কাঞ্চনজঙ্ঘার পর ফের একই জায়গায় দুর্ঘটনার কবলে মালগাড়ি! কেন এত ভয়াল রাঙাপানি?
Train Derailment: বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ দার্জিলিংয়ের ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানির কাছে লাইনচ্যুত হয় মালগাড়িটি। দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর এখনও মেলেনি।

ত্রাসের নাম ভারতীয় রেল। একই সঙ্গে সেই ত্রাসে নতুন ভয় যেন রাঙাপানি। গত জুন মাসে রাঙাপানিতেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। প্রায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল সেই দুর্ঘটনায়। ফের রাঙাপানিতেই দুর্ঘটনার কবলে ট্রেন। তবে এবার মালগাড়ি।
বুধবার ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানিতে মালগাড়ির দু'টি কামরা লাইনচ্যুত হয়। একদিন আগেই চক্রধরপুরের কাছে বড় বাম্বু গ্রামের কাছে দুর্ঘটনার কবলে মুম্বই-হাওড়া মেল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দুর্ঘটনা। গত কয়েক মাসে একের পর এক রেল দুর্ঘটনা বারবার যাত্রীসুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়েও।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Train Accidents in India: এদিকে দুর্ঘটনার কোনও শেষ নেই দেশ জুড়ে। একের পর এক রেল দুর্ঘটনা কার্যত সামনে এনে দিয়েছে সাধারণ রেলযাত্রীদের নিয়ে দেশের সরকারের চরম গাফিলতি ও অবহেলার কথাই।
বুধবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ দার্জিলিংয়ের ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানির কাছে লাইনচ্যুত হয় মালগাড়িটি। দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর এখনও মেলেনি। ইতিমধ্যেই রেলের তরফে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। দুর্ঘটনার জেরে স্বাভাবিক ভাবেই ব্যহত হয়েছে রেল পরিষেবা। মনে করা হচ্ছে, তার জন্য একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনই দেরিতে চলবে। একই সঙ্গে বাতিল হতে পারে বেশ কয়েকটি ট্রেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে তেলবোঝাই একটি মালগাড়ি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের অদূরে রাঙাপানি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। দুটি ওয়াগন রেললাইন থেকে নীচে নেমে যায়। বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। হতাহতেরও খবর নেই।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Kanchanjunga Express Accident: কবচ কাজ করলে তা দুই চালককেই সতর্ক করে দিতে পারত এবং ট্রেন থামিয়ে দিতে পারত।
দেড় মাস আগে ওই একই জায়গাতে মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে বেলাইন হয়ে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সেই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় রেল কর্তৃপক্ষ। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়েই রওনা দিয়েছিল দূরপাল্লার ট্রেনটি। ফাঁসিদেওয়ার রাঙাপানি স্টেশনের কাছে আচমকা ওই ট্রেনটিকে পিছন দিক থেকে একটি মালগাড়ি এসে ধাক্কা মারে। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের চারটি কামরা লাইনচ্যুত হয়। তার মধ্যে অন্তত দু’টি কামরা মালবাহী ট্রেনের। ওই ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে ছিলেন মালগাড়ির চালকও। আহত হন ৪১ জনের বেশি। সিগন্যালিংয়ের সমস্যা, কাগুজে সিগন্যাল দিয়ে ট্রেন চালানো থেকে শুরু করে ট্রেন চালকের গাফিলতির মতো একাধিক অভিযোগ তোলা হয়। ইতিমধ্যেই সেই রেলদুর্ঘটনার তদন্তরিপোর্টও সামনে এসেছে, যাতে প্রমাণ মিলেছে রেল কর্তৃপক্ষেপর একাধিক গাফিলতির।
মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ডে বেলাইন হয় হাওড়া-মুম্বই মেল। সেই ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর মেলে। একের পর এক দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে বুধবারের এই রেলদুর্ঘটনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। রেল সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে মালগাড়িটিকে সরিয়ে রেললাইন সারানোর কাজে হাত লাগানো হয়েছে। তবে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।
মোদি সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে সরকারের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। আগে রেলের জন্য আলাদা করে বাজেট ঘোষণা হত। সেই রীতি উঠলেও এখনও রেল বাজেট গোটা বাজেটের অত্যন্ত জরুরি একটা অংশ। যদিও এবারের বাজেটে রেলের জন্য তেমন বড় কোনও ঘোষণা শোনা যায়নি অর্থমন্ত্রীর মুখ থেকে। বন্দে ভারতের মতো বিলাসবহুল ট্রেনের জন্য ঘোষণা থাকলেও নতুন ট্রেনের ঘোষণা বা ট্রেনের সুরক্ষা কবচ বসানো নিয়ে কোনও ঘোষণা শোনা যায়নি সরকারি বাজেটে। অথচ রেলকর্তৃপক্ষ বারবার দাবি করেছেন, অর্থের অভাবেই ট্রেনে সুরক্ষাকবচ বসানো সম্ভব হচ্ছে না। আর তার ফলই বারবার ভুগছে মানুষ। একের পর এক দুর্ঘটনা সত্ত্বেও চোখ খুলছে না সরকারের। আর সে কথাই ফের মনে করিয়ে দিল বুধবারের দুর্ঘটনা। যদিও এই মালগাড়িটি লাইনচ্যুত হওয়ার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।
















