৩০০ আসনও জুটবে না বিজেপির! অঙ্ক কষে যে সত্য প্রকাশ করলেন যোগেন্দ্র যাদব

Yogendra Yadav BJP Lok Sabha Polls: ২০১৯ সালে বিজেপি পেয়েছিল মোট ৩০৩ টি আসন। মিত্রশক্তিদের নিয়ে এনডিএ পায় ৩৫৩ টি আসন।

inscript
৩ মিনিট
৩০০ আসনও জুটবে না বিজেপির! অঙ্ক কষে যে সত্য প্রকাশ করলেন যোগেন্দ্র যাদব

দেশ জুড়ে হাওয়া, এবারও নরেন্দ্র মোদিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, এবারও বিজেপিই ক্ষমতায় আসবে। সংবাদমাধ্যম, এক্সিট পোল সর্বত্র এই বিষয়টি প্রচার করা হচ্ছে। বিরোধী জোট আসলে দুর্বল, বিরোধীরা যে মাথা তুলে দাঁড়াতেই পারবে না তেমনটাও ঘটা করে প্রচারে আসছে। 'আব কি বার ৪০০ পার'-এর ধুয়ো তোলা হয়েছে। বাস্তব কি তেমনই? সত্যিই ৪০০ পার করা সম্ভব একটি দলের পক্ষে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ কিন্তু বলছে, ৪০০ তো দূর অস্ত, বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাই পাবে না এবার। এমনকী সঙ্গীদের নিয়ে, অর্থাৎ এনডিএ জোট হিসেবেও অনেক পিছিয়ে আছে বিজেপি। সমাজকর্মী এবং রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদব হিসেব কষে দেখিয়ে দিয়েছেন বিজেপি মোটেও সুবিধার জায়গায় নেই।

যোগেন্দ্র যাদব নিজের এক্স-হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। তিনি বলছেন, যে সত্যটা লুকিয়ে রাখা হচ্ছে, আড়াল করা হচ্ছে দেশের সেই সবচেয়ে বড় সত্যিটা তিনি তুলে ধরতে চাইছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন অন্যদিকে ঘুরে গেছে। যোগেন্দ্র বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে আমি কর্ণাটক, তেলঙ্গানা, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহারে গেছেন। ৩৫ বছর ধরে ভারতীয় নির্বাচন দেখছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে যোগেন্দ্র যাদবের দাবি, এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ২৭২ আসনের অনেক নীচে আছে বিজেপি। এমনকী এনডিএ-ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে এবার, দাবি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মোদি আর বিজেপি দুই-ই এবার ব্যাকফুটে || মুখোমুখি পরাকলা প্রভাকর

Exclusive Interview of Parakala Prabhakar: বিজেপি কি সত্যিই ২৩০-এর বেশি আসন পাবে না? হিন্দু-মুসলিম ন্যারেটিভের বাইরে গিয়ে ইলেক্টোরাল বন্ড নিয়ে আদৌ চিন্তিত মানুষ? ইনস্ক্রিপ্টের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় পরকলা প্রভাকর।

যোগেন্দ্র গোটা বিষয়টি হিসেব কষে দেখিয়েছেন।তিনি বলছেন, ২০১৯ সালে বিজেপি পেয়েছিল মোট ৩০৩ টি আসন। মিত্রশক্তিদের নিয়ে এনডিএ পায় ৩৫৩ টি আসন। গত পাঁচ বছরে বিজেপি বহু রাজ্যে শক্তি বাড়িয়েছে, হারিয়েওছে। যোগেন্দ্র বলছেন, কর্ণাটকে ২৮ টি আসনের মধ্যে ২৬ টি আছে এনডিএ-র কাছে। এবার কম করে ১০ টা আসনে তাঁদের ক্ষতি হতে পারে। অর্থাৎ আগের চেয়ে ১০ টি আসন কমতে পারে তাঁদের। মহারাষ্ট্রে ৪৮টি আসনের মধ্যে ৪২টি আছে এনডিএ-র। কম করে ২০ টি আসন এখানে হারাবে তারা, দাবি যোগেন্দ্রর। রাজস্থান আর গুজরাতে ৫১ টা আসনের মধ্যে ৫১ টাই এনডিএ-র হাতে। তবে এবার দুটো রাজ্য মিলে ১০ টা আসন হারাতে চলেছে বিজেপি, বলছেন যোগেন্দ্র।

তাঁর হিসেবে, হরিয়ানা, পঞ্জাব, চণ্ডিগড়, হিমাচল প্রদেশ আর দিল্লি মিলিয়ে আরও ১০ টা আসন হারাতে চলেছে এনডিএ। মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড আর ছত্তিশগড় মিলিয়েও ১০ টি আসন অন্তত হাতছাড়া হবে বিজেপির। এমনকী খোদ উত্তরপ্রদেশেও আসন কমবে বিজেপির। উত্তরপ্রদেশ আর উত্তরাখণ্ড মিলিয়ে আরও ১৫ টি আসন হারাতে চলেছে এনডিএ, বলছেন যোগেন্দ্র।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একই গুরুর শিষ্য! নীতীশ নিয়ে যা বললেন যোগেন্দ্র যাদব

Yogendra Yadav Bharat Jodo Nyay Yatra : "নীতীশ কুমারকে একটাই প্রশ্ন। এই খেলা আর কদ্দিন? এই আসনে তো কম দিন বসেননি। এবার আসন নিয়ে কি কেউ উপরে যায়?” প্রশ্ন যোগেন্দ্রর

বিহারে ৪০ টা আসনের মধ্যে ৩৯ টা এনডিএ-র। সেখানেও ১৫ টা আসন হারাতে পারে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপূর্ব ভারত আর অন্যান্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মিলে আরও ১০ টির মতো আসন এনডিএ-র হাতছাড়া হবে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ভোটের ২০১৯ সালের তুলনায় মোটামুটি ১০০ আসন হারানোর আশঙ্কা আছে। ১০০ টা আসনের মধ্যে ৭৫ টা বিজেপির বাকিটা সহযোগীদের।

শুধুই ক্ষতি? বহু রাজ্যে তো দাপট বেড়েওছে গেরুয়াদলের। যোগেন্দ্র বলছেন, তামিলনাড়ু আর তেলঙ্গানা মিলে বিজেপি আগের চেয়ে ৫ টা আসন বেশি পেতে চলেছে সম্ভবত। অন্ধ্রপ্রদেশে যেহেতু টিডিপি সঙ্গে আছে তাই ১০ টা আসনে লাভ হতে পারে তাদের। আসন হারানোর অঙ্ক মিলিয়ে দেখতে গেলে, সব মিলিয়ে বিজেপির ৬৫ টা আসন হারানোর আশঙ্কা, সহযোগীদের ১৫ টা আসন হারানোর আশঙ্কা।

এই হিসেবে দেখতে গেলে, বিজেপি ৭০ টা আসন হারিয়ে ২৩৩ টি আসনে থামবে, আর সহযোগীরা ৩৫ টি আসন পেয়ে মোট ২৬৮। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এনডিএ এবারের নির্বাচনে কম আসন পেতে পারে। যোগেন্দ্র বলছেন, সব রাজনৈতিক বিশ্লেষক, মিডিয়া মিলে বিজেপি জিতে গেছে বলেই প্রচার করছে। সবাই বলছে, 'আয়েগা তো মোদি হি'। এই ভুল ধারণা ভেঙে সত্যটা পৌঁছনো জরুরি সকলের কাছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।