১০ মিনিটের ঝড়ে তছনছ জলপাইগুড়ি! ভোটের মুখে বড় ইস্যু হবে মিনি-টর্নেডোও?
Jalpaiguri Storm: বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য লেখেন, উত্তরবঙ্গের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাবতীয় দরদ ভুয়ো।

মার্চ মাসের শেষ দিন জলপাইগুড়িকে এলোমেলো করে চলে গেল ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়! এমন ঝড় আর যাই হোক কালবৈশাখী নয়! যেন মেঘের কালো কুণ্ডলী, যে যে অঞ্চলের উপর দিয়ে গিয়েছে ঝড় ছিটকে গিয়েছে বাড়ির চাল, সাইকেল, ছোট গাড়ি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর বলছে, জলপাইগুড়ির এই ঝড় ‘মিনি টর্নেডো’ হতে পারে। জলপাইগুড়ি শহর, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই ঝড়ে। গাছ উপড়ে পড়ে ক্ষতি তো হয়েইছে, বহু বাড়ি ভেঙেছে। শুধু তাই নয়, এই ভয়াবহ ঝড় চার জনের প্রাণও কেড়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝড়ে ২০০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
রবিবার বিকেল তিনটে নাগাদ জলপাইগুড়িতে ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। ঘণ্টায় অন্তত ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকায়। শিলাবৃষ্টিও হয় কিছু জায়গায়। বিঘার পর বিঘা ভুট্টা, বেগুন, ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, লঙ্কা খেত তছনছ হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে জখম হন প্রচুর পথচারী। এই মিনি টর্নেডোয় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ময়নাগুড়ির রাজারহাট, বার্নিশ, বাকালি, জোরপাকড়ি, মাধবডাঙা, সাপ্টিবাড়ি গ্রাম। মার্চের এই সময় এই ধরনের ঝড় বিরল হলেও অস্বাভাবিক নয়। এর আগেও এ রাজ্যে এমন মিনি টর্নেডো হতে দেখা গিয়েছে।
প্রবল ঝড়ে তছনছ হয়ে যাওয়া জলপাইগুড়িতে রাতেই পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই সঙ্গে ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সবের মাঝেই শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক তরজা। ভোটের মুখে ঝড় নিয়ে মমতাকে তোপ দাগল বিজেপি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sanjeev Sanyal PM Modi's Economic Advisory: সঞ্জীব সান্যাল নেহরুর দর্শনের কট্টর সমালোচক। ১৯৯১ সালের উদারীকরণের বিষয়টিকে ভারতীয় রেনেসাঁ বলে মনে করেন তিনি।
ভোটের বাজারে এই ঝড় এবং তাতে মৃত্যু, স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে সেখানে। রাতেই জলপাইগুড়ি চলে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদি নিজে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন। জলপাইগুড়ির এই ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে যে দরদ দেখাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণও শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য লেখেন, উত্তরবঙ্গের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাবতীয় দরদ ভুয়ো।
Sad to know that sudden heavy rainfall and stormy winds brought disasters today afternoon in some Jalpaiguri-Mainaguri areas, with loss of human lives, injuries, house damages, uprooting of trees and electricity poles etc.
District and block administration, police, DMG and QRT…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
BJP Barasat Candidate Swapan Majumder: স্বপন মজুমদারকে অসমে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে অসম বিজেপি শাসিত রাজ্য।
নিজের X হ্যান্ডেলে মমতা লিখেছেন, “ঝড়বৃষ্টিতে জলপাইগুড়ি, ময়নাগুড়ির বীভৎস পরিস্থিতি। প্রাণ গিয়েছে বহু। জখমও হয়েছেন অনেকে। ভেঙেছে ঘরবাড়ি। উপড়ে গিয়েছে গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি। জেলা, ব্লক প্রশাসন, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, কুইক রেসপন্স টিম ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছয়। দুর্গতদের উদ্ধারের কাজ শুরু করে। বিপর্যস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে আহতদের পরিবারের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছি। প্রশাসনের তরফেও ত্রাণের বন্দোবস্ত করা হবে।”
এই ট্যুইটকে আক্রমণ করে অমিত মালব্য ছবিও পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, বিজেপির লোকসভা প্রার্থী জয়ন্ত রায় হাসপাতালে গিয়েছেন। আলিপুরদুয়ারের প্রার্থী মনোজ টিগ্গা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেছেন। মমতাও গিয়েছেন, তবে বিজেপি উত্তরবঙ্গের প্রতি তাঁর উদাসীনতা তুলে ধরার পরই এসব করেছেন। উত্তরবঙ্গে গেরুয়া দাপটই প্রবল। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে কোনও কসুর ছাড়বে না তৃণমূল।
বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, "আমরা জলপাইগুড়ি সদরে যাব। ভয়ঙ্কর ঝড়টা ক্ষণিকের জন্য এসেছিল। কোচবিহার-আলিপুরদুয়ারেও হয়েছে। কিন্তু জলপাইগুড়িতে ৫ জন মারা গিয়েছেন।" আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি জারি থাকার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রশাসন যা যা করার তাই করবে। শুধু মমতা নন, সোমবার জলপাইগুড়ি যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে আহতদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। জলপাইগুড়ির তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়ও হাসপাতালে গিয়ে খবর নিয়েছেন। সোমবার জলপাইগুড়ি যাবেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। দুর্গত এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন তিনি।















