রাজনীতি ছাড়ছেন দিলীপ ঘোষ? কেন হঠাৎ চরম সিদ্ধান্ত বিজেপি নেতার?

Dilip Ghosh: রাজ্যে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির তরী। এরই মধ্যে বিজেপি ছাড়ার কথা বললেন দলের অন্যতম বরিষ্ঠ সদস্য দিলীপ ঘোষ।

Sohini Das
৩ মিনিট
রাজনীতি ছাড়ছেন দিলীপ ঘোষ? কেন হঠাৎ চরম সিদ্ধান্ত বিজেপি নেতার?

রাজনীতি ছাড়ছেন দিলীপ ঘোষ। এই লোকসভা ভোটে দেশে আসন সংখ্যা কমেছে বিজেপির। রাজ্যে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির তরী। এরই মধ্যে বিজেপি ছাড়ার কথা বললেন দলের অন্যতম বরিষ্ঠ সদস্য দিলীপ ঘোষ।

আশঙ্কা অবশ্য ছিলই। এই লোকসভা ভোটে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র দিলীপ ঘোষকে মেদিনীপুরের বদলে দুর্গাপুর-বর্ধমানের মতো নতুন কেন্দ্রে দাঁড় করায় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তা নিয়ে মনে মনে ক্ষুব্ধ ছিলেন দিলীপ। তবু সঙ্ঘের অনুশাসন মেনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। সারা বছর ধরে মেদিনীপুরের মাটিতে হোমওয়ার্ক করেছেন দিলীপ। বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে বলাই বাহুল্য তার জন্য সময় পাননি দিলীপ। তার পর যা হওয়ার তাই হয়েছে। দিলীপ তো দুর্গাপুর-বর্ধমান কেন্দ্রে হেরেইছেন, একই সঙ্গে বিজেপির হাতছাড়া হয়েছে মেদিনীপুরের আসনটিও। ভোট মেটার পরেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে খানিকটা হলেও ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন দিলীপ। এর নেপথ্যে রয়েছে কাঠিবাজি, বলেও নাম না করে তোপ দাগেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তিক্ততা ভুলে নতুন শুরু, জেলায় জেলায় ঘুরে ঘর গোছাচ্ছেন দিলীপ ঘোষ

Dilip Ghosh: শোনা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিজেপির কর্মীদের সঙ্গে বসে এই লোকসভা ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করেন বিজেপি নেতা। সোমবার সকালে উঠেই বেরিয়ে পড়েছিলেন তিনি। প্রথমেই মালদহ শহরের শুভঙ্কর বাঁধে প্রাতঃভ্রমণ সারেন দিলীপবাবু।

এর মধ্যেই তিনি রাজ্যনেতৃত্বকে না জানিয়েই চলে গিয়েছিলেন বিভিন্ন জেলাসফরে। সেখানকার বিজেপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকও সারেন। তা নিয়ে দলের অন্দরে কথাবার্তাও শুরু হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ভেবেছিলেন, ভোট শেষ হতেই জমিগোছানো শুরু করেছেন দিলীপ ঘোষ। অনেকে এ-ও ভেবেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বর তরফে কোনও বার্তাও পেয়ে থাকতে পারেন তিনি। তবে তার মাস ঘুরতে না ঘুরতেই বিস্ফোরক দিলীপ। জানিয়ে দিলেন, দল নির্দিষ্ট কাজ না দিলে দলকে 'টা টা- বাই বাই' বলে বিদায় জানাবেন তিনি। প্রাক্তন হয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া বেশি দিন সম্ভব নয় তাঁর পক্ষে। পরিস্থিতি না পাল্টালে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেও জানিয়ে দেন দিলীপ ঘোষ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
‘কাঠিবাজী’ই কি কাঁটা জয়ের মুখে! কীসের আভাস দিতে চাইলেন বেসুরো দিলীপ

Dilip Ghosh: বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ জানালেন, 'চক্রান্ত, কাঠিবাজি রাজনীতির অঙ্গ। আমি সেভাবেই নিয়েছি। আমি পুরো পরিশ্রম করেছি, কিন্তু সফলতা আসেনি।'

এ কথা অস্বীকার করার জায়গা নেই, তাঁর হাত ধরেই বাংলায় বিজেপির উত্থান। তিনি বিজেপির রাজ্যসভাপতি থাকা কালীন উল্কাগতিতে রাজ্যে বেড়েছিল বিজেপির ভোট। সেখান থেকে দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হন দিলীপ ঘোষ। তার পরে হয়েছেন সাংসদ। একে একে তার হাত থেকে খোয়া গিয়েছে সব পদ। এবারের লোকসভা ভোটে হেরে হাতছাড়া হয়েছে সাংসদপদও। সেই নিয়ে দলের উপর অনেকদিন ধরেই ক্ষুব্ধ দিলীপ। সঙ্ঘসেবক থেকে বিজেপি নেতা, এই সফরের মধ্যে দলের জন্য অনেক কিছুই করেছেন তিনি। কিন্তু তাঁকেই যেন বারবার ব্রাত্য করেছে দল। রাজনৈতিক সব বড় পরিচয় হারানোর পরে এখন তিনি শুধুই সাধারণ বিজেপি নেতা। দলের তরফে কোনও কর্মসূচী দেওয়া হয় না, এমনকী রাজ্য নেতৃত্বও তাঁর সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখে না বলে অভিযোগ বরিষ্ঠ নেতার। এই পরিস্থিতিতে দিলিপের সাফ বক্তব্য, "এভাবে আমি থাকতে পারব না। দল নির্দিষ্ট কাজ না দিলে এবার রাজনীতিকে টা টা-বাই বাই বলে দেব। যতক্ষণ দলে আছি, ততক্ষণ কাজ করে গেলেও একটা সময়ের পর তো সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। রাজনীতি ছাড়াও সমাজের অনেক কাজ রয়েছে।"

লোকসভা ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর থেকে একবারই দলের নতুন রাজ্য দফতরে গিয়েছিলেন নাকি দিলীপ। এর পর কোর কমিটির বৈঠকের পরে রাজ্য সফরে বেরিয়ে পড়েছিলেন দিলীপ। সে নিয়ে চর্চা চললেও কলকাতা ফেরার পরেও দাপুটে এই বিজেপি নেতার সঙ্গে রাজ্যদলের তরফে কেউ যোগাযোগ করেননি বলে অভিযোগ। কানাঘুষো শোনা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর উত্তরোত্তর ক্ষমতাবৃদ্ধি নিয়েও খানিকটা ক্ষুব্ধ দিলীপ ঘোষ। এমনকী তাঁর হাত থেকে মেদিনীপুর কেন্দ্র ছিনিয়ে নেওয়ার নেপথ্যেও শুভেন্দুর কলকাঠি রয়েছে বলে মনে করেন দিলীপ অনুগামীরা। যদিও আভাস দিলেও এখনও পর্যন্ত তেমন চরম কোনও সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেননি দিলীপ। সিদ্ধান্ত কবে ঘোষণা করবেন জিজ্ঞেস করা হলে দিলীপ বলেন, ‘আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করব। দলের তরফ থেকে কিছু জানানো হয় কিনা সেটা দেখার অপেক্ষায় রয়েছি। তবে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আজও নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা আছে আমার। তবে অপেক্ষা করারও একটা সীমা থাকে’।

সূত্রের খবর, রাজনীতি ছেড়ে অন্য কাজে যাওয়ার কথা ইতিমধ্যেই ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন তিনি। RSS-কেও এই বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যাদের বলা প্রয়োজন, তাঁদের আমি বলে দিয়েছি। এভাবে কাজ করতে পারব না। আমায় অন্য সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হলে সেখানে আমি যেতে পারি। সেটা যদি না হয় তাহলে আমি নিজেই ঠিক করে নেব কোন ধরণের কাজ করা যায়। আমি বসে থাকতে পারব না’। সত্যিই যদি বিজেপি ছাড়েন, তাহলে কী হতে চলেছে দিলীপবাবুর পরবর্তী পদক্ষেপ? নতুন কোনও দলের শুরু করতে চলেছেন নাকি অন্য কিছু? উঠে গিয়েছে একগুচ্ছ প্রশ্ন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।