তলোয়ার উঁচিয়ে থানা ঘেরাও! পঞ্জাব কি তবে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে?

Lovepreet Singh Toofan: আধঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে পুলিশের ওপর তলোয়ার নিয়ে চড়াও হয় খালিস্তানের সমর্থকরা।

inscript
৩ মিনিট
তলোয়ার উঁচিয়ে থানা ঘেরাও! পঞ্জাব কি তবে দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে?

তীব্র সঙ্কটে পঞ্জাব। তরোয়াল, বন্দুক এবং লাঠি হাতে এমন রণংদেহী পঞ্জাবের রূপ থমকে দিয়েছে দেশকে। খালিস্তানপন্থী নেতা অমৃতপাল সিংয়ের সহযোগী তুফানের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ বাতিলের দাবিতে পুলিশের সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষ, ব্যারিকেড ভাঙা এবং থানায় হামলার ঘটনায় হিংসার নতুন রূপ দেখছে উত্তরপশ্চিমের এই রাজ্য। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়েছে লাভপ্রীত সিং তুফানকে। পঞ্জাবের আজনালা পুলিশ দাঙ্গা ও অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল এই লাভপ্রীতকে। ঠিক তারপর থেকেই ‘ওয়ারিস পঞ্জাব দে’-র সদস্যদের হামলায় এক অন্যই চেহারা নেয় পঞ্জাব। থানায় হামলা, হেনস্থা সব মিলে ভয়াল পরিবেশ পঞ্জাবে। পরিস্থিতি এমনই দিকে বাঁক নেয় যে বৃহস্পতিবার খালিস্তানপন্থী নেতা অমৃতপাল সিং এবং তাঁর সমর্থকরা থানায় ব্যাপক হামলা চালানোর পরে ছেড়ে দেওয়া হয় লাভপ্রীত সিং তুফানকে।

অমৃতপাল পাল সিং এবং তাঁর সমর্থকরা পুলিশের কাছে দাবি করে, যে ঘটনাটির জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে তা হওয়ার সময় তুফান আজনালায় উপস্থিতই ছিলেন না। এই দাবির সপক্ষে প্রমাণও জমা দেন খালিস্তানপন্থী নেতা-কর্মীরা। ‘রাজ করেগা খালসা’ ও ‘অমৃতপাল সিং জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে গিয়ে অমৃতসর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন লাভপ্রীত সিং। “এটা স্পষ্ট যে শিখরা দাস এবং আমাদের অপমানিত হতে হবে। আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আমার কোনও ভূমিকা ছিল না। আমার মুক্তির জন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ,” বলেছেন লাভপ্রীত সিং। তুফান জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর 'ওয়ারিস পঞ্জাব দে'-এর সদস্যরা তাঁকে উচ্ছ্বসিতভাবে স্বাগত জানায়। কিন্তু কে এই লাভপ্রীত সিং? যার গ্রেফতারি ও মুক্তিকে ঘিরে উত্তাল হলো পঞ্জাব?

তুফান আসলে ওয়ারিস পঞ্জাব দে-এর গুরুদাসপুর জেলার প্রধান এবং পেশায় একজন ছোট চাষি। তুফান তিবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং বিবাহিতও। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী সন্তানের জন্মও দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই তুফান কৃষক বিক্ষোভের অংশ ছিলেন। তার বেশ কিছুকাল পরে অমৃতপাল সিংয়ের সঙ্গে যোগ দেন তুফান। অমৃতপাল সিংয়ের প্রাক্তন সহযোগী বারিন্দর সিং রূপনগর জেলার বাসিন্দা। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনিই একটি এফআইআর দায়ের করেন যার ভিত্তিতে আজনালা পুলিশ তুফানকে গ্রেপ্তার করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধূ ধূ মরুভূমিতে শস্য-শ্যামল কৃষিক্ষেত! যেভাবে অসাধ্যসাধন করেছিলেন রাজা গঙ্গা সিং!

Raja Ganga Singh: রাজা গঙ্গা সিং ঠিক করলেন, পঞ্জাবের সাতলেজ বা শতদ্রু নদী থেকে জল আনানো হবে বিকানেরে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন দেড়শ কিলোমিটার লম্বা একটি খালের

লাভপ্রীত সিং তুফান, অমৃতপাল সিং, বিক্রমজিৎ সিং, পাপালপ্রীত সিং, কুলবন্ত সিং রোকে, গুরপ্রীত সিং এবং আরও ২০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ছাড়াও আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ, এই অভিযুক্তরা সকলেই আজনালা থেকে বারিন্দর সিংকে অপহরণ করে এবং তারপর তাঁকে মারধর করে। তাঁদের বিরুদ্ধে বারিন্দরের পাগড়ি খুলে ফেলা এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে।

অমৃতপাল সিং আসলে কে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উদ্দেশ্য ছিল সন্ত্রাস দমনের, অপারেশন ব্লু স্টারই ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুঘণ্টা বাজিয়ে দেয়?

Operation Blue Star 1984 Indira Gandhi : শিখরা স্বর্ণমন্দির দখল নিলেও চুপ থাকেন ইন্দিরা। পাঞ্জাবের সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হলে বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনী পাঠান

অমৃতপাল সিং দীপ সিধুর শুরু করা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়ারিস পঞ্জাব দে-এর প্রধান। গত বছরই দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন অমৃতপাল সিং। সম্প্রতি জার্নাইল সিং ভিন্দ্রাওয়ালের গ্রামে মোগা জেলার একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে ওয়ারিস পঞ্জাব দে-এর প্রধান নির্বাচন করা হয়।

কী ঘটেছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি আজনালা থানায়?

১৬ ফেব্রুয়ারি লাভপ্রীত সিংয়ের গ্রেফতারের পর, অমৃতপাল সিং ২২ তারিখ পুলিশকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে তুফানকে না ছেড়ে দিলে তিনি ২৩ ফেব্রুয়ারি বিশাল সমর্থকদের নিয়ে থানা ঘেরাও করবেন। সেই হুমকি মতোই অমৃতপাল সিংয়ের সমর্থকরা সকাল থেকে আজনালা স্টেশনে জড়ো হতে শুরু করেন।

প্রথমে সংখ্যা কম হওয়ায় পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারপর অমৃতপাল সিং রাইয়ার গ্রাম জল্লুপুর খেরা থেকে আজনালায় পৌঁছন। আধঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে পুলিশের ওপর তলোয়ার নিয়ে চড়াও হয় খালিস্তানের সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামলাতে বিকেল ৪ টে নাগাদই মুক্তি পান লাভপ্রীত সিং।

পুলিশ আপাতত তুফানকে ছেড়ে দিলেও এফআইআর এখনও বাতিল করা হয়নি। অমৃত পাল সিং এই 'ভুয়ো' এফআইআরকে বাতিল করার দাবি করলেও পঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে তথ্য ও নথি যাচাই করছে পুলিশ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।