চাইলেও মৃত্যু হয় না কখনও, পৃথিবী হোক বা মহাকাশ, সর্বত্র কার্যত অমর এই আণুবীক্ষণিক জীব

Tardigrades Indestructible : তার ওপর এই নিয়ম খাটে না। মৃত্যু এই প্রাণীটিকে ছুঁতে পারে না; কার্যত অমর এই ছোট্ট জীবটি।

inscript
২ মিনিট
চাইলেও মৃত্যু হয় না কখনও, পৃথিবী হোক বা মহাকাশ, সর্বত্র কার্যত অমর এই আণুবীক্ষণিক জীব

ধরা যাক, আপনার সামনে অমর হওয়ার সুযোগ এল, মানে আপনার কখনও মৃত্যু হবে না, কী করবেন? সেই বিশেষ ‘বর’ নেবেন? সেটা অবশ্য ব্যক্তিবিশেষের চিন্তা। পুরাণে, শাস্ত্রে নানা সময় অমরত্বের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কোনও মানুষ আজ পর্যন্ত সেই দিকে যেতে পারেনি। মানুষ তো পারেনি, কিন্তু বাকি প্রাণীরা? ‘জন্মিলে মরিতে হবে’, এটাই কি তাহলে জীবজগতের চরম সত্য? এটাই ঠিক হলেও, পৃথিবীতে একটি প্রাণী আছে, যার ওপর এই নিয়ম খাটে না। মৃত্যু এই প্রাণীটিকে ছুঁতে পারে না; কার্যত অমর এই ছোট্ট জীবটি।

সালটা ১৭৭৩। জার্মান জীববিজ্ঞানী জোহান আগস্ট গোয়েৎজে হঠাৎই একটি নতুন প্রাণী আবিষ্কার করেন। এতটাই ছোট এটি যে, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এটি দেখা যায় না। তখন তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ‘লিটল ওয়াটার বিয়ার’, বা ছোট্ট জলজ ভালুক। ঠিক তিন বছর পর, ১৭৭৬ সালে ইতালির বিজ্ঞানী লাজারো এস্পালানজানি এই প্রাণীটির নামকরণ করেন ‘টারডিগ্রেড’। ‘টারডিগ্রাডা’ গ্রুপের ভেতরেই এই প্রাণীটি পড়ে। এখনও অবধি ১৩০০ টারডিগ্রেড প্রজাতির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে রয়েছে এরা। আট পা-ওয়ালা এই আণুবীক্ষণিক জীবটি দেখতেও অদ্ভুত ধরনের। একটাই সরু মুখ, কিন্তু কোনও চোখ নেই। আট পায়েই সাঁতরে ঘুরে বেড়ায় এরা।

বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, টারডিগ্রেডকে পৃথিবীর সবচেয়ে ‘শক্তিশালী’ প্রাণী বলাই যায়। না, বাঘ, হাতি, সিংহ কিংবা আদিম কালের ডাইনোসর, ম্যামথের মতো বিশালদেহী, হিংস্র নয় এরা। কিন্তু এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, শারীরিক গঠন, কাজ একেবারে অন্যরকম। যা এদের ‘শক্তিশালী’ করে তুলেছে। কীরকম? প্রথমত, টারডিগ্রেডদের মৃত্যু হয় না। এরা কার্যত অমর। এদের শরীরের একটি বিশেষ প্রক্রিয়াই অমর রাখতে সাহায্য করে।

কীরকম? টারডিগ্রেডের বিপাকের হার খুব কম। এদের শরীরের কোষগুলি একপ্রকার বিশেষ প্রোটিন দিয়ে ঘেরা থাকে। খুব কঠিন পরিস্থিতিতে টারডিগ্রেড নিজের দেহের ৯৫ শতাংশ জল বের করে দেয়। এই প্রোটিনগুলি একেবারে শক্ত হয়ে দেহটিকে আটকে রাখে। ঠিক শুঁয়োপোকার গুটির মতো। প্রায় সমস্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার পর টারডিগ্রেডের দেহ একদম মৃতের মতো হয়ে যায়। কিন্তু তাদের প্রাণ তখনও অক্ষুণ্ণ থাকে। কোষের বাইরের ওই প্রোটিনের শক্ত আস্তরণ ভেতরটাকে সুরক্ষিত রাখে। এভাবে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতে পারে টারডিগ্রেড। তারপর একটু জলের সংস্পর্শে এলেই প্রোটিনের শক্ত আস্তরণ নরম হয়ে যায়। টারডিগ্রেডও বেঁচে ওঠে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলে ক্রিপটোবায়োসিস।

এটা তো গেল একটা দিক। টারডিগ্রেডের আরও একটা ‘ভয়ংকর’ দিক রয়েছে। জলে স্থলে অন্তরীক্ষে, মহাকাশের যে কোনও জায়গায় বেঁচে থাকার সামর্থ্য রয়েছে এই প্রাণীটির। অন্তত ২৫-৩০ বছর কিছু না খেয়ে দিব্যি কাটিয়ে দিতে পারে এরা। তাছাড়াও শূন্য থেকে প্রায় ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও বহাল তবিয়তে থাকে টারডিগ্রেড। চরম ঠাণ্ডা বা প্রচণ্ড গরমেও তার কিছু হয় না। তাহলে? অমর আর শক্তিশালীর তকমা নিশ্চয়ই দেওয়া যায় এই আণুবীক্ষণিক প্রাণীটিকে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?