সাত সতীনের ঝগড়া মেটাতেই শুরু হয়েছিল উৎসব, কোথায় পালিত হয় দুশো বছরের পুরনো এই দোল?

Sat Sateener Dol : আজ থেকে প্রায় দুশো বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হয়েছিল এই দোল উৎসবের রেওয়াজ। আজও সেই ঐতিহ্য নেই এখানে পালিত হয় দোল।

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
সাত সতীনের ঝগড়া মেটাতেই শুরু হয়েছিল উৎসব, কোথায় পালিত হয় দুশো বছরের পুরনো এই দোল?

ন্যাড়া পোড়ার আগুনের আঁচে রাত পুহিয়েছে। অতঃপর দোল উৎসব। রঙে রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার উৎসব। গতকাল গোটা বাংলা জুড়ে দলের রঙে মাতোয়ারা হয়েছে সকলে, সেই রেশ এখনও কাটেনি। আজ হোলি। বাঙালি ব্যতিরেকে হিন্দিভাষীদের আজ রং খেলার পরব। কালকের মতো আজও সকাল থেকেই শহরের ছবিটা খুব অন্যরকম। ট্রেনে বাসে অফিস টাইমে বাদুড় ঝোলা ভিড় নেই। সরকারি ছুটির মেজাজে দিব্যি কাটছে দিনটা। বসন্তের এইটুকু উদযাপন ঘিরেই চলে বিরাট প্রস্তুতি পর্ব। দোকানে দোকানে বিভিন্ন রঙের আবিরের পসরা বসে। তার সঙ্গেই থাকে পিচকারি, বালতি, মুখোশ অথবা কুখ্যাত বাঁদুরে রং। যদিও আধুনিক জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে এইসব উৎসবেও খানিক ছেদ পড়েছে। এই প্রজন্মের বাচ্চাদের হাতে সময়ের এতো অভাব যে রং খেলার জন্য সময় জোগাড় করতেও রীতিমতো হিমসিম খায়। কিন্তু দোল উৎসব ঘুরে আজই সারা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানা ইতিহাস, নানান সব ঐতিহ্য।

নবদ্বীপ, মায়াপুর, শান্তিপুর তথা গোটা নদিয়া জেলার দোল নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। কৃষ্ণ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রসঙ্গ ধরে এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ভক্তরা। জাত ধর্মের বিভেদ ঘুচে যায় নিমেষেই কিন্তু নদীয়া বাদেও এই বাংলার এমন অনেক জায়গা রয়েছে যেখানকার দল উৎসব ঘিরে রয়েছে অসাধারণ কিছু ঐতিহ্য। হুগলি জেলাতেও রয়েছে এমন কিছু কৃষ্ণ ধাম, যেখানে মহা সমারোহে পালিত হয় দোল উৎসব। তবে আজ যে দোলের কথা আলোচনা করা হবে তা হল জয়নগরের বিখ্যাত ‘সাত সতীনের দোল’।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঠাকুরবাড়ির সিদ্ধি, অলিগলির বাঁদুরে রঙ! কেমন ছিল পুরনো কলকাতার দোল?

Old Kolkata Dol Utsab: যাকে আমরা আজ বলি বাদুরে রং; সোনালি, রুপোলি বর্ণে ছোট ছোট শিশিতে বিক্রি হওয়া সেই গাঢ় বাঁদুরে রঙের আর এক নাম ম্যাজেন্ডার।

নামটা শুনতে একটু অন্যরকম লাগছে ঠিকই, তবে এই নামের পিছনেও রয়েছে রহস্য। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর, শীতকালের অতি প্রিয় মোয়ার নামেই বিখ্যাত এই জায়গা। তবে এই জায়গায় রয়েছে এক বিখ্যাত দোল পূর্ণিমা উদযাপনের রীতি। আজ থেকে প্রায় দুশো বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হয়েছিল এই দোল উৎসবের রেওয়াজ। আজও সেই ঐতিহ্য নেই এখানে পালিত হয় দোল।

সময়টা ১৮২০ সাল। জয়নগরে তখন বিখ্যাত সাত জমিদারি পরিবারের বাস। ব্যবসা, জমি জমা ইত্যাদি সংক্রান্ত বিষয়ে খুঁটিনাটি অশান্তি লেগেই থাকতো এদের মধ্যে। এরকম সময় এই সাত পরিবারের জমিদারেরা ঠিক করেন মিলন উৎসব করার কথন সমস্ত বিবাদ ভুলে দোল উপলক্ষ্যে তারা মিলনের রঙে মেতে ওঠেন। এর আগে অবশ্য এই সাত জমিদারির মধ্যে যা কিছু নিয়েই চলত অশান্তি। ক্ষমতার লড়াই, দেখনদারির লড়াই। ব্রিটিশ আমলে এই জমিদারদের মধ্যে ঝগড়া গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। যদিও বিচারক নির্দেশ দেন, ঝগড়া নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নিতে হবে। সেখান থেকেই শুরু এই মিলনের দোল উৎসবের। ঠিক যেমন সতীনে-সতীনে ঝগড়া লেগে থাকে, তেমনই এই জমিদারদের মধ্যেও ঝগড়া লেগে থাকত বিক্রি সেই থেকে এই দোল উৎসবের নামকরণ করা হয় ‘সাত সতীনের দোল’ নামে। এই সাতটি দোল-মঞ্চ ছিল মোদক পরিবার , আচার্য পরিবার, মুহুরী পরিবার, বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার, চক্রবর্তী পরিবার, চৌধুরী পরিবার, ও বোস পরিবার-এর। যদিও বর্তমানে সেই সাত পরিবার থেকে কোন পাঁচ পরিবারে এসে ঠেকেছে এই উৎসবের রেওয়াজ। প্রতিবছর দোলের আগের রাতে চাঁচর উৎসবের মাধ্যমেই শুরু হয় দোল।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

দেশভাগের ক্ষত বুকে নিয়েই গড়ে উঠেছিল ঢাকা কালীবাড়ি, দক্ষিণ কলকাতার মন্দিরের ইতিহাস

Dhaka Kalibari: দেশভাগের পর বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে নিজের শিকড়ের স্মৃতি ধরে রাখতে মন্দির গড়ে তুলেছিলেন ননীগোপাল চক্রবর্তী। দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের এই মন্দিরই আজ পরিচিত ঢাকা কালীবাড়ি নামে। মাটির প্রতিমা থেকে কষ্টিপাথরের বিগ্রহ, কালীপুজোর বিশেষ ভোগ—মন্দিরটির ইতিহাসে মিশে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেশভাগের স্মৃতি। কী ভাবে?

বইয়ের জন্য হাঁটতে হয় কেন?

Walk for Books 2026: প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে বইমেলাকে মনে করে বইয়ের জন্য একবার হেঁটেছিল বাঙালি। তারপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে আবার এই ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এ দেখা গেল সেই ছবি। হুড়দুড় করে ছেলেবুড়োমেয়েমদ্দ সব রাস্তায় নেমে এল—এ কী আজব খেলা রে ভাই!

ঋত্বিক: ফিরে দেখা

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও আমেরিকার অভিবাসন: আমেরিকার ইতিহাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা কোথায়?

Statue of Liberty: স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন।

এশিয়ার সেরা মিউজিয়ামের স্বীকৃতি পাটনার, কীভাবে বিশ্বসেরাদের টেক্কা দিল বিহার মিউজিয়াম?

Patna Outranks paris: বিশ্বের সেরা ১০০টি মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে কীভাবে ল্যুভর ও মেটের মতো বিখ্যাত জাদুঘরকে পিছনে ফেলে এশিয়ার সেরা মিউজিয়াম হয়ে উঠল পাটনার বিহার মিউজিয়াম?

দেশভাগের ইতিহাসকে নারীর চোখে দেখা: অংশুমান করের ‘হিরণবালা’

Hiranbala Novel Review: বাংলা উদ্বাস্তু-আখ্যানের বড় অংশে দেশভাগের অভিজ্ঞতা এসেছে পুরুষের জীবন, তার মনস্তত্ত্ব ও তার গতিবিধির ভিতর দিয়ে। ‘হিরণবালা’ প্রথমেই এই কাঠামো ভেঙে দেয়। উদ্বাস্তু পরিবারের গল্পে একজন নারীকে নিষ্ক্রিয় বা পরোক্ষ ভূমিকায় না দেখিয়ে, উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতাটিকে প্রত্যক্ষভাবে বুনে দেয় নারীটির জীবন। দেশভাগকে প্রায় অদৃশ্য করে হিরণকে উদ্বাস্তু করা শুরু হয় ১৯৪৬ সালে, বিয়ের মধ্য দিয়ে।