শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতিই নীতি! এক দশকে ধ্বংস হল সরকারি চাকরির স্বপ্ন

এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার, সন্দেহ নেই, তৃণমূলের শিক্ষা দুর্নীতির নগ্ন এবং ভয়ংকর রূপটিকেই তুলে ধরছে। সেই করাল রূপের আলোকে খতিয়ে দেখা যাক এই দুর্নীতির গোড়ার কথা।

Sindhu Som
৪ মিনিট
শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতিই নীতি! এক দশকে ধ্বংস হল সরকারি চাকরির স্বপ্ন

তৃণমূল এবং দুর্নীতি প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছে গত দশ বছরে। নানা খাতে দুর্নীতির ধাক্কায় ব্যতিব্যস্ত সাধারণ মানুষের এখন প্রায় খাবি খাওয়া অবস্থা। না আছে হাতে চাকরি, না আছে যোগ্যতামাফিক দিন গুজরানের সুযোগ। কেন্দ্র সামরিক ব্যবস্থাকেও চুক্তির কাঠগড়ায় তুলছে, ভেঙে দিচ্ছে পেনশনের আশ্রয়, রাজ্যের অবস্থা আরও সঙ্গিন। শিক্ষাক্ষেত্রে চাকরি প্রায় নেই বললেই চলে। তার উপরে গেঁথে বসেছে দুর্নীতির শিকড়বাকড়। এসএসসি পরীক্ষা হয়, মানুষ চাতকের মতো ফলাফলের দিন গোনে, দুর্নীতির অভিযোগে সেইসব বহু সাধনার চাকরি মামলায় ঝুলে থেকে যায়। প্রথম প্রথম লোকে দুঃখ পেত, তারপর ব্যাপারটা এত স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল, শিক্ষকতার ক্ষেত্রটিতেই পা রাখতে চাইত না একদা শিক্ষকতার স্বপ্ন দেখা বহু তরুণ। বছর বছর এসএসসি হওয়ার সম্ভাবনাও কমছিল ধীরে ধীরে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার জন্য চেষ্টা করছিলেন কেউ কেউ। কিন্তু সেখানেও যে বিরাট পরিমাণ চক্রব্যূহ তৈরি হয়েছিল, তা পেরিয়ে চাকরির নাগাল পাওয়া হয়ে উঠছিল দুঃসাধ্য। খবর মোটামুটি সবাই জানত একরকম। কোর্টের রায়ে তাই উঠে আসছে সামনে। তবে এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার, সন্দেহ নেই, তৃণমূলের শিক্ষা দুর্নীতির নগ্ন এবং ভয়ংকর রূপটিকেই তুলে ধরছে। সেই করাল রূপের আলোকে খতিয়ে দেখা যাক এই দুর্নীতির গোড়ার কথা।

বাম আমল থেকেই 'দাদা ধরে' কলেজে ভর্তি একরকম ইউনিয়ন রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরেও সেইসব একই রকম ছিল। পুরনো তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাদের সরিয়ে স্থানীয় এলাকাগুলোতে নানা পরিচিত মুখ ছাত্র সংগঠন সামলাতে শুরু করল। মোটামুটি তখনই বোঝা গিয়েছিল, ভর্তির ক্ষেত্রে তোলাবাজি, বিশিষ্ট দাদার সূত্রে ভর্তি হলে তার সংগঠনের সঙ্গে ওঠাবসা, প্রচার, সেই ইউনিয়নকেই ভোট দেওয়া এইসব অলিখিত নিয়ম মেনে চলতে হবে। স্থানীয় দাদার ভ্রমণের পরিকল্পনা ব্যহত হওয়ায় কলেজে নির্বাচন হতে দেওয়া হয়নি—এমন উদাহরণও রয়েছে। ছাত্রদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ তো রয়েইছে।

সেই সময় অনলাইন ভর্তির সুযোগসুবিধা এসে গিয়েছে। নানা বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত হলো, অনলাইন প্রক্রিয়ায় ছাত্র ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হবে সমস্ত কলেজে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল, মত বদলে গিয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। শিক্ষা দফতর জানাল ২০১৪-'১৫ শিক্ষাবর্ষে সব কলেজে অনলাইন ছাত্রভর্তি বাধ্যতামূলক নয়। শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত অনেক ব্যক্তিত্বই তখন জানিয়েছিলেন, মন্ত্রীর এহেন মত পরিবর্তনের নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।

এককথায় সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি শুরু হলে ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপর শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের দাদাদের প্রভাব কমবে, কলেজে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে। ব্যাপারটা খুব একটা ভালোভাবে নেয়নি তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। ফলে মত বদলাতে বাধ্য হন পার্থ। সেসময় যদিও পার্থ চট্টোপাধ্যায় সেকথা অস্বীকার করেন। কিন্তু ছাত্র ভর্তিতে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে অনলাইন ভর্তির কথা ঘোষণা করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সেদিকে কয়েক ধাপ এগিয়েও এতদূর পিছিয়ে আসাতে সরকারেরই মুখ পুড়ল বলে মন্তব্যও করেছিলেন অনেকে। আদতে সেই ছিল সমঝোতার শুরু। ২০১৪-'১৫ শিক্ষাবর্ষ অনলাইন ছাত্র ভর্তির ঘোষণা করেছিলেন সদ্য-বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু স্বয়ং। হঠাৎ করে এই উল্টোপথ অনেককেই সন্দিগ্ধ করেছিল। সমঝোতার জমিনে দুর্নীতির ছত্রাক এরপর বেড়েছে অবাধে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উত্থান ও পতন

টানা ২৭ ঘণ্টার ম্যারাথান জিজ্ঞাসাবাদ। শেষ পর্যন্ত শনিবার সকালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করল ইডি। জিজ্ঞাসাবাদে অসংগতি থাকায় প্রথমে আটক, তারপর গ্রেফতার।

বর্তমানে ইডি-উদ্ধৃত টাকার অঙ্ক নিয়ে ফের আতঙ্কিত সকলে। শোনা যাচ্ছে, শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ হারাতে পারেন ৫৪,০০০ কর্মী। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ৪৩,০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শুধু তাই নয়, কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-র পাশাপাশি নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিযুক্ত শিক্ষকদেরকেও তদন্তের অধীনে রাখছে সিবিআই। ক্ল‍্যারিকাল কাজে বহু মানুষ সরকারের বদান্যতায় জায়গা করে নিয়েছেন বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে। ২০২১ সালের ১৭ নভেম্বর স্কুল সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ ডি পদে ২৫ জনের চাকরি বাতিল করে বেতন বন্ধর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। এরপর গ্রুপ ডি পদেই একসঙ্গে চাকরি খুইয়ে বসে ৫৭৩ জন। এই বছরেই ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতা হাই কোর্ট সেই রায় দিয়েছিল। ২০১৯ সালে প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নাকি নিয়োগ হয়েছিল। বেতন বন্ধর পাশাপাশি বেতন ফেরতেরও রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট। বেনিয়মের অভিগে শয়ে শয়ে তরুণ-তরুণী চাকরি খুইয়েই চলেছে। ২৭৩ জন প্রাথমিক শিক্ষককে গত মাসে বরখাস্ত করা হয়েছে। এঁরা বেশিরভাগই চাকরি পেয়েছিলেন গ্রামীণ স্কুলগুলিতে। এর মধ্যে কে নেই? তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যর ছেলে যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে এক সিপিআইএম নেতার স্ত্রী, তৃণমূল যুবনেতার দুই ভাই— বিবিধের মাঝে দেখি মিলন মহান।

এখন প্রশ্ন, কেন হলো এই ধরনের অবস্থা? সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন চাকরি পাচ্ছেন না। যোগ্য মানুষ চাকরি পাচ্ছেন না। তবে চাকরি পাচ্ছেন কারা? যাদের ওপরমহলে যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু শুধু কি তারাই? বেনিয়মে চাকরি যাদের হয়েছে, তারা কি সবাই অযোগ্য? কখনওই তা নয়, কিন্তু তাদের চাকরি পাওয়ার পদ্ধতিটি ঘুষ দিয়ে। দুর্নীতির বৈশিষ্ট্য এই, যে সে যোগ্য মানুষকেও নীতির ফাঁকফোকর দেখতে বাধ্য করে। আসল বিষয়, সুযোগ করে দেওয়া। যে নীতি ক্ষমতাবানরা চালাবেন, সেভাবেই মানুষ চাকরি পেতে চাইবেন— এ তো স্বাভাবিক। দিনের পর দিন যে যোগ্য মানুষ দেখবেন কোনওরকম যোগ্যতা ছাড়াই পাশের মানুষটি ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়ে যাচ্ছে, তিনিও তখন বিপথে চালিত হবেন।

বস্তুত 'সরকারি চাকরি'-কে একটি দুর্মূল্য বস্তু করে তোলার পিছনে এই মানসিকতাও রয়েছে। একদিকে উদ্দেশ্য যেমন বেসরকারিকরণ, অপরদিকে সোনার মতো দুর্মূল্যতা আরোপ করে 'সরকারি চাকরি' নামক সোনার হরিণের পিছনে মানুষকে ঠেলে দিয়ে ব্যবসা করার ঝোঁকটি এখন কেন্দ্র থেকে রাজ্য- সর্ব স্তরেই দেখা যাচ্ছে। তাকেই কাজে লাগিয়েছে এই দুর্নীতি। এই ঝোঁক না থাকলে সাধারণ মানুষ দুর্নীতিতে শামিল হতেন কেন? এক-একটি সরকারি চাকরির পরীক্ষা থেকে সরকার যা আয় করে, ফর্ম ফিল আপ থেকে শুরু করে যাত্রীদের যাতায়াতের ভাড়া, হোটেল ভাড়া বা খাওয়াদাওয়ার ট্যাক্স, তাতে বহু পরীক্ষার্থীকে সারা বছর বেকার ভাতা দেওয়া যায়। কেন এত এত মানুষ দৈনন্দিন সরকারি চাকরির পিছনে ছোটেন? পাড়ার মোড়ে, বাড়িতে, আড্ডায় তো সকলেই আলোচনা করেন 'আর সরকারি চাকরি বলে কিছু থাকবে না!' তারপরেও চাহিদা কমে না। তৃণমূল তার সুযোগ নিয়ে মোটা দাগে আইনি পথের বাইরেও টাকা নিয়েছে, এবং তার ফল এখন ভুগতে হচ্ছে।

যারা সাধারণ মানুষের টাকা নিয়েছেন, তাদের বেনিয়মে চাকরি পাইয়ে দিতে প্রলুব্ধ করেছেন, তাদের কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু ততদূর জল কি গড়াবে? প্রতিবারের মতো কিছু বলির পাঁঠা খাড়া করে এড়িয়ে যাওয়া হবে না তো যে, আদতে নীতিটাই দুর্নীতি? 'সরকারি চাকরি'-কে কেন এভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্মূল্য করে তোলা হচ্ছে, সেই জবাব কি চাইবে কোনও আদালত? দেখা যাক।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।

আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।