যৌনাঙ্গে ক্ষত, শরীরের ২৪ জায়গায় চোট! নারকীয় অত্যাচারের প্রমাণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে

R G Kar Doctor Rape and Murder: এখানেই শেষ নয়, অত্যাচারের খতিয়ান আরও দীর্ঘ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার কোথায় কী ভাবে ক্ষত হয়েছিল।

inscript
৩ মিনিট
যৌনাঙ্গে ক্ষত, শরীরের ২৪ জায়গায় চোট! নারকীয় অত্যাচারের প্রমাণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে

আরজি করে চিকিৎসককে নৃশংস ভাবে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল দেশ। দেশের সীমানা পেরিয়ে সেই আঁচ ছড়িয়ে গিয়েছে অন্যান্য দেশেও। আরজি করের নির্যাতিতার সুবিচারের দাবিতে রবিবার দিনভর উত্তাল ছিল কলকাতা। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ডুরান্ড কাপের ডার্বি ম্যাচ বাতিল করার পরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের সামনে জড়ো হন তিন ফুটবল ক্লাবের সমর্থকেরা। 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগানে ভরে ওঠে আকাশ-বাতাস। এদিন বিকেলেই তিলোত্তমার সুবিচারের দাবিতে টেকনিশিয়ান স্টুডিও থেকে মিছিল করেন তারকারা। খান্না থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত আসে সেই মিছিল। এসবের মধ্যেই সোমবার সামনে এল আরজিকরের নির্যাতিত চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। যা কার্যত শিউরে দিয়েছে গোটা দেশকে।

গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের বক্ষ বিভাগের সেমিনার রুমের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় নির্যাতিতার ক্ষতবিক্ষত দেহ। সেই ঘটনার প্রতিবাদে কর্মবিরতির ডাক দেন জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে ডাক্তারির পড়ুয়া, স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতালেই। যার জেরে অসুবিধার মুখে পড়েন অজস্র রোগী। ইতিমধ্যেই আরজি কর কাণ্ডে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলিন্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে চেস্ট ডিপার্টমেন্টে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল ঘটনার দিন। এরই মধ্যে ইনস্ক্রিপ্টের হাতে এসেছে নিহত চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরজিকর কাণ্ড: কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা গ্রহণ সুপ্রিম কোর্টের?

Supreme Court on RG Kar Incidents: আগামী ২০ অগস্ট, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষত রয়েছে নির্যাতিতার। এমনকী এন্টি মর্টেনামে দেখা গিয়েছে, বিপুল পরিমাণ রক্তপাতে হাইমেন পর্যন্ত ফেটে যায় তাঁর। চিকিৎসকের বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকের শরীরের মোট ২৪টি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টে বলা হয়েছে। মাথা, গাল, ঠোঁট, নাক, ডান চোয়াল, চিবুক, গলা, দুই কাঁধ, বাঁ হাঁটু, গোড়ালি এবং যৌনাঙ্গ বাদ যায়নি কিছুই। থাইরয়েড হাড়ে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। রক্ত জমাট বেঁধে ছিল ফুসফুসেও। পুলিশ ওই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর জানা যায়, খুন-ধর্ষণের আগে মারধরে প্রবল বল প্রয়োগ করা হয়েছিল নির্যাতিতার উপর। তারই ইঙ্গিত মিলেছে ময়না তদন্তের রিপোর্টে। কোন আঘাত কীভাবে হয়েছে, তারও ইঙ্গিত রয়েছে রিপোর্টে। নিজেকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন নির্যাতিতা। ধস্তাধস্তি হয়েছিল। সেই বাধা দেওয়ারও প্রমাণও মিলেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে।

এখানেই শেষ নয়, অত্যাচারের খতিয়ান আরও দীর্ঘ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার কোথায় কী ভাবে ক্ষত হয়েছিল। চোখের ক্ষত তৈরি হয়েছে ভাঙা চশমার কাচ থেকে। ধর্ষকের সঙ্গে প্রবল ধস্তাধস্তিতে চশমার কাচ ভেঙে যায় তাঁর। সেই কাচ ঢুকে যায় চোখে, রক্তপাত হয়। তার সঙ্গে রয়েছে মাথাতেও আঘাত। ধস্তাধস্তির সময় চিৎকার রুখতে নির্যাতিতার মুখ চেপে দেওয়ালে ঠুকে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে তদন্ত রিপোর্ট থেকে। শ্বাসরোধ করতে গলা টেপা হয়। শ্বাসরোধের কারণেই মৃত্যু বলে মনে করা হচ্ছে। ভেঙে যায় থাইরয়েড কার্টিলেজ। চিৎকার রুখতে মুখ ও গলা ক্রমাগত টিপে ধরা হয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বৃষ্টিমাথায় রাস্তায় টলিপাড়া, মিছিল থেকে যে প্রশ্ন তুলছেন পরম-শাশ্বতরা

Tolly Celeb Protest: সেই পরিকল্পিত পথেই হেঁটেছে তারকাদের মিছিল। সকলের দাবি একটাই। আর জি কর হাসপাতালে যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তার বিচার চাই। নির্যাতিতা চিকিৎসকের জন্য সুবিচার চেয়ে পথে নেমেছে সিনেমাপাড়া।

ইতিমধ্য়েই মৃতদেহ থেকে পাওয়া ডিএনএ স্যাম্পলিং স্টেট ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছিল, মৃতার শরীরের এন্ডোসারভিকাল ক্যানেলের ভিতরে সাদা পুরু সান্দ্র তরলের উপস্থিতি মেলে। যা-সহ যোনীর ওজন ছিল ১৫১ গ্রামের মতো। এই তরলটিতে আসলে কী কী রয়েছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই ওই দেহরস পাঠানো হয়েছে স্টেট ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষার জন্য। পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট বলছে, মৃতার লিভারের ওজন ছিল ১১৩৪ গ্রাম, দুই কিডনি ৮২ ও ৮৮ গ্রাম। তাঁর শরীরে পাওয়া ওই দেহরসের ধৃতের ডিএনএ ম্যাপিং করে দেখা হবে বলে বিশেষ সূত্রের খবর। সন্দেহভাজনের সঙ্গে যদি এই দেহরসে পাওয়া ডিএনএ নমুনা মিলেছে যায়, সেক্ষেত্রে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে বলেই মনে করছে পুলিশ।

অনেকেই মৃতার শরীরে পাওয়া এই দেহরসের পরিমাণ শুনে গণধর্ষণের আশঙ্কা উস্কে দিয়েছিলেন। এমনকী এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলেও মনে করেছেন কেউ কেউ। সেই দাবি আগেই উড়িয়ে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল জানিয়েছিলেন, এটা ভুয়ো তথ্য। মিডিয়ায় ছড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। কারণ এই দেহরস মানে যে গোটাটাই সিমেন বা বীর্য, এমনটা না-ও হতে পারে। তবে ওই চিকিৎসকের উপর যে নারকীয় যৌন অত্যাচার হয়েছে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেখে। আপাতত ওই ডিএনএ ম্যাপিং রিপোর্ট ও স্টেট ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো নমুনার রিপোর্টের জন্যই অপেক্ষা করছেন গোয়েন্দারা। আর তা মিললেই একটু দিশা দেখা যাবে এই মামলায়, তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।