কলম্বাস নাম দিয়েছিলেন 'মৃত্যুর আপেল'! এই গাছ ছুঁলেই যেতে পারে প্রাণ!

Mysterious Tree of Death: গাছের প্রায় প্রতিটি অংশে এই বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে, এর ছাল থেকে শুরু করে তার রস পর্যন্ত সবটাই বিষাক্ত।

inscript
২ মিনিট
কলম্বাস নাম দিয়েছিলেন 'মৃত্যুর আপেল'! এই গাছ ছুঁলেই যেতে পারে প্রাণ!

প্রতি অঙ্গে বিষ! স্পর্শ করলেই পরিণতি হতে পারে মর্মান্তিক। পর্যটক ঠাসা সৈকতেই দেখা মেলে এর, অথচ তা যে মানুষের জন্য এমন ভয়াবহ- কল্পনা করাও যায় না। কথা হচ্ছে একটি বিশেষ গাছকে নিয়ে। ম্যানচিনেল গাছটিকে (হিপোমেন ম্যানসিনেলা) এর বিষের জন্য নরকের গাছ বলেও ডাকা হয়। ক্যারিবিয়ান, বাহামা, মেক্সিকো উপসাগর, উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ এবং ফ্লোরিডার কিছু অংশে পাওয়া যায় এই গাছ। আমেরিকায় ঔপনিবেশিক আক্রমণের সময় যখন স্প্যানিশরা প্রথম গাছটি খুঁজে পায়, তখন তারা এটির নাম দেয় 'আরবোল দে লা মুয়ের্তে’, যার অনুবাদ করলে দাঁড়ায় 'মৃত্যুর গাছ'। এই গাছ এতটাই বিষাক্ত যে এর গুঁড়ির ছাল স্পর্শ করলেও রাসায়নিক ঘা দেখা দিতে পারে। যদিও এই গাছটি এতখানি কুখ্যাত বা এতখানি বিষাক্ত, এর ফলের জন্য

মিষ্টি গন্ধ রয়েছে ফলে। দেখতেও বেশ সুন্দর। কিন্তু খেলেই বিপদ। এই ম্যানচিনেল ফল খাওয়ার ফলে মারাত্মক বমি, ডায়রিয়া এবং খিঁচুনিও দেখা দিতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিষাক্ততম সাপের কামড়ে মৃত্যু, ২০ বছরের এই তরুণ না থাকলে তৈরিই হতো না প্রতিষেধক

Snake Antivenom: রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় জিভ নাড়াতে বা গিলতে পারছেন না কেভিন।

পেশায় রেডিওলজিস্ট নিকোলা স্ট্রিকল্যান্ড টোবাগোতে গিয়েছিলেন ছুটি কাটাতে। সেখানে এই মৃত্যুর গাছের 'মৃত্যু আপেল'-এর কাছাকাছি আসেন তিনি। কাছাকাছি বলা ভুল, খেয়েই ফেলেন! ফলটিকে এক জাতীয় আপেল ভেবে ভুল করে তিনি এবং তাঁর বন্ধু ছোট্ট কামড় বসান এই ফলে। কিছুক্ষণ পরে সারা মুখ জ্বলে যেতে থাকে, যেন কেউ লঙ্কাবাটা ঢেলে দিয়েছে মুখের ভেতর এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে তাদের শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট পৌঁছয় চরমে। পাশাপাশি শুরু হয় ঘাড়ে তীব্র ব্যথা, বিষ ততক্ষণে তাদের লিম্ফ নোডগুলিতে প্রবেশ করতে শুরু করে দিয়েছে। তবে সে যাত্রায় স্ট্রিকল্যান্ড এবং তাঁর বন্ধু প্রাণে বেঁচে যান। মনে করা হয়, খুব সামান্য খেয়েছিলেন বলেই প্রাণ বেঁচেছে, নাহলে এই বিষ প্রাণ কাড়তে সময় নেয় না।

এই গাছে বিভিন্ন বিষ রয়েছে। মনে করা হয় যে, বেশিরভাগ বিষের উৎস জৈব যৌগ ফোরবোল। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, গাছের প্রায় প্রতিটি অংশে এই বিষাক্ত পদার্থ রয়েছে, এর ছাল থেকে শুরু করে তার রস পর্যন্ত সবটাই বিষাক্ত।

বলা হয়, ক্যারিবীয় উপজাতিরা নাকি এই গাছের রসকে 'আউ ন্যাচারাল' বা নির্যাতনের প্রাকৃতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত। উপজাতিরা বন্দিদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার পরে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করত যাতে বৃষ্টির জলে গাছের রস মিশে বন্দিদের শরীর ভিজিয়ে দিত। রসটি এতটাই বিষাক্ত যে ত্বকের সংস্পর্শে এলেই ফোস্কা পড়ত, জ্বলতে শুরু করত। তাহলে এমন গাছ কেটে ফেলাই তো ভালো। কেটে ফেলে রাখা যাবে না অবশ্য, পুড়িয়ে দিলেই হয়! প্রকৃতি তাঁর এই বিশেষ সম্পদকে এমনভাবে সাজিয়েছে যে এই গাছ কাটার বা পোড়ানোর ফলও হবে মারাত্মক।

কাঠে আগুন লাগার ফলে যে ধোঁয়া উঠবে তাতে চোখে ব্যাপক জ্বালা হবে। অস্থায়ী অন্ধত্বের কারণ হবে এই গাছ! তবে এই গাছ যতই ভয়ঙ্কর হোক না কেন, ইগুয়ানা নামের গিরগিটিদের কিন্তু প্রায়ই এর ডালের মধ্যে বাসা বেঁধে থাকতে দেখা যায় এবং এর ফল খেতেও দেখা যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় চালের দাম প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

Rice Price Increase: এল নিনোর প্রভাবে এশিয়ায় চালের দাম কেন দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো? ভারত ও থাইল্যান্ডে উৎপাদন কমায় কি বিশ্বব্যাপী সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে? ফিলিপাইনে চালের দাম ২১ শতাংশ বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়ছে? খাদ্য মূল্যস্ফীতি কি আরও বাড়বে? ২০২৭ সাল পর্যন্ত দাম কি এভাবেই চড়া থাকবে?

কীভাবে বিশ্ব উষ্ণায়নের দাম দিচ্ছে ভারতের নবজাতকরা?

Heatwave effect on Newborn babies: জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের এপ্রিলের তাপপ্রবাহে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভারতে ৮,৮৩০টি শিশুর নির্ধারিত সময়ের আগে অকাল জন্ম হয়েছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডে এই সংখ্যা সর্বাধিক। গবেষকদের আশঙ্কা, কিছু বছরের মধ্যে ভারতে এই পরিস্থিতি, আরও বাড়বে।

সাত দিনের ব্যবধানে দুটো ঘূর্ণিঝড়: জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা কি এটাই?

Climate change impact on cyclone: ২৮ অক্টোবরে অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, ঠিক সাত দিন পর ৩ নভেম্বরে ল্যান্ডফল করে ‘মুরাসু’। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এই পিঠোপিঠি ঝড়ের ঘটনাকে বলা হয় ‘ক্লাইমেটোলজিক্যাল অ্যানোমালি'। বঙ্গোপসাগরের এই ‘ওভার-এনার্জাইজড’ অবস্থাই, এখন জলবায়ু পরিবর্তনের নতুন বাস্তবতা।

কোথায় আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু, কতটা ক্ষয়ক্ষতি, বাংলায় কী প্রভাব?

Cyclone Murasu: ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। নেল্লোর, প্রকাশম ও বাপটলা জেলায় গাছ উপড়ে পড়েছে, নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। তামিলনাড়ু ও ওড়িশাতেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি হয়েছে। বাংলায় কতটা প্রভাব ফেলবে মুরাসু?

ভুটানে হড়পা বানের জেরে উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক, কী পরিস্তিতি এখন?

Bhutan Flash Flood: ভুটানের শিনতাফু হ্রদ ভেঙে হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাস্তা ও পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো। বন্যার আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। শুক্রবার সকালে সংকোশ নদীর জলস্তর না বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফেরে। পরিস্থিতি এখন কেমন?

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।