ঋষি সুনকের ব্যাপক ভোটে হার! ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে যেভাবে ক্ষমতায় বাম লেবার পার্টি
UK Election Results 2024: ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টির এমন ভয়াবহ হার!

হেরে গেলেন ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক। শুক্রবার ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে সেই দেশে। দুঃখজনক হারের মুখ দেখেছে কনজারভেটিভ পার্টি। ব্যাপক ভোট পেয়ে ম্যাজিক ফিগারের চেয়ে ঢের বেশি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে মধ্য-বাম দল লেবার পার্টি। এবার ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্র পদপ্রার্থী ছিলেন কিয়ার স্টারমার। স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি ৩৬০টি আসন জিতেছে। সরকার গড়তে দরকার ছিল ৩২৬টি আসন। কনজারভেটিভ পার্টির এই হার নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক পরাজয়।
জয়ী আসনের সংখ্যা
কনজারভেটিভ পার্টি - ৮১
লেবার পার্টি - ৩৬০
স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি)- ৩
লিবারেল ডেমোক্র্যাট - ৪৯
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Rishi Sunak: ঋষি-র কাছে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, দেশের অর্থনীতিকে ফের শক্তিশালী করা।
রিফর্ম ইউকে - ৩
অন্যান্য- ১
এক্সিট পোল অবশ্য এমন ইঙ্গিতই দিয়েছিল। তবে ১০০-র থেকেও কম আসন জুটবে কনজারভেটিভদের এমন পূর্বাভাস এক্সিট পোলও দিতে পারেনি। দীর্ঘ ১৪ বছর ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে ক্ষমতায় আছে কনজারভেটিভ পার্টি। বিভিন্ন সময়ে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী সে দেশের হাল ধরেছেন। ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টির এমন ভয়াবহ হার! ৬৫০ আসনের হাউস অফ কমন্সে এবার কনজারভেটিভরা ১৩১ টি আসন পাবে বলে অনুমান করেছিল এক্সিট পোলগুলি। বাস্তবে মাত্র ৮১ টি আসন দখলে রাখতে পেরেছে এই দল। গত ছয়টি নির্বাচনে, শুধুমাত্র একবারই এক্সিট পোলের ফলাফল ভুল হয়েছে।
এক্সিট পোল বলেছিল
কনজারভেটিভ পার্টি: ১৩১
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Noor Inayat Khan: ১৯৪৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঘাড়ের পিছনে গুলি করে হত্যা করা হয় নূর ইনায়াত খানকে। শোনা যায় মৃত্যুর সময় তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত শেষ শব্দটি ছিল ‘Liberté’ যার অর্থ ‘স্বাধীনতা’।
লেবার পার্টি: ৪১০
লিবারেল ডেমোক্র্যাটস: ৬১
স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি): ১০
রিফর্ম ইউকে: ১৩
প্লেইড সিমরু: ৪
গ্রিনস: ২
বৃহস্পতিবারই এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিয়েছিল কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে বাম-মধ্য লেবার পার্টি উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসতে প্রস্তুত।
কনজারভেটিভ পার্টির প্রাক্তন বিচার মন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড ২০১৯ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় ২৫% ভোট কম পেয়েছেন এবার। মধ্য ইংল্যান্ডে সুইন্ডন সাউথ আসনে হেরে গিয়েছেন তিনি। লেবার পার্টির হেইডি আলেকজান্ডার এই আসনে জয়ী হয়েছেন। কিয়ার স্টারমার এই জয়ের পর বলেছেন, "আমরা জিতেছি! প্রচার করেছি, লড়াই করেছি, আপনার আমাদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং আমরা জিতেছি। পরিবর্তন এবার শুরু হবে। ভালো লাগছে। আমাকে সৎ হতে হবে. সাড়ে চার বছর ধরে দলে পরিবর্তন এসেছে, এই জন্যই পরিবর্তন। পরিবর্তিত লেবার পার্টি আমাদের দেশের সেবা করতে প্রস্তুত, ব্রিটেনের শ্রমজীবী মানুষের সেবায় কাজ করতে প্রস্তুত।”
এক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক এবং এক নার্সের পুত্র কিয়ার স্টারমার আর্থিকভাবে বিধ্বস্ত ইউকে-কে নতুন স্বপ্ন দেখানোর কথা বলেছেন। তাঁর সামনে এখন উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে রয়েছে মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, গত ১৪ বছর ধরে চলা অর্থহীন সরকারি পরিষেবা এবং পরিবারের উপর আর্থিক চাপ।
প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনকের কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচনের আগে ভোটারদের সতর্ক করে দিয়েছিল যে, লেবার পার্টিকে বেছে নিলে সাধারণ মানুষের উপর বেশি বেশি কর আরোপ করা হবে। সেসব ভীতি অগ্রাহ্য করেই মানুষ কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টিকে বেছে নিয়েছে। মানুষের রায় মেনে হার স্বীকার করে ঋষি সুনক বলেছেন, "আজ, ক্ষমতা হস্তান্তর হবে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবেই।" রিচমন্ড এবং নর্দান অ্যালারটনের সমর্থকদের উদ্দেশে ঋষি সুনক বলেছেন, "আমি দুঃখিত। আমি ক্ষতির দায় স্বীকার করছি।"






