ভাঙল অনিল বসুর ‘অজেয়’ রেকর্ড! সব বাধা ঠেলে ডায়মন্ডহারবারে হ্যাটট্রিকের পথে অভিষেক

Lok Sabha Election 2024: প্রতিবারের মতো এই লোকসভা ভোটেও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন অভিষেক। এই হীরক বন্দর এতদিনে কার্যত অভিষেক ব্যানার্জির গড়ে পরিণত হয়েছে। আর সেই গড়ে তাঁকে হারানো যে মোটেও সোজা কথা নয়, তা বুঝিয়ে দিয়েছে লোকসভা ভোটের ফলাফল।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভাঙল অনিল বসুর ‘অজেয়’ রেকর্ড! সব বাধা ঠেলে ডায়মন্ডহারবারে হ্যাটট্রিকের পথে অভিষেক

বছর শুরু হতে না হতেই লোকসভা ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছিল। সাত দফা ভোট শেষে মঙ্গলবার সেই গণতন্ত্রের উৎসবের চূড়ান্ত দিন। ভোটের ফলাফল। ইতিমধ্যেই বাংলায় লোকসভা ভোটের ফল মোটামুটি স্পষ্ট। প্রায় সমস্ত বুথ ফেরত সমীক্ষাকে পিছনে ফেলে এ রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে উঠে আসছে তৃণমূল। আর সেই জয়ের সবচেয়ে ভারী পতাকাটি বোধহয় নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়।

প্রতিবারের মতো এই লোকসভা ভোটেও ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন অভিষেক। এই হীরক বন্দর এতদিনে কার্যত অভিষেক ব্যানার্জির গড়ে পরিণত হয়েছে। আর সেই গড়ে তাঁকে হারানো যে মোটেও সোজা কথা নয়, তা বুঝিয়ে দিয়েছে লোকসভা ভোটের ফলাফল। সত্যি কথা বলতে, এতদিনের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন অভিষেক। সেখানে হ্যাটট্রিক করা থেকে অল্পই দূরে রয়েছেন তৃণমূল সেনাপতি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোন কোন আসনে বিজেপিকে দুরমুশ করছে তৃণমূল?

Lok Sabha Election Results 2024: সারা রাজ্যের হিসেব বলছে, দুপুর পর্যন্ত তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে প্রায় ৩১টি আসনে। বিজেপির ঝুলিতে দশটি আসন। আর বাম-কংগ্রেস এখনও খাতাই খুলতে পারেনি এ রাজ্যে।

এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ৯৩ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তৃণমূল। সংখ্যালঘু ভোটের অঙ্ক ভালোমতোই রয়েছে ডায়মন্ডহারবারে। তবে যেখানে অভিষেক দাঁড়িয়ে পড়েন, ভিড় যে এখন সেখান থেকেই শুরু হয়, তা বললে বোধহয় খুব ভুল বলা হয় না। এই কেন্দ্রটিতে নওশাদ সিদ্দিকিকে প্রার্থী করবে বলে মনস্থির করেছিল আইএসএফ। অথচ শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলায় তারা। এদিকে বাম-কংগ্রেস জোটও আস্থা রেখেছিল আইএসএফে। শেষ মুহূর্তে জোটে বেঁকে বসে পেশায় আইনজীবী মজনু লস্করকে ডায়মন্ডহারবার থেকে প্রার্থী করে ISF। বিপদ বুঝে বামেরাও নিজেদের মতো প্রার্থী ঘোষণা করে দেয় এই কেন্দ্রে। বামেদের তরুণ নেতা প্রতীক-উর রহমানে আস্থা রেখেছিল সিপিএম। দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে প্রতীক-উরের। বহু সময় পর্যন্ত ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি। শেষ মুহূর্তে আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতা অভিজিৎ দাসকে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দেয় গেরুয়া শিবির।

প্রার্থীর ওজনই মোটামুটি বুঝিয়ে দিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে আগেই হেরে বসে রয়েছে বিজেপি। লড়াই ছিল তরুণ প্রতীক-উরের সঙ্গে। কিন্তু অভিষেকের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীকে টেক্কা দেওয়ার মতো জনসংযোগ বা ওজন আদৌ কি ছিল তাঁর? ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক ঝড়ের মুখে কার্যত দাঁড়াতেই পারেনি অন্য়ান্যরা। বাংলা যে এখনও সব কিছুর পরে তৃণমূলকেই চায়, তা বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলার একাধিক কেন্দ্রই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অপ্রতিরোধ্য মহুয়া! কৃষ্ণনগরে যে ভাবে মুখ থুবড়ে পড়ছে বাম ও বিজেপির কৌশল

Mahua Moitra: কৃষ্ণনগরের ভূমিকন্যা তথা সেখানকার 'রাজমাতা' অমৃতা রায়কে কার্যত বিপুল ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছেন মহুয়া। কার্যত সেই সংখ্যার ব্যবধান এতটাই যে, অমৃতার ফেরার পথটাও নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অভিষেকের এই রেকর্ড ভোট পাওয়া কার্যত মনে করিয়ে দিয়েছে সিপিএমের বর্ষিয়ান সাংসদ অনিল বসুর রাজনৈতিক জীবনকে। ১৯৮৪ সাল নাগাদ প্রথম আরামবাগ কেন্দ্র থেকে জিতে লোকসভায় পা রাখেন প্রয়াত এই বাম নেতা। এরপর টানা ৬ বার ওই লোকসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছিল কমিউনিস্ট পার্টি। এবং প্রতিবারই সেই আসনে বিপুল জয় নিয়ে ঘরে ফিরেছেন অনিলবাবু। যত দিন তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছেন, ততবারই জিতেছেন। ২০০৪ সালে তো রেকর্ড সংখ্যক ভোটে জিতেছিলেন। ওই বছর আরামবাগের সিপিএম প্রার্থী অনিল বসুর সঙ্গে নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৫ লাখ ৯২ হাজার ৫০২। যে রেকর্ড ইতিমধ্যেই ভেঙে ফেলেছেন ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী অভিষের বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৪ লোকসভা ভোটে ভদোদরা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন নরেন্দ্র মোদি। যদিও অনিলবাবুর রেকর্ড ভাঙতে পারেননি তিনি। যা করে দেখিয়েছেন অভিষেক।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জিতলে তৃতীয় বার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হবেন অভিষেক। তিনি যে হীরক বন্দরের আক্ষরিক অর্থেই যুবরাজ, তা প্রমাণ করে দিয়েছে মানুষের রায়। এই কেন্দ্রে জয় নিয়ে গোড়া থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে অভিষেককে। বিজেপি অভিজিৎ দাস ববিকে প্রার্থী করার পরই অভিষেককে বলতে শোনা গিয়েছিল, “ভোট মানুষ দেবেন। ইডি সিবিআই তো ভোট দেবে না। আমি তো বলেছিলাম এত রাগ যখন আমার বিরুদ্ধে, তাহলে ইডি সিবিআইয়ের ডিরেক্টরকে ডায়মন্ড হারবার থেকে দাঁড় করান।”

প্রার্থী দিতে দেরি হওয়া নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষও করেন অভিষেক। গর্বের সঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “ডায়মন্ড হারবারের মানুষ এখানকার দায়িত্ব নিন। বাকি ৪১টার দায়িত্ব আমার।” তাঁকে নিরাশ করেনি ডায়মন্ড হারবারবাসী। কার্যত হাত উপুর করেই ভোট ঢেলে দিয়েছেন তাঁরা তৃণমূল সেনাপতিকে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ৩১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। বিজেপি এখনও দশে। এই ব্যবধান টপকানো খুব সহজ হবে গেরুয়াশিবিরের পক্ষে, তেমনটা তো মনে হচ্ছে না।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।