'গ্রেফতারির তালিকা তৈরি'! NIA-কে ট্যাগ করে বিজেপির বিরুদ্ধে যে বিস্ফোরক দাবি কুণালের

Kunal Ghosh: মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটিয়ে থাকেন রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। লোকসভা ভোটের ঠিক আগে আগে ফের তেমনই ভূমিকায় দেখা গেল কুণাল ঘোষকে। এবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এনআইএ-কে ট্যাগ করে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি।

Sohini Das
৪ মিনিট
'গ্রেফতারির তালিকা তৈরি'! NIA-কে ট্যাগ করে বিজেপির বিরুদ্ধে যে বিস্ফোরক দাবি কুণালের

সম্প্রতি ক্ষোভ দেখিয়ে দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। লোকসভা ভোটের আগে তাঁর এমন ব্যবহারে অবাক হয়েছিল রাজনৈতিক মহলের বড় অংশ। তবে পদ ছাড়লেও দল ছাড়েননি কুণাল। মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বোমা ফাটিয়ে থাকেন রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। লোকসভা ভোটের ঠিক আগে আগে ফের তেমনই ভূমিকায় দেখা গেল কুণাল ঘোষকে। এবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এনআইএ-কে ট্যাগ করে বিস্ফোরক দাবি করলেন তিনি।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, লোকসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই অবিজেপি রাজ্যগুলিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির ধরপাকড় বাড়ছে। ইতিমধ্যেই আবগারি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। ইতিমধ্যেই ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এর পরে ইডি-সিবিআইয়ের তালিকায় বেশ কয়েকটি অবিজেপি রাজ্যের নেতানেত্রীরা রয়েছেন বলেই আশঙ্কা করছেন অনেকে।

এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই ফের বিস্ফোরক অভিযোগ জানিয়ে বসলেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, নিউটাউনে এসপি ডি আর সিংহের বাড়িতে নাকি বৈঠক করছেন দুই বিজেপি নেতা। আর সেই বৈঠকে নাকি গ্রেফতার করার জন্য তৃণমূল নেতাদের নামের তালিকা ঠিক করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের নামের তালিকাও নাকি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। কুণালের আরও অভিযোগ, 'ইতিমধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে নোটিস জারি হয়েছে, কালও আরও নোটিস যাবে। নিজাম প্যালেসেও আধিকারিকদের সঙ্গে একই বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছেন বিজেপির এক নেতা। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-কে টুইটারে ট্যাগ করে এই তথ্য সত্য না মিথ্যে যাচাইয়ের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কুণালের প্রশ্ন, বিজেপির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী কি তৃণমূলের কর্মীদের গ্রেফতার করতে চলেছে এনআইএ।

আজ থেকে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল বারবার অভিযোগ করে আসছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সিকে বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করছে। আর এবার আধিকারিকের নাম ধরেই অভিযোগ তৃণমূলের। সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠক করেও কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, "NIA-এর একজন এসপি, তিনি আইপিএস নন, দায়িত্বে এসপি। তাঁর বাড়িতে বিজেপির ২ নেতা বৈঠক করেছেন। সুখবৃষ্টি আবাসনের কাছাকাছি বাড়ি ওই আধিকারিকের। পরপর ২টি বৈঠক হয়। কেন ভোটের আগে এনআইএ-এর অফিসার বিজেপি নেতার সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করবেন। সেখানে যে দুইজন গিয়েছিলেন দুইজনেই প্রার্থী। আর এক নেতা নিজাম প্যালেসে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যিনি নিজাম প্যালেসে দেখা করেছেন তিনি প্রার্থী নন।' তাঁর আরও অভিযোগ, 'আগামীকাল এনআইএ অভিযান হবে পূর্ব মেদিনীপুর এবং আরও কয়েকটি জায়গায়। পর্যায়ক্রমে কয়েকটি জায়গা থেকে তৃণমূলের কর্মী ও সংগঠনের কয়েকজনকে সরাতে চাইছে। ওই তৃণমূল কর্মীদের তুলে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এনআইএ।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কখনও পোশাক তো কখনও মুখ্যমন্ত্রীর পিতৃপরিচয়, ঘরেবাইরে যে ভাবে কোণঠাসা হলেন দিলীপ ঘোষ

Dilip Ghosh: সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুকথা বলার পর ফের উস্কে উঠেছে দিলীপ ঘোষকে নিয়ে বিতর্ক। সে নিয়ে দলের সমর্থন তো মেলেইনি, বরং বিজেপির এই সিনিয়র নেতাকে শোকজও করেছে দল।

কিন্তু কুণাল এসব কথা জানলেন কী করে? সে কথাও অবশ্য জানাতে ভোলেননি তৃণমূলের মুখপাত্র। তাঁর দাবি, "এনআইএ-এর একটি অংশ এই রাজনৈতিক লেঠেলের ভূমিকায় অংশ নিতে চান না। তাঁরাই এই খবর দিয়েছেন।" তবে এই খবর কতটা সত্য, তা জানা যায়নি।

Attn NIA officers

1) Whether it is a fact that 2 BJP leaders had two meetings with SP D R Sing at his new town resident, handed over list of

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটের আগে বিপাক বাড়ল তৃণমূলের? কেন দলীয় পদ ছাড়লেন কুণাল?

Kunal Ghosh: এক্স হ্যান্ডেল থেকে দলীয় পরিচয় সরিয়েই খান্ত হলেন না। দলের দু-দু'টি পদ থেকে ইস্তফাও দিলেন কুণাল ঘোষ।

leaders and workers for immediate summon and arrest, or not. Some notices have already been issued. Tomorrow some more will…

— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain)

বিজেপি নেতা সজল ঘোষের অবশ্য পাল্টা দাবি, 'আমরা তথ্য দিলেই কি গ্রেফতার হচ্ছে নাকি। আগে তো তদন্ত হবে, সেই তথ্য ঠিক কিনা। তাছাড়া, নির্বাচনের আগে কি কেউ এনআইএ কাউকে গ্রেফতার করতে পারে? উনি আসলে জ্যোতিষী হয়ে গিয়েছেন। কদিন আগে বলেছিলেন কে কত ভোট পাবে। আর এখন বলছেন কবে এনআইএ অভিযান হবে।' সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, কুণালবাবু যে অভিযোগ করেছেন। তার মানে উনি ব্যক্তিগত ভাবে জানেন যে লিস্ট আছে এনআইএ-এর। কারণ ওঁদের দলের সঙ্গে বিজেপির একটি অংশের ভাল যোগাযোগ রয়েছে। তাই জেনেবুঝেই কুণালবাবু এই অভিযোগ করেছেন। তাহলে কুণালবাবুকেই জিজ্ঞাসাবাদ করে এর তদন্ত হওয়া উচিত। এটা তো মারাত্মক অভিযোগ।"

সত্যিই কি ইডি-সিবিআইয়ের পরে এবার তৃণমূল নেতানেত্রীদের উপর নামতে চলেছে এনআইএ আক্রমণ? কুণালের বক্তব্যে উস্কে উঠেছে আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রকম দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের একাধিক নেতানেত্রীই জেলে। এবার কি সেই তালিকায় নাম জুড়তে চলেছে আরও কোনও নেতার। শুধু এনআইএ-র তালিকা প্রসঙ্গে নয়, এদিন দিলীপ-কাণ্ডেও ফের আলটপকা মন্তব্য করেছেন কুণাল। বেশ কিছুদিন ধরেই দিলীপের কুমন্তব্য নিয়ে রাজ্যরাজনীতি তোলপাড়। মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে সম্প্রতি কুকথা বলে বসেন দিলীপ। আক্রমণ করেন তাঁর পিতৃপরিচয় নিয়ে। সেই ব্যাপারে তাঁকে সমর্থন করেনি দল। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে শো-কজ করেছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে তার কাছ থেকে জবাব চায় নির্বাচন কমিশনও। প্রকাশ্যে এ নিয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন দিলীপ ঘোষ। সেই সঙ্গে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মমতার আক্রমণেরও সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

সেই প্রসঙ্গে এ দিন দিলীপবাবুকে বিঁধতে গিয়ে ফের কুকথা বলে বসেছেন কুণাল। শুভেন্দু অধিকারীকে বাবা তুলে আক্রমণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আবার ওর বাবা তুলব, যা করার আছে করুন।” সে নিয়ে ফের তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনীতিতে। বেশ কিছুদিন ধরেই একাধিক বার বিতর্কে জড়িয়েছেন কুণাল। কখনও দলের বিরুদ্ধেই আকারে ইঙ্গিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন। কখনও আবার বিজেপির বিরুদ্ধে এনআইএ-র সঙ্গে চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন। দিলীপকে দুষতে গিয়ে নিজেই কুকথা বলে বসেছেন। সব মিলিয়ে ভোটের আগে জমি মাতিয়ে রেখেছেন কুণাল। তবে কুণালের এই সব বক্তব্যের প্রভাব কতটা পড়তে চলেছে ব্যালটবক্সে? কুণালের এই সব কথাবার্তা আদতে বিপদে ফেলবে না তো তৃণমূলকেই? উঠছে সেই প্রশ্নও।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।

এসআইআর: মূল টার্গেট ছিল বাংলা?

SIR West Bengal controversy: এসআইআরের নামে বাংলার নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কতটা সুপরিকল্পিত? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, বিচারকদের পর্যবেক্ষণ, ডিজিটাল কারচুপি ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সরকারের অভিযোগের বাস্তব ভিত্তি কতটা?

Garment Workers' Protest in Bangladesh: বাংলাদেশে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, আন্দোলনের পিছনে আওয়ামী লীগের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের। কিন্তু শ্রমিকদের অসন্তোষের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি মূল্যবৃদ্ধি ও প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ার ক্ষোভ? সরকারের দাবির পক্ষে কতটা প্রমাণ রয়েছে?

সকালে জমা বিকেলে খরচ: আইনের শাসনের অবমাননা

Gaighata incident: গাইঘাটার ঘটনার পরমুহূর্তে শাসক দলের মন্ত্রী, নেতাদের প্রতিক্রিয়া পরিষ্কার করে দেয়, বন্দি অভিযুক্তকে হত্যার ঘটনা সরকারি নীতির ('সকালে জমা, বিকালে খরচ')—নগ্ন প্রয়োগ।

৫০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত, মোদীর দাবির আড়ালে কোন পরিসংখ্যানগত বিতর্ক?

World Bank's claim about India's poverty decline: বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১-১২ থেকে ২০২২-২৩-এ ভারতের চরম দারিদ্র্য ২৭.১% থেকে ২.৬%-এ নেমেছে বলে দাবি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক প্রচারের কাজেও লাগাচ্ছেন। কিন্তু, পরিসংখ্যানের আড়ালে আসল সত্য কি? কি বলছেন অর্থনীতিবিদরা?