অক্সফোর্ডে ধুন্ধুমার! বিক্ষোভকারীদের টানা প্রশ্ন, কী উত্তর ফেরালেন মমতা?

Mamata Banerjee Oxford: বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে মমতা বলেন, “আমি আপনাদের মিষ্টি দেব, আমি আপনাদের চকলেট দেব।"

inscript
৩ মিনিট
অক্সফোর্ডে ধুন্ধুমার! বিক্ষোভকারীদের টানা প্রশ্ন, কী উত্তর ফেরালেন মমতা?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল তাঁকে। বিশ্ববিখ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বক্তব্য পেশ করছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তবে, বিশ্বের এই প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও যে সিঙ্গুর থেকে অভয়াকাণ্ড তাঁর পিছু ছাড়বে না, এমন অশনি সংকেত আঁচ করেছিলেন আগেই। ভাষণ দিতে দিতে যদি কেউ বা কারা আরজি কর প্রসঙ্গ তুলে ফেলেন, সেই আন্দাজ করে আনন্দবাজার পত্রিকাকে মমতা বলেওছিলেন, ‘‘ওরা বল করলে আমিও ব্যাটিং শুরু করব! ছক্কা মারব। ওরা কি ভেবেছে আমি তৈরি হয়ে আসিনি? নথি আমার কাছেও আছে। আমিও জবাব দিতে জানি।’’ আশঙ্কা যে ভুল ছিল না, তা প্রমাণও হয়ে গেল। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে 'অপছন্দের' ইস্যুর মুখে পড়ে অস্বস্তিতে পড়ল তাঁর লন্ডন সফর।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজের প্রেসিডেন্ট তথা অধ্যাপক জোনাথন মিচি। তিনিই অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েরও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর। জানা গেছে, এই আমন্ত্রিত বক্তব্যের কিছু দিন আগেই জোনাথন একটি লম্বা চিঠি পান যাতে লেখা ছিল কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানানো উচিত নয়। চিঠিটি আসে ইংল্যান্ডের আরজি করের প্রাক্তনীদের সংগঠনের তরফে। পরে অবশ্য যেমন সংগঠনের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। তবে বিপত্তি সামাল দেওয়া যায়নি। অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে ‘সামাজিক উন্নয়ন: বালিকা, শিশু এবং মহিলা ক্ষমতায়ণ’ বিষয়ে বক্তৃতা চলাকালীন শুরু হয়ে যায় প্রতিবাদ। একের পর এক পোস্টারে ছেয়ে যায় সভাকক্ষ। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে মমতা বলেন, “আমি আপনাদের মিষ্টি দেব, আমি আপনাদের চকলেট দেব।"

কী নিয়ে বিক্ষোভ? প্রথম ধাক্কাটি আসে রাজ্যে বিনিয়োগ প্রসঙ্গেই। বাংলায় কর্মসংস্থান প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলার সময় হঠাৎই দর্শকাসন থেকে টাটা গোষ্ঠীকে নিয়ে প্রশ্ন ধেয়ে আসে। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনের জেরে টাটা গোষ্ঠীর ন্যানো প্রকল্প তুলে নেওয়ার প্রশ্ন ওঠে আবারও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, "গত কয়েক বছরে বেকারত্বের হার ৪৬ শতাংশ কমেছে।" বলেন, বহু শিল্প বাংলায় আসছে। বাংলায় ২৩ লক্ষ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব আসছে। এই সময়ই দর্শকাসন প্রশ্ন আসে টাটাকে নিয়ে, প্রশ্ন আসে তথ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগ নিয়েও। দর্শকাসন থেকে একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘‘আপনি মিথ্যা বলছেন।’’

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির

She doesn’t flinch. She doesn’t falter. The more you heckle, the fiercer she roars. Smt.

is a Royal Bengal Tiger!

— All India Trinamool Congress (@AITCofficial)

শিল্পের প্রসঙ্গ ধরেই আসে আরজি কর প্রসঙ্গ। অভয়ার নাম ওঠে। 'মিথ্যেবাদী' বলা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে, অভয়াকে 'খুনের' জন্য দায়ী করা হয়। একের পর এক প্রশ্নের মুখে মমতা বলেন, "এটা গণতন্ত্র। সকলের প্রশ্ন করার অধিকার আছে। আপনাদের বিরোধিতায় আমি উৎসাহ পাই।" বিক্ষোভকারীদের স্লোগান এবং পোস্টারে যখন বক্তব্য সভা উত্তাল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখনও বলে যান, ‘‘আমি আপনাদের সকলকে খুব ভালবাসি। আপনারা আপনাদের পার্টিকে আরও মজবুত করুন। যাতে আমার সঙ্গে তারা লড়তে পারে!’’ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘‘আমাকে অপমান করছেন করুন। দেশকে অপমান করবেন না।’’

আরজি কর প্রসঙ্গ উঠলে মমতা বলে ফেলেন, "আই লাভ ইউ অল। প্লিজ় শান্ত হন। আমি আপনাদের মিষ্টি দেব।’’ এরপরেই নিজের চেনা পিচে ব্যাটিং শুরু করেন মমতা। বলেন, ‘‘আমার বাম, অতিবাম, সাম্প্রদায়িক শক্তির বন্ধুদের বলব, আপনাদের আমি চকোলেট দেব। আপনাদের মতাদর্শকেও চকোলেট খাওয়াব।’’ অক্সফোর্ডে গিয়েও বামেদের ভূতই কেন তাড়া করল মুখ্যমন্ত্রীকে? তৃণমূলের একাংশ বলছে, টাটার নাম উচ্চারিত হতেই যেভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা পরিকল্পিত ছাড়া কিচ্ছু নয়। আর এই পরিকল্পনা বামেদেরই। একাংশ আবার বলছে, ‘ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস’ বিরোধী পোস্টার দেখা গেছে, ফলে এখানে গণ্ডগোলের নেপথ্যে বিজেপির হাতও থাকতে পারে। 'যাদবপুর' নামটি ওঠায় আবার অনেকে বলছেন, অতিবাম সদস্যরাই এই বিক্ষোভের মূলে। তাহলে বাম না বিজেপি নাকি অতিবাম? আসলে কারা অক্সফোর্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিক্ত প্রশ্নের মুখে ফেলল? সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের ব্রিটেন শাখা জানিয়েছে, তাদের সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভে ছিলেন। অক্সফোর্ডে এমন অপ্রীতিকর প্রশ্নের মুখে পড়েও আপাত সামাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছেন ঠিকই। তবে, বামেদের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত হোক বা স্বতস্ফূর্ত, এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে, বাংলার দুর্নীতি থেকে শুরু করে বেকারত্ব, শিক্ষার দুর্দশা থেকে শুরু করে ধর্ষণ, এ সমস্তটাই বহুল চর্চিত। কন্যাশ্রী বা যুবশ্রীর আড়ালে উন্নয়নের যে চিত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চান, সেই উন্নয়নের চাদর সরিয়ে কেউ অন্তত প্রশ্ন করছে। আরজি কর বা সিঙ্গুর, বাংলায় তা মৃত ইস্যু হয়ে গেলেও, জবাব চাইছে কেউ কেউ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।