শিশুদের ক্ষেত্রে ওমিক্রণের সংক্রমণ বেশি আশঙ্কাজনক? পরিস্থিতি যা বলছে…

ভারত এখনও ওমিক্রনের আসল রূপ দেখেনি, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাস্ট্র, ব্রিটেন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ওমিক্রনের করাল রূপ দেখেছেন পৃথিবীবাসী। ইতিমধ্যেই ওমিক্রনের একটি চারটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলি হল বিএ.১, বিএ.২, বিএ.১.১. এবং বিএ.১.১.৫২৯। খুব সম্প্রতি দেখা গেছে কোভিড পজিটিভের মধ্যে ৯৯ শতাংশই ওমিক্রনের বিভিন্ন সাব-ভ্যারিয়েন্টের কারণে আক্রান্ত। স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে শিশুদের কথা ভেবে, যাদের ক্ষেত্রে ওমিক্রন আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি।

মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে দেখা যাচ্ছে, কোভিডের অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের  তুলনায় ওমিক্রনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সংখ্যক শিশুকে হাসপাতাকে ভর্তি করতে হয়েছে। আশার বিষয় হল, ওমিক্রনে আক্রান্ত যে সমস্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা নোভেল করোনাভাইরাসের অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় কম। এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ওমিক্রনের প্রভাবে শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেক কম। 

কিংস কলেজ লন্ডনের মহিলা ও শিশু বিশেষজ্ঞ মাইকেল অ্যাবসাউন্ডের মতে (সূত্র: নেচার নিউজ), ওমিক্রনে আক্রান্ত যে সমস্ত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাদের কারোরই শারীরিক অবস্থা অন্তত কোভিডের অন্য ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত শিশুদের তুলনায় খারাপ হয়নি।

এমনকী দেখা যাচ্ছে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলিতে এক বছরের কম বয়সি শিশুরাও ভর্তি হয়েছে। আশার বিষয় বেশিরভাগেরই অক্সিজেন সাপোর্ট, ভেন্টিলেশন, এমনকী জটিল ডাক্তারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়নি।

তবে বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও স্পষ্ট নয় কেন ওমিক্রনের ক্ষেত্রে প্রাপ্রবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের বেশি হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা ওমিক্রনের বিএ.১ এবং বিএ.২ এই দুটি সাব-ভ্যারিয়েন্টই খুব সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে এমনটা হচ্ছে; পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে ভ্যাক্সিনেশনের হাত যথেষ্ঠ কম। বেশীরভাগ দেশেই পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের ভ্যাক্সিনেশনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি, এমনকী অনেক দেশে বারো বছরের নীচে ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে না শিশুদের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে এই হারে শিশুরা ওমিক্রনে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তার বড় কারণ হতে পারে সেখানে কেবল পাঁচ থেকে এগারো বছর বয়সি শিশুদেরকেই ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকদের ধারণা ওমিক্রণ শ্বাসনালির উপরের ভাগের কোশগুলির মত চট করে ফুসফুসের কোশকে আক্রান্ত করতে পারবে না। মানে বোঝাই যাচ্ছে ফুসফুসের কোশ যেহেতু কম ক্ষতিগ্রস্থ হবে, শারিরীক ক্ষতির সম্ভাবনাও কমই থাকবে।

তবে সমস্যা হল, শিশুদের শ্বাসনালির পথ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক কম দীর্ঘ। তাই সে শিশুদের ক্ষেত্রে একটু বেশি সাবধানে থাকাই শ্রেয়, সেরকমই জানাচ্ছেন ওয়াশিংটনের চিলড্রেনস ন্যাশানাল হসপিটালের শিশুবিশেষজ্ঞ রবার্টা ডেবিয়াসি। তিনি জানাচ্ছেন, বেশ কিছু সংখ্যক শিশুদের শ্বাসনালির উপরের ভাবে ইনফ্ল্যামেশন দেখা যাচ্ছে, ফলে বার্কিং কাফের মত সমস্যা দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে। এর থেকে ধারণা করা যাচ্ছে, শিশুদেরকে ক্ষেত্রে ওমিক্রণের সংক্রমণের ধরণ, প্রাপ্তবয়স্কদের ওমিক্রন সংক্রমণের ধরণের থেকে বেশ আলাদা হবে।

More Articles

;