কোথায় হারিয়ে গেল বাংলার কার্টুন সংস্কৃতি?

Whenever you have to do something with a punch, tell it with a Cartoon.

ছোট থেকে বড়- সবারই পছন্দ কার্টুন। কার্টুন এক অদ্ভুত মজার জিনিস! যা মুখে না বলেও এঁকে বুঝিয়ে দেওয়া যায়। কার্টুনের সঙ্গে বাস্তবতার সরাসরি সম্পর্ক নেই, তাই বলে তা যে অবাস্তব কিছু হবে, তাও আবার নয়। কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র একধরনের দ্বি-মাত্রিক চিত্রকলা, যা কাগজে এঁকে প্রদর্শন করা হয়। বিভিন্ন বিচিত্র পন্থায় 'ব্যঙ্গচিত্র' শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে। আঁকার পাশাপাশি শব্দপ্রয়োগের মাধ্যমে তামাশা, উপহাস কিংবা সরস উক্তিও প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও, অনেকগুলো কার্টুনকে একত্রিত করে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। যিনি ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করেন, তিনি কার্টুনিস্ট নামে পরিচিত। বিখ্যাত ইতালীয় চিত্রশিল্পী রাফায়েল, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি বিখ্যাত কার্টুনিস্ট হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক কার্টুন পত্রিকা ‘টুনস ম্যাগ’ দৈনিক রাজনৈতিক এবং রম্য কার্টুন প্রকাশ করে থাকে।

ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন কথাটি এসেছে ইতালির কার্তোন থেকে। আগেকার দিনের শিল্পীরা বড়মাপের কোনও পেন্টিংয়ে হাত দেওয়ার আগে খুব বড় কাগজে সেই ছবিটার একটা খসড়া আঁকতেন। কাঠ-কয়লা, পেনসিল ও চক দিয়ে সেই খসড়া হতো। যে বড় কাগজে এই খসড়া ড্রইং করা হতো, তার নাম কার্তোন। এর থেকেই 'কার্টুন' কথাটির উদ্ভব। খ্রিস্টপূর্ব একহাজার বছর আগে প্যাপিরাসে আঁকা ক্যারিকেচার ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রাখা আছে। সেটিকেই প্রথম কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র হিসেবে ধরা হয়। ছবিটির বিষয়বস্তু হচ্ছে, সিংহ এবং হরিণ (বাজি রেখেই বোধহয়) দাবা-জাতীয় কোনও খেলায় ব্যস্ত।

আরও পড়ুন: বাঙালির ব্যবসা করতে না পারার দুর্নাম ঘুচিয়ে দিয়েছে একশো ছুঁই ছুঁই বোরোলিন

বাংলায় ব্যঙ্গচিত্রের প্রকাশ

ভারতীয় রসশাস্ত্র অনুযায়ী মানবসমাজে ন’ধরনের রস প্রবাহিত হয়। আনুষঙ্গিক রসগুলি এর মধ্যে পড়লেও আসল কথাটা হল ‘রসবোধ’। মানুষের সঙ্গে অন্যান্য প্রাণীর প্রধান পার্থক্যই হলো, মানুষের রসবোধ আছে, অন্যদের নেই। থাকলেও তার বহিঃপ্রকাশ নেই। আর তাই মানুষের এই রসবোধ থেকেই জন্ম নেয় একরকম শিল্প- ব্যঙ্গশিল্প।

শিল্প অর্থে শুধু আঁকা নয়, লেখাও। কারণ, ব্যঙ্গসাহিত্য ও ব্যঙ্গচিত্র সবসময়েই পরস্পরের পরিপূরক। যেহেতু লেখার প্রচলন পৃথিবীতে এসেছে রেখার প্রচলনের অনেক পরে, তাই বলা যায়, পৃথিবীতে ব্যঙ্গচিত্র নামক শিল্পটির জন্ম হয়েছিল আজ থেকে প্রায় কয়েকহাজার বছর আগে। কার্টুন বা ব্যঙ্গচিত্র বলতে বোঝায়, উন্নত শৈলীর রেখাচিত্র দিয়ে একটি সমসাময়িক ঘটনার রসঘন প্রকাশ। ভারতবাসীরাও বহু যুগ ধরে এই নবরসের আস্বাদনে অভ্যস্ত ছিল। তারই প্রকাশ দেখা যায় প্রাচীন সংস্কৃত নাটকে। প্রাচীন ভাস্কর্যেও এই ব্যঙ্গের উল্লেখ আছে। যদিও কালের গতিতে আজ অনেককিছুই বিলুপ্ত।

এদেশের ব্যঙ্গচিত্রের আদি পর্ব ইংরেজদের হাতেই শুরু হয়েছিল। তাদের প্রেরণার উৎস ছিল London Punch। দিল্লি থেকে যে Indian Punch বা Indian Charivari প্রকাশিত হয়েছিল তার মালিক, সম্পাদক, চিত্রকর সবই ছিল ইংরেজ। কিন্তু সেই ঐতিহ্যও মাত্র একশো বছরে ম্লান হয়ে গিয়েছে। আজ বিজ্ঞাপনের দণ্ড পত্রিকার পাতা থেকে কেড়ে নিয়েছে ‘অবাঞ্ছিত’ ব্যঙ্গচিত্রর স্থান। অথচ বিদেশে এই ব্যঙ্গচিত্রর ওপরেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো। এমনকী, ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক থেকে প্রকাশিত ডব্লিউ. টি. স্টেড সাহেবের ‘রিভিউ অফ রিভিউজ’ পত্রিকাটিতে ‘কারেন্ট হিস্ট্রি ইন ক্যারিকেচার’ নামে পৃথিবীর নানা বিষয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হতো। অথচ আমাদের দেশে ব্যঙ্গচিত্রর মতো এত বড় একটা ‘ইনস্ট্যান্ট আর্ট ফর্ম’ আজ সম্পূর্ণ অবহেলিত।

কুখ্যাত ইলবার্ট বিল যেভাবে দেশীয় সংবাদপত্রর কণ্ঠরোধ করেছিল, তাতে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা তো দূরের কথা, সামান্য সমালোচনা করতেও সবাই ভয় পেত। ফলে দেশি কাগজগুলিকে সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেই তুষ্ট থাকতে হতো। তবে ‘বসন্তক’ অবশ্যই এর ব্যতিক্রম। কারণ, পরবর্তী পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র এতে স্থান পেয়েছে। ১৮৬৪ সালে 'অমৃতবাজার পত্রিকা' প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে সংবাদপত্রে ব্যঙ্গচিত্রকে তুলে ধরার জন্য অমৃতবাজার-এর অবদান সর্বাধিক। অবশ্য বিংশ শতাব্দীতে এসে এমন কিছু পত্রপত্রিকার দেখা পাই, যেগুলোতে নিয়মিত ব্যঙ্গলেখা ও ব্যঙ্গচিত্র ছাপা হতো, যেমন, প্রবাসী, ভারতবর্ষ, বিদূষক, বসুমতী, শনিবারের চিঠি, সচিত্র শিশির, সচিত্র ভারত, অচলপত্র প্রভৃতি।

১৮৭৪ সালে যখন এখানে ‘বসন্তক’ বা ‘হরবোলা ভাঁড়’-এর মতো পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে, তখন সেই সময়ে বটতলার বইয়ে ও পুরনো পঞ্জিকাতে বেশ কিছু উডকাট্ জাতীয় ব্যঙ্গচিত্র দেখা যায়। ১৮৪০ থেকে ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ ছিল বটতলার ছাপাখানার স্বর্ণযুগ। বটতলার বইগুলির মধ্যে কিছু স্থূল ব্যঙ্গ-কৌতুকমিশ্রিত গ্রন্থ পাওয়া যায়। আর তাতে কিছু কিছু ছবিও ছাপা হতো। সেই সময় ইংরেজি কাগজগুলোতেও কিছু কিছু ব্যঙ্গচিত্র ছাপা হতো। 'দ্য ইংলিশম্যান' ছিল 'দ্য স্টেটসম্যান'-এর পূর্বসূরি। তাতে ভারতীয়দের নিন্দা করে বিদেশি কার্টুন ছাপা হতো। এরই প্রতিবাদে মূলত গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবির্ভাব ব্যঙ্গচিত্রী হিসেবে।

১৮৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন বাংলার ব্যঙ্গচিত্রর আদিপুরুষ ও পথপ্রদর্শক গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলার যে নবজাগৃতি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির অবদানে পুষ্ট ছিল, তাকে গগনেন্দ্রনাথ তুলির টানে এগিয়ে নিয়ে যান এক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। গগনেন্দ্রনাথের তিনটি ব্যঙ্গচিত্র-সম্বলিত অ্যালবাম একদা প্রকাশিত হয়েছিল ‘অদ্ভুত লোক’, ‘বিরূপ বজ্র’ ও ‘নবহুল্লোড়’। তবে একেবারে নিখাদ ব্যঙ্গচিত্র না হলেও ক্যারিকেচার-জাতীয় ছবি আঁকার ব্যাপারে অনেকেই উৎসাহী ছিলেন।

গগনেন্দ্রনাথের পর যাঁর আঁকা এবং লেখা বাংলা ব্যঙ্গসাহিত্য ও ব্যঙ্গচিত্রকে ঋদ্ধ করেছে, তিনি হলেন সুকুমার রায়। সুকুমার রায়ের আঁকা ছবি বাঙালি মননের অনেকটাই অধিকার করে আছে। এরপর আসে যথাক্রমে চঞ্চলকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, বনবিহারী মুখোপাধ্যায়, বিনয়কুমার বসু, যতীন্দ্রকুমার সেন, চারু রায়, দীনেশরঞ্জন দাস, সতীশচন্দ্র সিংহ, জ্যোতিষচন্দ্র সিংহ প্রমুখের নাম। চঞ্চলকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম ব্যঙ্গসাহিত্য ও ব্যঙ্গচিত্রর যুগলবন্দি সৃষ্টি করেন। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের গানের কলির সঙ্গে তাঁর আঁকা রঙিন ব্যঙ্গচিত্র সে-যুগে বাঙালি মোসাহেব ও কেরানিদের দুঃসহ জীবনধারাকে পরিস্ফুট করেছিল।

এর পরবর্তীতে বাংলা ব্যঙ্গচিত্রর জগতে এক নতুন প্লাবন আসে। পুরোধা হয়ে এগিয়ে আসেন প্রমথ সমাদ্দার, প্রফুল্লচন্দ্র লাহিড়ী (যিনি পিসিএল ও কাফী খাঁ নামে সর্বাধিক পরিচিত) ও শৈল চক্রবর্তী। বাংলার ব্যঙ্গচিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করায় এঁদের দান অসামান্য। গগনেন্দ্রনাথ যদি বাংলা ব্যঙ্গচিত্রের জনক হন, তাহলে পিসিএল নিঃসন্দেহেই আধুনিক ব্যঙ্গচিত্রর প্রবর্তক। ইতিহাসের অধ্যাপক, বেহালাবাদক এই শিল্পীর হাতে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রর এক নতুন রূপ উন্মোচিত হয়। তাঁর আমেরিকা সফরকালে সেখানেও তাঁর ব্যঙ্গচিত্র নিয়মিত ছাপা হতো। ১৯৩৪ সালে তিনি যোগ দেন অমৃতবাজার পত্রিকা-য় স্টাফ কার্টুনিস্ট হিসেবে। এদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ব্যঙ্গচিত্রী, যিনি আমৃত্যু এই শিল্পমাধ্যমটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণে তাঁর তুলনীয় ব্যঙ্গচিত্রী ছিল তখন নগণ্য। বাচ্চাদের জন্য তিনিই প্রথম কমিক স্ট্রিপ আঁকতে শুরু করেন। অমৃতবাজার-এ আঁকতেন ‘খুড়ো’ আর 'যুগান্তর'-এ ‘শিয়াল পণ্ডিত’।

এছাড়া পিসিএল বিদেশি ফ্লিপবুক স্টাইলে একটি অ্যালবামের প্রবর্তন করেন এ-দেশে– ‘কাফীস্কোপ’। বুড়ো আঙুল ও তর্জনীর চাপে দ্রুত বইয়ের পাতা উল্টে গেলে একটা সম্পূর্ণ কমিক স্ট্রিপ ফুটে উঠত। এছাড়া তাঁর আর এক অক্ষয় কীর্তি এখনও রয়ে গিয়েছে বিড়লা তারামণ্ডলে। দক্ষ আর্কিটেক্টের মতো তিনি তৎকালীন কলকাতার স্কাইলাইনের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন তারামণ্ডলের ভেতরের দেওয়ালে। পিসিএল-এর ব্যঙ্গচিত্রর সবচেয়ে বড় গুণ, তা কখনওই ক্যাপশনের ভারে নুয়ে পড়েনি। ক্যাপশনলেস ব্যঙ্গচিত্র আঁকাতেই ছিল তাঁর মুনশিয়ানা, যেটা একজন দক্ষ ব্যঙ্গচিত্রীর থাকা উচিত।

এরপরই নাম করতে হয় চণ্ডী লাহিড়ী-র। এই বুদ্ধিদীপ্ত তীক্ষ্ণ মেধার মানুষটি প্রতিনিয়ত বাংলার ব্যঙ্গচিত্রকে ভরিয়ে দিয়েছিলেন সোনার ফসলে। শুধু রেখায় নয়, রম্যরচনাতেও তিনি সিদ্ধহস্ত। এছাড়া পূর্ণদৈর্ঘ্যের অ্যানিমেশন ফিল্ম চণ্ডী লাহিড়ী-ই প্রথম তৈরি করেন এখানে। সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্র সব্যসাচীর মতো এঁকে গিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই আত্মপ্রকাশ করেন আরও বহু ব্যঙ্গচিত্রী। বাংলার ব্যঙ্গশিল্প ভরে ওঠে সোনার ফসলে। রবিন, কুমার অজিত, কমল সরকার, অহিভূষণ মালিক, চক্রধর শর্মা, ওমিও, ভাদুভাই, কাজী, সুফি, সুকুমার, রামকৃষ্ণ, নারায়ণ দেবনাথ, অমল চক্রবর্তী প্রমুখ নিয়মিত ব্যঙ্গচিত্র আঁকতেন তৎকালীন পত্রপত্রিকায়। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী শুধু নারায়ণ দেবনাথ, যিনি সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে শুধুই কমিক স্ট্রিপ এঁকে চলেছেন। তাঁর সৃষ্ট হাঁদা ভোঁদা, বাঁটুল, নন্টে-ফন্টে আজ বাঙালির গর্ব।

এছাড়া অনেক প্রখ্যাত লেখকও অনেক সময়েই ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছেন। বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় বা বনফুল, শিশুসাহিত্যিক অখিল নিয়োগী (স্বপনবুড়ো), লেখক হিমানীশ গোস্বামী অনেক ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছেন। কিন্তু দুঃখের কথা এই যে, শতাব্দীর দ্বার পেরিয়ে এসে বাংলার ব্যঙ্গচিত্র এক করুণ অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলার ব্যঙ্গশিল্পর যে স্বর্ণযুগ সূচিত হয়েছিল গগনেন্দ্রনাথের হাতে, আজ তার সূর্য প্রায় অস্তমিত। এখনও শুধুমাত্র ব্যঙ্গচিত্রকে পেশা করে নিয়মিত ছবি এঁকে যাচ্ছেন এক আশি-পেরনো মানুষ। তিনি অমল চক্রবর্তী, 'সংবাদ প্রতিদিন'-এর চারের পাতায় তাঁর 'অমল আলোয়'-এর আলো এখনও উজ্জ্বল। অমল চক্রবর্তীকে যদি বাংলার শেষ সফলতম ব্যঙ্গচিত্রী ধরা হয়, তার পরেও কেটে গিয়েছে প্রায় পঞ্চাশ বছর। দেবাশীষ দেব বা উদয় দেবের মতো গুটিকয়েক ব্যঙ্গশিল্পীকে বাদ দিলে বাঙালি এই শিল্পমাধ্যমটাকে পেশা হিসেবে নিয়ে আর কাজ করছেন না। অবশ্য সুখের কথা, এই প্রজন্মের অনেকেই আবার ব্যঙ্গচিত্র আঁকছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যাঁরা সক্রিয়ভাবে ব্যঙ্গচিত্র আঁকছেন, তাঁদের মধ্যে গোড়াতেই দেবাশীষ দেব ও উদয় দেবের নাম করতেই হয়। এছাড়া অভিজিৎ সুকুল, ঋতুপর্ণ বসু, সৌকর্য ঘোষাল, অভী, রৌদ্র মিত্র, সেন্টু, অর্ক, চিরঞ্জিৎ সামন্ত, বিবেক, সৌম্যদীপ, বিল্টু, অর্ণব প্রমুখও ব্যঙ্গচিত্র এঁকে চলেছেন।

দু'-একজন চেষ্টাও করেছেন ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা করার। কিন্তু তাঁদের পথে রয়েছে মূলত তিনটি বাধা। প্রথমত, সারা ভারতের কোনও আর্ট স্কুল বা কলেজেই ব্যঙ্গচিত্র শেখার কোনও আলাদা পাঠ্যক্রম নেই। কোথাও শেখানোও হয় না। দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গে ব্যঙ্গচিত্রকে জনপ্রিয় বা উৎসাহিত করার জন্য যে ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা বা কাগজগুলির নেওয়ার কথা ছিল, সিংহভাগই সেই ভূমিকা পালন করে না। অর্থনৈতিকভাবে এখানে ব্যঙ্গচিত্রীদের সামান্যতম ভবিষ্যৎও নেই। তৃতীয় কারণটি মুখ্য, সেটি ব্যঙ্গসাহিত্য ও ব্যঙ্গপত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এখন শুধুই ‘সংবাদ প্রতিদিন’ ও ‘উত্তরবঙ্গ সংবাদ’ দৈনিকে একটি করে পকেট কার্টুন প্রকাশিত হয়। কিন্তু তারপর এক বিরাট শূন্যতা গ্রাস করেছে ব্যঙ্গসাহিত্য ও ব্যঙ্গপত্রিকা জগতকে।

'সাপ্তাহিক বর্তমান' পত্রিকাতে একসময়ে নিয়মিত ‘যষ্ঠিমধু’ বলে একটি রম্যরচনার পাতা প্রকাশিত হতো, কুমারেশ ঘোষের সম্পাদনায়। তাও এখন বন্ধ। আসলে কোনও পত্রিকাই আজ আর ব্যঙ্গচিত্রকে সেভাবে স্থান দিতে চাইছে না। নিখাদ ব্যঙ্গপত্রিকাও নেই। ফলত, নতুন করে এই ব্যঙ্গচিত্রকে পেশা করে আর কেউ এগিয়ে আসতে পারছেন না। ব্যঙ্গপত্রিকা, ব্যঙ্গসাহিত্য ও ব্যঙ্গচিত্রর ত্রিবেণী সঙ্গম আজ শুকিয়ে গিয়েছে।

 

 

More Articles

;