ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হয়ে বিয়ে করার সমস্ত ইচ্ছেই ঘুচে গেল

Wedding Photography: মধ্যবিত্ত বাড়ির পাত্ররা পৃথিবীর সব থেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত প্রাণীদের একজন।

Abhijit Roychowdhury
২ মিনিট
ওয়েডিং ফটোগ্রাফার হয়ে বিয়ে করার সমস্ত ইচ্ছেই ঘুচে গেল

ছোটবেলায় হিন্দি ছবি দেখে আমারও মনে হতো 'হলদি', 'সঙ্গীত', 'মেহেন্দি' এসব করে সবাইকে চমকে দিয়ে একটা বিয়ে করব। যা থাকে কপালে! আমিই হয়ে গেলাম ওয়েডিং ফটোগ্রাফার! আমার বিয়ে করার সমস্ত ইচ্ছেই চলে গেল। পৃথিবীর সব শব্দকে মধুর মনে হলেও, বিসমিল্লা খাঁ-র সানাই অসহ্য হয়ে উঠল! সারারাত বিয়েবাড়িতে খেটে পরের দিন অন্য বিয়েবাড়ি গিয়ে ঝিমোচ্ছি, একটু পরেই গায়ে হলুদ হবে। সুন্দরী মহিলারা এগিয়ে আসছেন আমার দিকে! আচমকা বিসমিল্লা খাঁ তাঁর টিপিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর বাজিয়ে আমার ঝিমুনি ভাঙিয়ে দিলেন! কার না মাথা গরম হয় বলুন?

মধ্যবিত্ত বাড়ির পাত্ররা পৃথিবীর সব থেকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত প্রাণীদের একজন। তারা এইদিক-ওইদিক মাঝেমধ্যেই দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে তাড়ায় হেঁটে চলে বেড়ান। সারাদিন তাঁরা ভাবেন, এই বুঝি ঝামেলা লাগল! মাঝেমধ্যে সামান্য শান্তির আশায়, বিয়েতে আসা বাল্যবন্ধুর সঙ্গে বাড়ির আশেপাশে গলিটলিতে লুকিয়ে সিগারেট টানেন আর "ধুর! বহুত ঝামেলা, বিয়ে করা" বলে দুশ্চিন্তার দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। আমি হলাম সিংহের পাশে লুকিয়ে থাকা হায়না। আমি জানি এই সিগারেট হাফ হওয়ার আগেই তাঁকে কেউ একটা ফোন করবেই। আর আমি লাফ দিয়ে "আমাকে দিয়ে দাও" বলে ফার্স্ট কাউন্টারে পুরো সিগারেটটা পেয়েই বাজিমাত করব।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
"আমি আপনার স্ত্রীকে বিয়ে করতে চাই" : নির্ভীক প্রেমিক জগজিৎ সিং রইলেন আড়ালেই

Jagjit Singh Chitra Singh Love Story: জগজিৎ আর চিত্রার সন্তানের মৃত্যুর পর ভেস্তে গিয়েছিল জীবনের বাগিচা।

আমি বিয়েবাড়িতে ছবি তুলতে যাচ্ছি মানেই, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট আর কানে হেড ফোন। মিনিমাম হিউম্যান ইন্টার‍্যাকশন (অদরকারি) রেখে ছবি তোলায় ফোকাস। মাঝেমধ্যে আমি গানও চালাই না, শুধুই কানে হেডফোন গুঁজে রাখি যাতে লোকে ভাবে আমি গান শুনছি। এইসময় নিজেকে মনে হয়, ব্যাটম্যান! আমি কোনও এক বিশেষ ক্ষমতায় নিজেকে অদৃশ্য করে ফেলেছি, আমার পেছনে বসে থাকা কাকীমারা অবলীলায় তাই বলে চলেন, "ছাড় তো! যত ঢং! আমার জানা আছে এদের কত পয়সা! খালি দেখনদারি"! তারপর তাঁরা ওই দেখনদারেরই পয়সার লুচি গেলেন। এইসব অগণিত ঘটনা আমাকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে চরম ডিমোটিভেট করে দিয়েছে!

তবে সব থেকে বাজে ঘটনাটা লিখি। ২০১৭ সাল। এক সম্ভ্রান্ত বাঙালি বিয়ে। বরযাত্রী আসায় বিয়েবাড়িতে হঠাৎ হইচই। একজন ফটোগ্রাফার-ভিডিওগ্রাফার দরজায়, একজন ফটোগ্রাফার-ভিডিওগ্রাফার মেয়ের সামনে, আর আমি আর একজন ভিডিওগ্রাফার সিঁড়ির মাঝামাঝি। আমাদের সামনে পাত্রীপক্ষের কয়েকজন সিঁড়ি আটকে টাকা পয়সা চাইছে। এরপর উত্তর, প্রতুত্তর। তারপর হঠাৎ মিলেনিয়াম পার্ক হয়ে গেল অগ্নিগর্ভ নন্দীগ্রাম! পাত্রপক্ষের একজন বুড়ো মান্যবরের পাঞ্জাবীতে কাঁচা খিস্তি দিতেই, ভয়ে আমার এবং আমার ভিডিওগ্রাফারের থরহরি কম্প শুরু হলো। আমার ভিডিওগ্রাফার এইসব পরিস্থিতিতেও নার্ভ অফ স্টিল! আমাকে কানের কাছে এসে বলল, "দাদা ক্যামেরাটা পেছন দিকে নিয়ে নাও, মারামারি লাগলে, কেউ গায়ে এসে পড়লে ক্যামেরাটা যাবে।" এরপর আমরা দু'জন ক্যামেরা সমেত হাত পিঠের দিকে দিয়ে, রবীন্দ্রনাথ স্টাইলে ঝামেলা উপভোগ করতে লাগলাম আর মিটিমিটি হাসতে লাগলাম। সেদিন বুঝলাম, ভদ্রলোকদের মুখে খিস্তি আমার প্রিয় শব্দবন্ধের একটি! বিসমিল্লা খাঁয়ের সানাইয়ের জায়গায় এইসব কেউ বিয়েবাড়িতে বাজালে আমি বিয়ে করতাম।

যাই হোক এরপর পাত্র এবং পাত্রী দু'জন সকলকে- "আমরা বিয়ে করছি, যাদের থাকার থাকো, যাদের চলে যাওয়ার চলে যাও" বলে বিয়ে করতে বসল। পাত্রের বাবা চলে যাওয়া গ্রুপের একজন। ফলে পুরো বিয়ে জুড়ে অস্বস্তির আবহওয়া! বিয়ে শেষ করে আমার ভিডিওগ্রাফার আমাকে বলে, "অভিজিৎদা আর যদি কোনওদিন বিয়ে করি, আমার নাম শালা কুত্তা! কুত্তা!কুত্তা!" আমিও বললাম- "হ্যাঁ আমি করলেও আমার নাম কুত্তা কুত্তা কুত্তা"!

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কালীপূজার আলোয় সোহরাইয়ের ছায়া, আদিবাসী লোকধর্মের সঙ্গে শাক্ত ঐতিহ্যের সম্পর্ক কতটা গভীর?

Tribal Folk Religion in Bengal: কার্তিক মাসের অমাবস্যায় বাংলার বহু অঞ্চলে যখন দীপাবলি ও শ্যামাপূজা উদ্‌যাপিত হয়, তখন রাঢ়বাংলা ও ছোটনাগপুর মালভূমির বিভিন্ন জনপদে কৃষিজীবন, গৃহপালিত পশু এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে সোহরাই বা বাঁদনা পরব পালিত হয়।

শিকলে বাঁধা দেবী, ডাকাতদের আরাধ্যা! দক্ষিণ কলকাতার চেতলার ডাকাত কালীর ইতিহাস

Dakat Kali: দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় রয়েছে রহস্যে মোড়া প্রাচীন ডাকাত কালীবাড়ি। লোককথা অনুযায়ী, একসময় ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে এই মন্দিরে পুজো দিত দস্যুরা। লুটের সম্পদও নিবেদন করত দেবীর চরণে। কিন্তু কেন শিকলে বাঁধা রয়েছে দেবীমূর্তি? নীলু-ভুলু ডাকাতের কাহিনি থেকে সারদা দেবীর আগমন—জানুন এই মন্দিরের ইতিহাস।

বাংলার ভূতেরা কেমন দেখতে, কোথায় থাকে, কী খায়?

Ghosts of Bengal: পাশ্চাত্যের বহু ভৌতিক আখ্যানের তুলনায় বাংলার লোককথায় ভূতেরা অনেক বেশি গৃহস্থালি জীবন, খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক পরিচয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তারা কখনও মাছের প্রতি আসক্ত, কখনও গাছের ডালে আশ্রয় নেওয়া ভবঘুরে, কখনও অসমাপ্ত সংসারের স্মৃতি বহনকারী নারী, আবার কখনও ব্রাহ্মণ্য সামাজিক মর্যাদার প্রতীক।

দেশভাগের ক্ষত বুকে নিয়েই গড়ে উঠেছিল ঢাকা কালীবাড়ি, দক্ষিণ কলকাতার মন্দিরের ইতিহাস

Dhaka Kalibari: দেশভাগের পর বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে নিজের শিকড়ের স্মৃতি ধরে রাখতে মন্দির গড়ে তুলেছিলেন ননীগোপাল চক্রবর্তী। দক্ষিণ কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের এই মন্দিরই আজ পরিচিত ঢাকা কালীবাড়ি নামে। মাটির প্রতিমা থেকে কষ্টিপাথরের বিগ্রহ, কালীপুজোর বিশেষ ভোগ—মন্দিরটির ইতিহাসে মিশে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস ও দেশভাগের স্মৃতি। কী ভাবে?

বইয়ের জন্য হাঁটতে হয় কেন?

Walk for Books 2026: প্রায় পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে বইমেলাকে মনে করে বইয়ের জন্য একবার হেঁটেছিল বাঙালি। তারপর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে আবার এই ৩১ অক্টোবর, ২০২৬-এ দেখা গেল সেই ছবি। হুড়দুড় করে ছেলেবুড়োমেয়েমদ্দ সব রাস্তায় নেমে এল—এ কী আজব খেলা রে ভাই!

শতবর্ষ পেরিয়েও ঋত্বিক ঘটক যেন আজও সমকালীন

Ritwik Ghatak: আমরা যখন ছোট ছিলাম, মানে ষাটের দশকের সেই শেষ দিকে বা সত্তরের দশকে, তিনি কত না অদ্ভুতভাবে আমাদের প্রভাবিত করতেন। যেমন একদিন আমাদের রবীন্দ্রসদনের সামনে দেখতে পেয়ে তিনি হঠাৎ বললেন, আমাকে একটা ট্যাক্সি ধরে দেবে?

কলকাতায় চালু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস

West Bengal School of Magic: মুখ্যমন্ত্রী ‘পশ্চিমবঙ্গ স্কুল অফ ম্যাজিক, ইল্যুশন অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস’ স্থাপনের প্রস্তাবে অনুমোদন করেছেন। পুজোর পর উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা বৈঠক করবেন।

বিভূতিভূষণের উপন্যাস কেবল দৃশ্যের নয়, শব্দেরও এক জগৎ তৈরি করে

Bibhutibhushan Bandyopadhyay: বাংলা সাহিত্যে বিভূতিভূষণকে আমরা সাধারণত প্রকৃতির কবি বলেই চিনি। তাঁর বর্ণনায় নদী, মাঠ, বন, আকাশ, ঋতু আর গ্রামীণ জীবনের যে ছবি ফুটে ওঠে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সাহিত্যকে যদি একটু অন্য দিক থেকে দেখা যায়? যদি আমরা শুধু দৃশ্যের দিকে না তাকিয়ে শোনার চেষ্টা করি?