার দল তৃণমূল আর বিজপি বা সিপিএম, কংগ্রেসের লড়াই নয়, বঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একদা তৃণমূলের সৈনিক, মমতা-শিষ্য শুভেন্দু অধিকারীর সম্মুখ সমর! যেখানে অস্ত্র হিসেবে সুর চড়াচ্ছে দুর্নীতি। গরু, কয়লা পাচারের আবহে চড়ছে পারদ।

গরু পাচার, কয়লা পাচার দুর্নীতিতে একাধিকবার তলব করা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ২ সেপ্টেম্বর সল্টলেকের নিজাম প্যালেস-এর ইডি দফতরে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে। প্রতিবারই ইডি-কে সহযোগিতার কথা বলে হাজিরা দিয়েছেন অভিষেক। কালো পোশাকে পরোক্ষে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শানিয়েছেন তিনি। যা তীব্রতর হয়েছে ২ তারিখ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজাম প্যালেস থেকে বেরিয়ে দাবি করেন, পলাতক অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রর সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূল নেতার দাবি, বিনয়ের সঙ্গে আট মাস আগে ফোনে কথা বলেছেন শুভেন্দু। শুধু কথাই নয়, কেস দেখে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ওই বিজেপি নেতার তরফে। অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, এই কথোপকথনের প্রমাণ তিনি আদালতে জমা দেবেন। তিনি মিথ্যা বললে, শুভেন্দু যেন মানহানি মামলা করেন। বিজেপি-কে হুঙ্কার দেন অভিষেক। এরপরেই অস্বস্তি বাড়ে বঙ্গ বিজেপি-র। একচেটিয়া তৃণমূল এবং দুর্নীতি বিরোধিতার ইস্যুতে নেমে আসে তাঁদের নেতা শুভেন্দুর নাম। বাড়ে বিতর্ক। যদিও অভিষেকের এই অভিযোগের পরেই পাল্টা সরব হন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ওই অডিও ক্লিপের সঙ্গে আমার নম্বরও দেখাতে হবে, নইলে সুদীপ্ত সেনের চিঠির মতো, এটাও সাজানো প্রমাণিত হবে। শুভেন্দুর সুরেই তৃণমূলকে আক্রমণ করতে শুরু করেন রাজ্যের বিজেপি নেতারা। পাল্টা অভিষেক-সুরেই আক্রমণ শানায় তৃণমূলও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপিই রক্ষাকবচ, শুভেন্দুর গায়ে আঁচ না লাগা প্রমাণ করছে সেকথাই?

মুকুলের আসা-যাওয়ার মাঝেই শুভেন্দুর পদ্মপাতায় বেড়ে ওঠা এবং দিল্লি-আবহ ফের সামনে আনছে বাঁচিয়ে দেওয়া এবং বেঁচে যাওয়ার তত্ত্বকে! তাহলে কি সত্যিই..!

যদিও এই আবহেই উত্তরপাড়ার দোলতলায় নবান্ন অভিযান কর্মসূচির সমর্থনে মিছিল এবং মিছিল শেষের সভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শুভেন্দু। 'অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা নারুলার ব্যাংককের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যা ২০১৯ সালে বন্ধ করা হয়। সেই টাকা রুজিরার বোন মেনকা গম্ভীরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়।' এমনকি শুভেন্দুর দাবি, "ওই টাকায় আট ব্যাগ সোনা কেনেন রুজিরা। যা আনতে গিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে ধরা পড়েন তিনি। পরে জ্ঞানবন্ত সিংহের নেতৃত্বে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কয়েক'শো পুলিশকর্মী গিয়ে সেই ব্যাগ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।"

অভিষেক এবং তাঁর স্ত্রী রুজিরার বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন শুভেন্দু। একদা মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের তৃণমূল নেতা দাবি করেছেন, একের পর এক দুর্নীতির সঙ্গে অভিষেকের জড়িত থাকা নিয়ে। অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল। শুভেন্দুর মামলা, দাবি, অভিযোগ; বঙ্গ বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ে অক্সিজেন জুগিয়েছে। পাল্টা একটু হলেও অস্বস্তি বেড়েছে তৃণমূলে। ঠিক এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির সামগ্রিক রাজনৈতিক বিরোধিতায় প্রধান উপজীব্য হয়েছে শুভেন্দু-বয়ান। যেখানে অভিষেককে করা হয়েছে বারবার টার্গেট। যা বিজেপির অভ্যন্তরে নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব। দলীয় কোন্দল। এক অংশের শুভেন্দু-বিরোধিতা কমিয়ে সামনে এনেছে হাতে গরম ইস্যু। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপি-কে ঠেকানোর চেয়েও তৃণমূলের কাছে রাজনৈতিক টার্গেট হয়েছেন শুভেন্দু। পুরনো বন্ধু, বর্তমান শত্রুকে ঠেকানোর কৌশল খুঁজেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। সেই প্রেক্ষাপটে অভিষেকের প্রমাণ-সহ অভিযোগ এবং সরাসরি কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের দাবির সঙ্গে শুভেন্দুর নাম করে অভিযোগ, তৃণমূলের বিরোধিতার পালে খানিকটা হাওয়া লাগিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, অভিষেককে আক্রমণ মমতার ভাবমূর্তিতে খুব একটা সুখকর হয়নি, সেখানে বারবার শুভেন্দু নাম করে অভিযোগ করেছেন। যেখানে দাঁড়িয়ে সমগ্র বঙ্গ বিজেপি-র আপাত নিষ্ক্রিয়তায় শুভেন্দু এনে দিয়েছেন রাজনৈতিক ঢাক বাজানোর কাঠি। সেই পরিস্থিতিতে বারবার আক্রমণে বিদ্ধ হতে হতে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রমাণ-সহ যুক্তিগ্রাহ্য অভিযোগের দিকেই হাঁটতে চাইছিল তৃণমূল। যেখানে 'শুভেন্দু নিয়ে অখুশি বিজেপি'-র একাংশের হাতেও অস্ত্র তুলে দেওয়া যাবে। এর পাশাপশি দলের অন্দরে শুভেন্দুর একছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা খানিকটা খর্ব হবে! যা তৃণমূলের পক্ষে শুভেন্দু-ঠেকানোর মোক্ষম অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে। সেই রাজনৈতিক কৌশলই অভিষেককে পাল্টা সরব করিয়েছে। যেখানে দুর্নীতির কিন পিন বিনয় মিশ্রের সঙ্গে শুভেন্দুর যোগাযোগের তথ্য নড়িয়ে দিয়েছে বঙ্গের রাজনৈতিক বিরোধিতার ভিত। যা মিথ্যা বলেও সরাসরি দাবি করেননি শুভেন্দু! উপরন্তু বিনয় মিশ্রের ভাই জেলবন্দি বিকাশের সঙ্গে অভিষেকের কথা বলার দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। অর্থাৎ 'আমি একা ন‌ই, আছ তুমিও'- এইরকম একটা আবহ তৈরি হয়েছে বঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে। যা তৃণমূলের নারদাকাণ্ডে অভিযুক্ত শুভেন্দুকে কোণঠাসা করার সার্থক কৌশল হলেও, তা যে খুব একটা সুবিধার হবে না, তা-ও বলে রাখছেন রাজনৈতিক মহলের ওই অংশ।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।