কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের 'সুরক্ষা কবচ' কোথায়? এত বড় দুর্ঘটনার দায় কার?

Kanchanjunga Express Accident: কবচ কাজ করলে তা দুই চালককেই সতর্ক করে দিতে পারত এবং ট্রেন থামিয়ে দিতে পারত।

inscript
৩ মিনিট
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের 'সুরক্ষা কবচ' কোথায়? এত বড় দুর্ঘটনার দায় কার?

ঠিক এক বছর আগের একদিন। এমন জুন মাসেই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা দেখেছিল দেশ। ২৮৯ জনের মৃত্যু ঘটেছিল সেবার। ওড়িশার বালেশ্বরে করমণ্ডল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়েছিল। আবারও জুন মাসেই মর্মান্তি দুর্ঘটনা উত্তরবঙ্গে। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে রেলের উন্নয়ন নিয়ে যা যা বুলি সরকার আওড়ায়, সবটাই আসলে জনগণকে বোকা বানানোই নয় তো? যাত্রীদের সুরক্ষা 'কবচ' জোগাতে ডাহা ফেল ভারতীয় রেল? তাহলে ঢালাও বিজ্ঞাপন, বেসরকারিকরণ, স্টেশনে ঝকঝকে শপিংমল-সম আলোর রোশনাইয়ের আড়ালে আসলে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে যাত্রীদেরই? প্রতিবছরই একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনা আঙুল তুলছে যাত্রী সুরক্ষার দিকে।

মানুষের ভুলে যাতে ট্রেনে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে তা রুখতেই ভারতীয় রেল 'কবচ' সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের লাইনে কীভাবে মালগাড়ি চলে এল? এখনও অবধি কেবল অনুমান করা হয়েছে যে, মালগাড়ির চালক ভুল করেই একই লাইনে এসে যান এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেন। এমন ভুল একমাত্র সিগন্যালের সমস্যাতেই হতে পারে। তাহলে সিগনাল না বোঝা বা সিগনাল দিতে ভুল করা একেবারেই মানুষের ভুল। সেই ভুল আটকানো গেল না কেন 'কবচ' দিয়ে? রেল সুরক্ষা মজবুত করতে যে অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা কাজ করল না কেন? সিগন্যাল ভুল হলেও দুর্ঘটনা আটকানোর জন্য তো বন্দোবস্ত করেছিল রেল। তা এখানে ছিল না?

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, রাঙাপানি স্টেশনে ঢোকার আগে সিগন্যালের কারণে দাঁড়িয়ে ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। সেই সময়ে ওই লাইনেই ঢুকে পড়েছিল মালগাড়ি। পিছন থেকে সজোরে সেটি ধাক্কা মারে। একেবারে শেষের কামরাটি উপরে উঠে যায় এবং শূন্যে ঝুলতে থাকে। মালগাড়িটিও লাইনচ্যুত হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লাইনচ্যুত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস, মৃত ৫! কীভাবে ঘটল ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা?

Kanchanjunga Express Accident: নীচবাড়ি এবং রাঙাপানি স্টেশনের মাঝে পিছন দিক থেকে একটি মালগাড়ি এসে যাত্রীবাহী ট্রেনে ধাক্কা মারে।

Unfortunate accident in NFR zone. Rescue operations going on at war footing. Railways, NDRF and SDRF are working in close coordination. Injured are being shifted to the hospital. Senior officials have reached site.

— Ashwini Vaishnaw (@AshwiniVaishnaw)

কবচ কাজ করলে তা দুই চালককেই সতর্ক করে দিতে পারত এবং ট্রেন থামিয়ে দিতে পারত। একই লাইনে দু'টি যদি ট্রেন নিরাপদ দূরত্ব পেরিয়ে কাছাকাছি চলে আসে তাহলে এই কবচ সক্রিয় হয়ে যায়। তাতে ব্রেক পড়ার কথা এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ট্রেনের গতিরোধ করার কথা। রিসার্চ ডিজাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশন এই নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছিল। কুয়াশা ও অন্য কোনও দৃশ্যমানতার অভাব কিংবা দ্রুত গতির ট্রেন সিগন্যাল ফেল করলেই কবচ সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বলা হচ্ছে, ওই বিভাগের ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং সিস্টেম ব্যর্থ হয়েছে। পিএলসি বা পেপার লাইন ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে ট্রেনগুলি পরিচালনা করা হচ্ছিল। এই ক্ষেত্রে, পিএলসি TA 912 নামে একটি নির্ধারিত ফর্ম জারি করা হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট স্টেশন ম্যানেজার সই করেন। রঙপানি স্টেশনে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে 0সকাল ৮ টা ২৭ মিনিটে TA 912 দেওয়া হয়েছিল। এরপর ট্রেনটি ছাতারহাট স্টেশন এবং বিহারের রানিপাত্র স্টেশনের মাঝে থামানো হয়। এখানে ট্রেনটি মালগাড়ির ধাক্কা খায়। প্রশ্ন উঠছে মালগাড়ির লোকো পাইলটকে TA 912 কে দিল? পণ্যবাহী ট্রেনটি কোনও সিগন্যাল ছাড়াই এগিয়ে গেল কীভাবে? যদি একটি বিভাগের স্বয়ংক্রিয় সংকেত সিস্টেমটি ব্যর্থ হয়, তাহলে সমস্ত সংকেতই স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল হয়ে যায়। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসকে কি রানিপাত্র স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগের সিগন্যালে থামানো হয়েছিল? যদি তাই হয়, তাহলে সেটা কি ছাতারহাট স্টেশন এবং রাঙাপানি স্টেশনকে জানানো হয়নি?

Shocked to learn, just now, about a tragic train accident, in Phansidewa area of Darjeeling district. While details are awaited, Kanchenjunga Express has reportedly been hit by a goods train. DM, SP, doctors, ambulances and disaster teams have been rushed to the site for rescue,…

— Mamata Banerjee (@MamataOfficial)

এখানে কবচ ছিল না তাহলে? ভারতীয় রেল ১০ হাজার কিমি রেললাইনের জন্য টেন্ডার ডেকেছিল। এর মধ্যে ৬ হাজার কিমি পথের টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-মধ্য রেলের ১৪৬৫ কিমি পথের ১৩৯টি ইঞ্জিনে কবচ লাগানো হয়েছে। কবচের বরাত পেয়েছে দিল্লি-মুম্বই (আমেদাবাদ-বদোদরা সেকশন) এবং দিল্লি-হাওড়া (লখনউ-কানপুর সেকশন) করিডর।

পূর্ব রেল, পূর্ব-মধ্য রেল, উত্তর-মধ্য, উত্তর রেল, পশ্চিম-মধ্য রেল এবং পশ্চিম রেলের প্রায় ৩ হাজার রুটে কবচ দেওয়া হয়েছে। এত কবচ গেল কোথায়? উত্তরবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেল পথে যে কবচ ব্যবস্থা রাখতেই হবে এ তো অজানা নয়? নিউ জলপাইগুড়ি-শিয়ালদহ লাইনে কবচ সুরক্ষা যদি নাই থেকে থাকে তাহলে এই টেন্ডারগুলিই বা কোথায় কাদের দেওয়া হলো? যাত্রী সুরক্ষায় এত চরম ব্যর্থ হওয়ার পরে কেন পদত্যাগ করবেন না রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।