জনপ্রিয় গানের সুর নকল করেই বাজিমাত? কোন জাদুতে ৫০ বছরেও অমলিন 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে'!

Zeenat Aman Churaliya Hay Tumne: সবাই এই দৃশ্যে জিনাতের ফ্যাশনে এতই ঘায়েল হয়ে যান যে পরে পরিচালক জিনাতকে নিজের ড্রেসিং স্টাইল বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেন।

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
জনপ্রিয় গানের সুর নকল করেই বাজিমাত? কোন জাদুতে ৫০ বছরেও অমলিন 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে'!

১৯৭০ এর দশ। বলিউড সাহসী হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। নায়িকারা ভাঙছেন নিজেদের, নায়করাও। বলিউডের গান তখন, শব্দে, কথায়, সুরে, যন্ত্রে টেক্কা দিচ্ছে নিজেকেই, প্রতিনিয়ত। শুধু শব্দে কথায় নয়, দৃশ্যেও। গান শোনার থেকেও ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে দেখার। পর্দায় অভিনেত্রীদের চাহনি, লাস্য, মায়া, নায়কের কেরামতি তখন তুঙ্গে। তখনও অবশ্য মেয়েরা আর ছেলেরা প্রেম করে ভিন্নভিন্ন ভাবেই। মেয়েরা প্রোপোজ করে না, ফ্লার্টও না। তাঁদের করা হয়। খুব সামান্য কয়েকজন বেড়া ভাঙার সুযোগ পেয়েছেন। জিনাত আমান মানেই তখন বুক ঢিপ ঢিপ, কী যে রহস্য রয়েছে তাঁর চাহনিতে, হাসিতে। সে ধরাও যায় না, অথচ ধরতে সাধও হয়। সাদা জাম্পস্যুট পরে, গিটার নিয়ে জিনাত গাইছেন, মানে লিপ দিচ্ছেন আর কী। খোলাখুলি জানাচ্ছেন, মন কেড়ে নিয়েছেন নায়ক। মদের গ্লাসে শব্দ করে শুরু করছেন সেই বিখ্যাত গান, 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিলকো...”

৫০ বছর পার করেও একই মোহে এনে ফেলে এই গান। ১৯৭৩ সালের 'ইয়াঁদো কি বারাত' সিনেমার এই গান, আজও ভারতীয় প্রেমের অন্যতম থিম সং! গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে এবং মহম্মদ রফির বিখ্যাত জুটি। আর পর্দায় এই গানকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন জিনাত আমান ও বিকাশ আনন্দ। সুরকার হিসেবে তখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে রাহুল দেব বর্মণ। প্রতিটা গানে বুঁদ হয়ে যায় ভারতবর্ষ, 'চুরা লিয়া হ্যায়' গানটিও মুক্তি পেতে না পেতেই সুপারহিট! গানের কথা লিখেছিলেন বিখ্যাত উর্দু কবি মাজরুহ সুলতানপুরী। এই গানের বিখ্যাত যে অংশটা, জিনাতের গিটার বাজানো, যা দেখে কেঁপে গিয়েছিল যুব সম্প্রদায়ের অজস্র হৃদয়, আসলে তা বাজিয়েছিলেন ভূপিন্দর সিং।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"মওত মুবারক হো মীনা", প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুতে কেন শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন নার্গিস?

Meena Kumari Tragedy: সিরোসিস অব লিভার রোগে আক্রান্ত হন মীনা। তার মধ্যেও সেরেছেন 'পাকিজা' ছবির অভিনয়।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান আইডল নামের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো, এই গানটিকে চর্চায় নিয়ে এসেছে। প্রতিযোগিতায়, এক শিল্পী দেবস্মিতা রায় গানটি গাওয়ার পরে ওই শোয়ে উপস্থিত জিনাত আমন আপ্লুত হয়ে যান। জিনাত জানিয়েছেন, গানটা যে ৫০ বছর পার করেও এমনই জনপ্রিয় থাকবে তিনি আশাও করেননি। শুধু জিনাতই নন, ২০২০ সালে, এই গানটির গায়িকা আশা ভোঁসলেও 'চুরা লিয়া হ্যায়' গানটিকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় গানের একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে মজার ঘটনা হলো, এই সিনেমায় ওই ভূমিকার জন্য প্রথমে ভাবাই হয়নি জিনাতকে। আশা পারেখ পরিচালক হোসেনের আগের সাতটি সিনেমায় মুখ্য নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭৩, যখন ইয়াঁদো কি বারাত তৈরি হচ্ছে, তখন আশার বয়স ৩০ বছর। পরিচালকের মনে হলো, সুনীতা নামে একটি কলেজের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য আশা পারেখের বয়স অনেকটাই বেশি হয়ে যাচ্ছে। তখন অফার করা হলো জিনাত আমানকে। 'সত্যম শিবম সুন্দরম’, 'হরে রাম হরে কৃষ্ণ’, 'কুরবানি’, 'ডন’, 'মনোরঞ্জন'-এর মতো বেশ কয়েকটি হিট সিনেমার নায়িকা জিনাত শুরুর থেকেই অন্য ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর যুগে অনেক অভিনেত্রী সেই চরিত্রগুলোয় কাজ করতে চাননি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গান প্রতি ১৫ টাকা! গানের চাবুকে বলিউড শাসন করেছিলেন সামসেদ বেগম

Shamshad Begum: বাবা গোঁড়া মুসলমান। বললেন, সব ঠিক আছে, কিন্তু মেয়ে গান গাইবে বোরখা পরে। মেয়ের কোনও ছবিও তোলা যাবে না। তাতেই রাজি সে।

আর ডি বর্মণের সুরে 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে যো' গানটি নাকি একটি বিখ্যাত ইংরেজি গান "if It's Tuesday, It Mus Be Belgium"- র নকল। গানটির সুরের মিল অবশ্য অস্বীকার করাও যায় না। এই গানটির কথার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে মজার এক গল্প। নাসির হোসেন গীতিকার মাজরুহ সুলতানপুরীকে একটি গানের কথা লিখতে বলেছিলেন কারণ তিনি অন্যান্য শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় সবটা করে উঠতে পারছিলেন না। নাসির বলেছিলেন, সুর এবং সময়সূচি সব একদম প্রস্তুত। শুধু কথাটা পেলেই কাজ সারা হয়ে যায়। নাসির হোসেন তখন আউটডোরে, পুনেতে শুটিং করছেন। মাজরুহ সুলতানপুরী ঠিক করেন তাঁর সঙ্গেই যাবেন। সন্ধ্যায় নাসির যখন ঘরে ফিরে আসেন, মাজরুহ তাঁর দিকে একটা পাতা এগিয়ে দেন। তাতে লেখা আছে, বিখ্যাত এই গানের কথা, 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো'।

হরে রাম হরে কৃষ্ণ সিনেমার অভিষেক করে জড় তুলেছিলেন জিনাত। তারপরে এটিই ছিল প্রথম বড় সিনেমা যেখানে নায়িকা হিসেবে ভাবা হয় জিনাত আমানকে। শোনা যায়, প্রথমে জিনাতকে ভারতীয় পোশাক পরতে বলা হয়েছিল কিন্তু জিনাতের তো সেসব পরে অস্বস্তি বেড়ে যায়। শেষে চুরা লিয়া হ্যায় গানের জন্য তিনি জাম্পস্যুট পরেন। সবাই এই দৃশ্যে জিনাতের ফ্যাশনে এতই ঘায়েল হয়ে যান যে পরে পরিচালক জিনাতকে নিজের ড্রেসিং স্টাইল বেছে নেওয়ার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেন।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।