৫ দিনে মৃত্যু ছয় শিশুর, বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস?

Chandipura Virus: ১৯৬৫ সালে প্রথমবার মহারাষ্ট্রের চাঁদিপুরা গ্রামে এই ভাইরাসের (CHPV) হদিশ মেলে। সে বছর নাকি এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপে শতাধিকের মৃত্যু হয়েছিল।

Sohini Das
৩ মিনিট
৫ দিনে মৃত্যু ছয় শিশুর, বাড়ছে আক্রান্তর সংখ্যা! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস?

কিছুদিন আগেই মস্তিষ্কের ঘিলুখেকো অ্যামিবা আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কেরলে। প্রায় তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল সেই ভাইরাসের প্রকোপে। এবার গুজরাটে নয়া আতঙ্ক। করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে থিতু হতে না হতেই নয়া মহামারীর আশঙ্কা। নয়া এই আতঙ্কের নাম চাঁদিপুরা ভাইরাস, যা গত পাঁচ দিনে প্রাণ কেড়েছে অন্তত ৬টি শিশুর। ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। এর পরই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে কার্যত ‘অ্যালার্ট মোডে’ চলে এসেছে গুজরাটের স্বাস্থ্যদপ্তর।

জানা গিয়েছে, চলতি মাসে প্রথম চাঁদিপুরা ভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় গুজরাটে। সূত্রের খবর, গুজরাতের সবরকণ্ঠা জেলার একটি হাসপাতালে চাঁদিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে চারটি অসুস্থ শিশুকে ভর্তি করা হয়। গত ২৭ জুন থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ঘটেছে ঘটনাগুলি। হিম্মত নগরের ওই সরকারি হাসপাতালে গত ১০ জুলাই ৪ শিশুর মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসকদের তরফে দাবি করা হয় চাঁদিপুরা ভাইরাসই দায়ী মৃত্যুর পিছনে। যদিও নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃতদেহের রক্তের নমুনা পাঠানো হয় পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে। পরে ওই হাসপাতালেই আরও ৪ শিশুর শরীরে একই রকম লক্ষ্মণ দেখা যায়। এর পরই সতর্ক হয় প্রশাসন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মস্তিষ্ক কুড়ে খাচ্ছে অ্যামিবা, পর পর মৃত্যু! ভয়ঙ্কর সংক্রমণ ঘিরে আতঙ্ক

Brain-Eating Amoeba: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একবার মাথায় প্রবেশ করলে প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে এই অ্যামিবা।

তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ১২ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে পাঠানো হয়েছে। চাঁদিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৬টি শিশুর মৃত্যুর খবর মিলেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুশিকেশ প্যাটেল খোদ বিবৃতি জারি করে সে কথা জানিয়েছেন। তবে তাঁদের প্রত্য়েকেই এই চাঁদিপুরা ভাইরাসের শিকার কিনা তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনও তাদের নমুনার বিশ্লেষণের ফলাফলের হাতে আসেনি। সূত্রের খবর, মৃত ৬ জনের মধ্যে পাঁচটি শিশুই ভর্তি ছিল হিমতনগর সিভিল হাসপাতালে। আক্রান্ত ১২ জনের মধ্যে সবরকণ্ঠে আক্রান্ত ৪ জন, আরাবল্লিতে ৩ জন, মহিসাগর এবং খেদা জেলা থেকে এক জন করে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। আরও দু'জন রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। তবে তাঁদের চিকিৎসা চলছে গুজরাতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চিনে হু হু করে শিশুরা আক্রান্ত নিউমোনিয়ায়, ফিরছে মাস্ক! নেপথ্যে ফের 'অজানা ভাইরাস'?

China Pneumonia Outbreak : চিনে ফ্লু, কোভিড-১৯ এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ভ্যাকসিন ফের ব্যবহার করা হচ্ছে।

১৯৬৫ সালে প্রথমবার মহারাষ্ট্রের চাঁদিপুরা গ্রামে এই ভাইরাসের (CHPV) হদিশ মেলে। সে বছর নাকি এই মারণ ভাইরাসের প্রকোপে শতাধিকের মৃত্যু হয়েছিল। চাঁদিপুরা গ্রাম থেকে আবির্ভূত ভাইরাসকে তাই চাঁদিপুরা ভাইরাস বলা হয়। মারাত্মক এই ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণ হল, তীব্র জ্বর বা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ফ্লু উপসর্গ দেখা যায়। পাশাপাশি এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যে তীব্র জ্বর এসে যায়। তারপরই শুরু হয় কাঁপুনি, খিঁচুনি, ডায়ারিয়া, বমি, মাথা যন্ত্রণার মতো লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রকোপ সাধারণত বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, Rhabdoviridae পরিবারের সদস্য এই ভাইরাস সাধারণত মাছি ও মশার মতো দেখতে বালিমাছি থেকে ছড়ায়। বালিমাছিকে ইংরেজিতে স্যান্ডফ্লাই বলা হয়। এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি শিশুরা। গুজরাত ছাড়া এখনও পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশ, বিহার. অন্ধ্রপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে। স্বাস্থ্য়মন্ত্রী অবশ্য জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস ছোঁয়াচে নয়। যেসব জায়গা থেকে আক্রান্তের হদিশ মিলেছে, সেই সব জায়গায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। রাজ্যের ৪ হাজারের বেশি বাড়িতে প্রায় ১৮.৬৪৬ জনকে স্ক্রিন করা হয়েছে। গুজরাট স্বাস্থ্য বিভাগ এই রোগ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হঠাৎ করে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। আবার বারবার দেখা যায়। প্রাথমিক লক্ষণই হল বমিভাব। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে গা পাক দিয়ে বমি করা শুরু হয়। তার পর শুরু হয় ঘন ঘন বমি। তার সঙ্গে খিঁচুনি ও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে শুরু করে। ছোট বাচ্চাদের মধ্যে এই ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। অনেক সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ঘন ঘন অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অচৈতন্য হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। যেহেতু মশামাছি থেকেই মূলত এই রোগ ছড়ায়, সে কারণে চেষ্টা করলেই এই রোগ থেকে শিশুদের বাঁচানো সম্ভব। গুজরাট প্রশাসনের তরফে নানাবিধ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায় ঘুমানোর সময়ও মশারি টাঙিয়ে শিশুদের ঘুম পাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেখানে বালিমাছির প্রকোপ বেশি সেখানে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা উচিত। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। সাধারণ ভাবে স্যান্ডফ্লাই প্রজনন স্থল আবর্জনার স্তূপ, শান্ত জল ও পচনশীল জৈব বর্জ্য, তাই বাড়ির আশেপাশে এইগুলি থাকলে আগে সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই নিয়মিত বাড়ি ও বাড়ি চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথাও বলা হয়েছে সতর্কতায়।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।