মমতার ভুল না কি... সিঙ্গুর নিয়ে যা বলছেন সেই মাস্টারমশাই

Singur Rabindranath Bhattacharya : সিঙ্গুর কাণ্ডে রাজ্যসরকার ধাক্কা খেতেই বামেদের প্রতিই আক্রমণের তির ঘুরিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ।

inscript
৩ মিনিট
মমতার ভুল না কি... সিঙ্গুর নিয়ে যা বলছেন সেই মাস্টারমশাই

ছিলেন তৃণমূলেই। জীবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সরণ-গমন। মানুষ সততই গমনশীল। মানুষ, বিশেষ করে রাজনৈতিক মানুষ একটু বেশিই পর্যটক। দল, অবস্থান হামেশাই বদলে বদলে যায় তাই। সেভাবেই দল বদলেছিলেন তৃণমূলের রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গমন। ৩৪ বছরের বাম শাসনকে উপড়ে দিয়েছিল সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলন। টাটাকে ন্যানো কারখানা গড়তে দেওয়া হয়নি। শিল্প রাজ্যে না এসে গুজরাতে চলে গিয়েছিল। তারপর এ রাজ্যে শিল্প বললেই কেমন 'খিল্লি' করতে থাকেন আম জনতা, হতাশ জনগণ। সিঙ্গুর ছিল তৃণমূলের মোক্ষম তাস, তাস কখন কাঁটা হয়ে সর্বাঙ্গে বিঁধবে তৃণমূল বোঝেনি। ১৫ বছর পর সিঙ্গুর নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে সরকার। কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে টাটাকে। জমি আন্দোলনের সেই মুখ, মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ, যিনি তৃণমূল ছেড়ে চলে গেলেন বিজেপিতে, কী বলছেন তিনি এই ক্ষতিপূরণ নিয়ে?

বিরোধী বিপাকে পড়লে শাসকের খুশি হওয়াই দস্তুর। রবীন্দ্রনাথ এখন যে দলে রয়েছেন, সেই দল সারা দেশের শাসক। তৃণমূল রাজ্যের শাসক, রাজ্যের যুযুধান প্রতিপক্ষও। সিপিএমের অবস্থা রাজ্যে কী তা নতুন করে কহতব্য নয়। ব্রিগেডে ভিড় যদি বা মেলে, ভোট মেলে না। সকলেই জানেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সিঙ্গুরে জমি আন্দোলনের ফলেই টাটাকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হয়। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে এমনটাই বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য বিজেপিতে গিয়ে সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর বিদায় নিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনকেই দায়ী করেছিলেন। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ উল্টোবয়ান। চিত্রনাট্যে আবার হাজির হয়েছে বামফ্রন্ট! সিঙ্গুর কাণ্ডে রাজ্যসরকার ধাক্কা খেতেই বামেদের প্রতিই আক্রমণের তির ঘুরিয়ে দিলেন রবীন্দ্রনাথ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিঙ্গুরের ভুলের খেসারত ১৩৫৫ কোটি! রতন টাটার ছোট্ট চালেই কিস্তিমাত?

Tata Motors: সোমবার আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ন্যানো কারখানার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭৬০ কোটি টাকা টাটা মোটর্সকে মেটাতে হবে রাজ্য সরকারকে। আর সুদ-বাবদ দিতে হবে আরও ৬ কোটি টাকা।

রবীন্দ্রনাথ জানাচ্ছেন, টাটা সিঙ্গুর ছেড়ে চলে যাক তা তিনি কখনই চাননি। টাটা গোষ্ঠী রাজ্য থেকে চলে যাওয়ায় জন্য সিঙ্গুর-সহ রাজ্যের ক্ষতি যে হয়েছে তা স্বীকার করছেন রবীন্দ্রনাথ, কিন্তু তার জন্য বর্তমান সরকার কিছুতেই দায়ী নয়। যদি কেউ দায়ী হয়ে থাকে তাহলে তা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার।‌ ন্যানো কারখানা গুটিয়ে টাটারা চলে যাওয়ার জন্য জমি আন্দোলন কিছুটা দায়ী বলেও মন্তব্য তাঁর।

সিঙ্গুরে টাটার কারখানা না হওয়ায় টাটা গোষ্ঠীকে সুদসহ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড বা WBIDC-কে। টাটার পক্ষে রায় দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী ট্রাইবুনাল। ক্ষতিপূরণের অঙ্কটা মাথা খারাপ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট! সুদ মিলিয়ে প্রায় ১৩৫৫ কোটি টাকা সরকারকে দিতে হবে টাটাকে। রবীন্দ্রনাথ বলছেন, টাটাদের দিক থেকে ভাবতে গেলে এই ক্ষতিপূরণ যুক্তিসঙ্গত কারণ একটি কারখানা নির্মাণে জন্য অনেকটা কাজ হয়ে যাওয়ার পরে তা বন্ধ করে দেওয়া মানে প্রভূত ক্ষতি। এবার এই এত টাকা তৃণমূল দেবে কিনা তা সরকারের ব্যাপার। তিনি তো আর সরকারে নেই, তাই সরকার কী ভাবছে, সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে যাবে কিনা তাও তাঁর জানা নেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা-মন্তব‍্যে ফের বিতর্কিত সিঙ্গুর! এক নজরে ফিরে দেখা সেই ইতিহাস

Singur Timeline: কী বলছে সিঙ্গুরের ইতিহাস? দেখে নিন এক নজরে।

সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই এই এতবছর পর বলছেন, “আমরা সিঙ্গুর আন্দোলনকারী হিসাবে তখন চেয়েছিলাম ৬০০ একর ছবিতে টাটাদের কারখানা হোক। বাকি জমি কৃষকদের ফেরত দেওয়া হোক।” ২০২১ সালের নির্বাচনের আগেই বিজেপিতে চলে যান রবীন্দ্রনাথ। বিরোধী হয়ে সিঙ্গুর থেকে টাটা বিদায়ের জন্য মমতার আন্দোলনকেই দায়ী করেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু বরাবরই বলে এসেছেন টাটাবিদায়ের নেপথ্যে তিনি নেই, রয়েছে সিপিএমই। সিপিএম জোর করে জমি নিতে গিয়েই সমস্ত বিপত্তির সূত্রপাত ঘটায়। বিরোধী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই কথা বলছেন রবীন্দ্রনাথ। তাহলে কি আবার বিজেপি থেকে পুরনো বাড়িতে ফিরবেন রবীন্দ্রনাথ?

মাস্টারমশাইকে মূলধারার রাজনীতিতে আর দেখাই যায় না। শরীরের কারণেই রোজের রাজনীতি থেকে তিনি দূরে। বিজেপি প্রার্থী হয়ে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য লড়েছিলেন 'শিষ্য' বেচারাম মান্নার বিরুদ্ধে। রবীন্দ্রনাথ ২৫,৯৩৩ ভোটে হেরে যান। সিঙ্গুরে বিজেপির হয়ে কোনও পদ্মই ফোটাতে পারেননি তিনি। বিজেপিও দলত্যাগী মাস্টারমশাইকে একেবারে জড়িয়ে ধরে দলে টেনে নেয় তাও না। বেচারাম মান্নার কাছে হারের পরই সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সক্রিয় রাজনীতি থেকে ক্রমেই সরে যেতে থাকেন। বিজেপিও যে নিজে থেকে খুব একটা যোগাযোগ রাখে না তা পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে কথা বলা অস্বাভাবিক নয়। দলে নাই বা ফিরলেন, শাসকের বিরাগভাজন হয়েই বা কে থাকতে চায় আর!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।