৬ জনের মৃত্যু, স্কুল কলেজ বন্ধ! বিক্ষোভের আগুন যে দিকে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে

Bangladesh Job Quota Protest: অশান্তির জেরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই মর্মে বিবৃতি জারি করেছে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রক।

Sohini Das
৩ মিনিট
৬ জনের মৃত্যু, স্কুল কলেজ বন্ধ! বিক্ষোভের আগুন যে দিকে ঠেলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে

আন্দোলনে নেমে শেষ হয়ে গেল ছ'টি তরতাজা প্রাণ। ছাত্রবিক্ষোভে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তাল গোটা বাংলাদেশ। বিচ্ছিন্ন ভাবে দু-এক জায়গায় নয়, বৈষম্য সৃষ্টিকারী কোটা সিস্টেমে সংস্কার আনার দাবিতে গোটা বাংলাদেশই কার্যত আকার নিয়েছে রণক্ষেত্রের। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন দফায় দফায়। আন্দোলনে শামিল হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরাও। সেই আন্দোলনের আঁচে বৃহস্পতিবার থেকেই হাত সেঁকছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার তা চরমে পৌঁছয়। এদিন ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এমনকী আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর নির্বিচারে ছোড়া হয় গুলিও। সেই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে পাঁচ পড়ুয়ার। সংঘর্ষে কম করে হলেও চারশো জন জখম হয়েছেন। অশান্তির জেরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই মর্মে বিবৃতি জারি করেছে বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রক।

বৃহস্পতিবার থেকেই একের পর এক বিক্ষোভ আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশ। ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে সেই আন্দোলনের আগুন। এর মধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যে যে ঘি পড়ে সেই আগুনে। রাজাকারদের নিয়ে দেওয়া স্লোগান নিয়ে আপত্তি করে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এই কোটা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান আদালতেই হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বয়ান প্রত্যাহার-সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে তোলপাড়! কেন রাস্তায় নামল বাংলাদেশের বিক্ষুব্ধ ছাত্রযুব?

Bangladesh: সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারসহ সব কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবি করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন পড়ুয়ারা। এরই মধ্যে আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢেলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপরে হঠাৎই হামলা চালায় ছাত্রলীগ। সেই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলেন পড়ুয়ারা। সেই আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে যায় মিরপুর সড়কে যান চলাচল। বেলা ২টার দিকে ওই মিছিলে হামলা চালান ছাত্রলীগ ও ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর থেকে ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সূত্রের খবর, ঢাকা কলেজের ফটকের সামনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা হাতে রামদা, রড, লোহার পাইপ, লাঠির মতো সব অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চড়াও হন। তাদের থেকে খানিক দূরেই ছিলেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা। হঠাৎই দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার পর বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ। আন্দোলনকারীদের দাবি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বস্থান থেকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া অনিক, অন্তু, ফেরদৌস জামান, মো. নাসিম এবং কবি নজরুল কলেজের পড়ুয়া হাসিব। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতীয় পণ্য বয়কটের ডাক হাসিনার দেশে! ভারতকে কেন বর্জন করছে বাংলাদেশ?

Bangladesh Boycotts Indian Products: বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের একাংশ মনে করছে, আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করেছে ভারত সরকার।

সেই ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই ঢাকা কলেজের সামনে এক বছর পঁচিশের যুবককে বেধড়ক মেরে খুন করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাঁর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের একদফা দাবিতে আন্দোলন ঘিরে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সেসব জায়গা মিলে আরও কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন বলেও খবর। এর মধ্যে ঢাকায় একজন, চট্টগ্রামে তিনজন ও রংপুরে একজন রয়েছেন। চট্টগ্রামে নিহতদের মধ্যে মহম্মদ ফারুক (৩২) ও মহম্মদ ওয়াসিম (২২) নামে দুই যুবক রয়েছেন বলে খবর। ফারুক একটি আসবাবের দোকানের কর্মচারী এবং ওয়াসিম চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বাকিদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এদিকে পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাংলাদেশের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সে দেশের শিক্ষা মন্ত্রকের আওতায় থাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। তার মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোও। এমনকী বন্ধ থাকবে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলিও। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিদ্যালয় ও কলেজের পড়ুয়াদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।