আগামী বছর পালাতে হতে পারে কলকাতা ছেড়ে! গবেষকদের পরীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

Kolkata Air Pollution: গ্রীষ্মকালেও বিমানযাত্রার সময় যেন মনে হয় শহরটা কুয়াশার পাতলা চাদরে মোড়া। বলার অপেক্ষা রাখে না, তা এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ বেশি থাকার কারণেই ঘটছে।

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
আগামী বছর পালাতে হতে পারে কলকাতা ছেড়ে! গবেষকদের পরীক্ষায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপনি কি জানেন এই মুহূর্তে ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? গবেষকদের মতে সম্ভবত তা বায়ুদূষণ। শুনে অবাক হলেন তো? তাহলে আপনাদের আরও কিছু তথ্য দেওয়া যাক। ২০১৯ সালে ভারতে প্রায় ১.৭ মিলিয়ন (এক মিলিয়ন মানে দশ লক্ষ) মানুষ কেবল বায়ুদূষণের কারণে মারা গেছেন। যা ওই বছরে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৮ শতাংশ। এই ১.৭ মিলিয়নের মধ্যে এক মিলিয়ন মানুষ মারা গেছেন কেবল বাতাসে ভাসমান এরোসলের কারণে। গত তিরিশ বছরে কেবল এরোসলের কারণেই ভারতে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

দূষণের জন্য ইতিমধ্যেই ভারতের ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যে ক্ষতির সিংহভাগটা উত্তরপ্রদেশের হলেও, পেছনে সারি দিয়ে রয়েছে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য। চলতি বছর শেষ হতে আর হাতে গোনা দিন। তারই মধ্যে দু:সংবাদ দিলেন কলকাতার বোস ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। এলসিভিয়ারের ‘অ্যাটমোস্ফেরিক এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে সেই গবেষণাও। সেই গবেষণাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগামী বছর আসছে ভয়াবহ দিন। ২০২৩ সালে কলকাতা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে দূষণের মাত্রা বাড়বে ৮ শতাংশ।

দূষণের মাত্রা বোঝার জন্য মাপা হয়েছে এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ। এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ বলতে বোঝায় বাতাসের থাকা এরোসল অর্থাৎ ধোঁয়া, কার্বন কণা, দূষিত গ্যাস, ধুলোবালির পরিমাণ। নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের একদম উপরিভাগ অবধি একটি নির্দিষ্ট কলামের মধ্যে কী পরিমাণ এরোসল রয়েছে, তা দিয়ে নির্ধারণ করা হয় ওই অঞ্চলের এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ (AOD)। পুরোটাই করা হয় নির্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দূষণে নাভিশ্বাস, রাজধানী দিল্লি পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবে?

Air pollution in Delhi: ভারতের রাজধানীর ধোঁয়া চিত্র বদলাচ্ছে না। সাম্প্রতিক দূষণের পরিমাণ দেখে চমকে উঠছেন সাধারণ মানুষ।

৮ শতাংশ শুনতে কম মনে হলেও, সারা বাংলা জুড়ে সামগ্রিক ভাবে যদি এই হারে বৃদ্ধি পায় বায়ুদূষণের হার, তাহলে কিন্তু তার ফল মোটেই ভালো হবে না। অসুস্থতার হার বাড়বেই। বয়স্ক বা ইতিমধ্যে অসুস্থ যারা তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেনই, বাদ পড়বে না যুব ও শিশুরাও। এমনিতেই গাঙ্গেয় সমতলভূমিতে দূষণের প্রাদুর্ভাব চিন্তায় ফেলে। ২০১৯ থেকে ২০২২-এর মধ্যে এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ যে ক্রমশ বাড়ছে তা চোখে পড়ে বিমানযাত্রার সময়ে। ২০১৯ সালেও যেখানে বিমানযাত্রার সময় নীচে কলকাতা শহর বা বাংলার দিকে তাকালে বেশ স্পষ্ট দেখা যেত নীচের গাছপালা, বাড়িঘর, ২০২০ সালের পর থেকে তা আরও ঘোলাটে হয়েছে। গ্রীষ্মকালেও বিমানযাত্রার সময় যেন মনে হয় শহরটা কুয়াশার পাতলা চাদরে মোড়া। বলার অপেক্ষা রাখে না, তা এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ বেশি থাকার কারণেই ঘটছে।

কোন রাজ্য কতটা অসুরক্ষিত:

গাঙ্গেয় সমতলভূমিতে এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ ইতিমধ্যেই ০.৫ এর বেশি। যাকে ইতিমধ্যেই ‘হাইলি ভালনারেবল’ (রেড জো়ন) বা অত্যন্ত অসুরক্ষিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গের এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ ০.৭-এর কাছাকাছি পৌঁছবে। গবেষকদের হিসেব বলছে ২০২৩ সালে, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অত্যন্ত অসুরক্ষিত (হাইলি ভালনারেবল বা রেড জো়ন) রাজ্যগুলির মধ্যে থাকবে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র। বাদ যাচ্ছে না উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরাও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্লাস্টিক দূষণ কমাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আশ্চর্য আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের

ব্যাকটেরিয়া থেকে পাওয়া যাওয়া এই এনজ়াইমগুলোর সাহায্যে প্লাস্টিক নিধনের কাজ বাস্তবায়িত হয়নি বিভিন্ন কারণে।

অন্যদিকে যে সমস্ত রাজ্যে এরোসল অপটিক্যাল ডেপথ ০.৪ থেকে ০.৫-এর মধ্যে, সেই রাজ্যগুলিকে ‘ভালনারেবল’ (অরেঞ্জ জো়ন) বা অসুরক্ষিত অঞ্চলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই রাজ্যগুলির মধ্যে পড়ছে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু বাদে সমস্ত রাজ্য, পশ্চিম ভারতের গুজরাত, এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম ও মেঘালয়। সেখানে দাঁড়িয়ে উত্তরে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড, দক্ষিণের তামিলনাড়ু এবং দক্ষিণ-পশ্চিমের মণিপুর অপেক্ষাকৃত কম অসুরক্ষিত থাকবে ২০২৩ সালে।

দূষণের পারদ বাড়ার নেপথ্যে কারা?

প্রিন্সিপাল কম্পোনেন্ট অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে গবেষকরা জানতে পেরেছেন পশ্চিমবঙ্গ-সহ অত্যন্ত অসুরক্ষিত এবং অসুরক্ষিত রাজ্যগুলির এই পরিণতি হওয়ার নেপথ্যে হাত রয়েছে কয়লা-চালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ধোঁয়া, গাড়ির জ্বালানির যথেচ্ছ দহন এবং অবশ্যই বিভিন্ন জৈব পদার্থকে পোড়ানো। দ্য গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ়-মেজর এয়ার পলিউশন সোর্সের ২০১৮ সালের রিপোর্ট বলছে, বাড়িতে বিভিন্ন কাজে জৈবপদার্থ (যেমন- গোবর বা শুকনো ডালপালা) এবং বিভিন্ন কারণে আবর্জনা পোড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বায়ু দূষণের পেছনে। তার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল বা কারখানা থেকে বেরনো ধোঁয়া, শস্যজাত আবর্জনাকে পোড়ানো তো এরোসল বাড়ার কারণ হিসেবে রয়েছেই।

ইন্টারন্যাশানাল এনার্জি এজেন্সির রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতে অকালমৃত্যুর হার হু হু করে বাড়ছে দ্রুত নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে। তার দোসর হয়েছে তাপউৎপাদনকারী প্ল্যান্ট ও যানবাহনের ধোঁয়া। বায়ু দূষণ কমানোর জন্য ভারত সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম ‘ন্যাশানাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রাম" (NCAP)। NCAP-এর উদ্দেশ্য হল বাতাসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা বা পার্টিক্যুলেট ম্যাটারের পরিমাণ কমানো। এই পার্টিক্যুলেট ম্যাটারগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে PM2.5 ও PM10-কে ।

তবে মূলত ভারতবর্ষ দূষণ-কবলিত শহরগুলির দূষণ নিয়ন্ত্রণেই গুরুত্ব দেয়। শহরতলি বা গ্রামাঞ্চলের দূষণ নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর না দেওয়ায় দেশে সামগ্রিক ভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। আর তার ফলে এ দেশে সামগ্রিক ভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। ‘দ্য হেলথ এফেক্টস ইনস্টিটিউটের’ ২০১৮ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, শহরাঞ্চল এবং গ্রামাঞ্চল দুই জায়গাতেই বাতাসে পার্টিক্যুলেট ম্যাটারের পরিমাণ হু হু করে বাড়ছে। গাঙ্গেয় সমতুলভূমির গ্রামাঞ্চলের জনসংখ্যা এবং ঘরবাড়ি বাড়ায়, গ্রামের বাতাসেও এখন পার্টিকুলেট ম্যাটারের দাপট দেখা যাচ্ছে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।