এক মাসের ব্যবধানে দু'বার ডিএ! ভোট-বাজারে নিশানায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের মন?

West Bengal Budget 2024-25: ডিএ-র দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনও করে আসছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। ২০২৪ সালের ভোটপূর্ব বাজেটে সেই ক্ষততেই সামান্য মলম লাগানোর চেষ্টা করল তৃণমূল সরকার।

Sohini Das
২ মিনিট
এক মাসের ব্যবধানে দু'বার ডিএ! ভোট-বাজারে নিশানায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের মন?

শিয়রে লোকসভা ভোট। দেশ জুড়ে সেই দামামা বেজে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। ভোটের বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ হয়ে গিয়েছে নির্ধারিত সময় মেনেই। বাকি ছিল রাজ্যবাজেটের। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাজেটে তেমন বড় কোনও ঘোষণা করেনি কেন্দ্র সরকার। কিন্তু ভোটমুখী বাজেটে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি কর্মীদের মন রাখতে ফের একবার করা হল মহার্ঘ্যভাতার ঘোষণা।

প্রতিবছর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান বাড়ছে। সেই ব্যবধান এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে তা সামাল দেওয়া রাজ্যের পক্ষে কঠিন। ডিএ-র দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনও করে আসছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। ২০২৪ সালের ভোটপূর্ব বাজেটে সেই ক্ষততেই সামান্য মলম লাগানোর চেষ্টা করল তৃণমূল সরকার। ঘোষণা করা হল আর ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর কথা। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনে জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থ-প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অন্তর্বর্তী বাজেটে মধ্যবিত্তের হাতে পেনসিল? আয়কর নিয়ে যা জানালেন নির্মলা

Interim Budget 2024: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজেটের সেই লাল বিফকেস উধাও হয়েছে। তার বদলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর হাতে শোভা পায় আজকাল একটি লাল কভার বিশিষ্ট ট্যাব।

গত ডিসেম্বর মাসেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানানো হয়, নতুন ডিএ কার্যকর হবে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই। সেবারও বাড়ানো হয়েছিল ৪% ডিএ। তার একমাস না ঘুরতেই ফের ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা রাজ্যসরকারের। বুঝতে অসুবিধা হয় না, ভোটের আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের আস্থা ধরে রাখতে কসুর করছে না মমতা ব্যানার্জির সরকার।

এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা বর্তমানে ডিএ পান ৪৬ শতাংশ হারে। বৃহস্পতিবারের ঘোষণার পরেও সেই বিন্দু থেকে অনেক অনেক দূরে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীরা। তবু নতুন এই সিদ্ধান্তের পরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ কেন্দ্র-রাজ্য ফারাক দাঁড়াল আপাতত ৩২ শতাংশ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নির্মলার লক্ষ্য এবার 'লাখপতি দিদি'! দেশের ৩ কোটি মহিলার ভাগ্য বদলাবে ২০২৪-এর বাজেট?

Budget 2024 Lakhpati didis Scheme : লাখপতি দিদি প্রকল্পের সুবিধা পেতে মহিলাদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়া বাধ্যতামূলক৷

গত ২১ ডিসেম্বর পার্ক স্ট্রিটে বড়দিনেক উৎসবের উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে ৪ শতাংশ মহার্ঘভাতা বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। আর সেদিনই ঘটনাচক্রে হাইকোর্টের কাছ থেকে ডিএর দাবিতে নবান্নের সামনে বিক্ষোভে বসার অনুমতি পায় যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো ও কেন্দ্রের সঙ্গে ডিএ-দূরত্ব কমিয়ে আনার দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বিক্ষোভ আজকের নয়। এত দিন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ৬ শতাংশ হারে ডিএ পেতেন। ডিসেম্বরের ঘোষণার পর সেই ডিএ বেড়ে হয় ১০ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে সেই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হয়েছিল। আবার বৃহস্পতিবারের ঘোষণায় ডিএ বেড়ে ১৪ শতাংশ হয়ে গেল। এই বর্ধিত হারে ডিএ আগামী মে মাস থেকে কার্যকর হবে।

ডিসেম্বরে ডিএ ঘোষণার সময়েই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, ডিএ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করলে চলবে না। কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে ডিএ বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজ্যে তেমনটা নয়। ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ফলে সরকারের ২,৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে সেবার জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যার সুফল পাবেন রাজ্যের ১৪ লক্ষ সরকারি কর্মী। এত কিছু সত্ত্বেও মাত্র এক দেড় মাসের ব্যবধানে ফের যেভাবে বাজেট অধিবেশন নতুন করে ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করলেন মমতা-সরকার, তাতে ভোটের অঙ্কই দেখছে অভিজ্ঞমহলের একাংশ। বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের প্রধান অংশগ্রহণকারী হয়েও রাজ্যে একা লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই আত্মবিশ্বাস বাংলায় অন্তত তাঁর আছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। আর সেই আত্মবিশ্বাসের শিকড়ে জল-সার ঢালতে যে কোনও কার্পণ্য করছে না রাজ্যসরকার, তা কার্যত স্পষ্ট করে দিয়েছে ২০২৪ রাজ্য বাজেট।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।