অক্সফোর্ড বিক্ষোভের নেপথ্যে এসএফআই? তাহলে হিন্দুদের রক্ষার প্রশ্ন তুললেন কে?

Mamata Banerjee Oxford University: বিক্ষোভের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে, “এনিওয়ান ফর হিন্দুস?” জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি হিন্দু-মুসলমান সকলের জন্য।”

inscript
৩ মিনিট
অক্সফোর্ড বিক্ষোভের নেপথ্যে এসএফআই? তাহলে হিন্দুদের রক্ষার প্রশ্ন তুললেন কে?

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে ভাষণ দিচ্ছিলেন। হঠাৎই শুরু হিয়ে যায় বিক্ষোভ। বক্তৃতা চলাকালে বিরোধীদের বিক্ষোভ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে অক্সফোর্ডের মতো বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন এক মঞ্চে অপ্রীতিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া নিঃসন্দেহে এক ধাক্কা। হ্যাঁ, সেই ধাক্কা সযত্নেই, নিজস্ব ছন্দে সামলে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রতিবাদ করলেন কারা? এই প্রতিবাদ কি স্বতঃস্ফূর্ত? না কি রাজনৈতিকভাবেই পরিকল্পিত? নেপথ্যে কারা? বক্তৃতার মাঝে কারা প্রশ্ন তুললেন ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে? আরজি কর দুর্নীতি ও ধর্ষণ ইস্যু তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে বিব্রত করলেন কারা?

হঠাৎ শুরু হওয়া এই প্রতিবাদে কিঞ্চিৎ বিচলিত হয়েছিলেন মমতা। তবে পরে সম্পূর্ণ বক্তৃতা শেষও করেন। আর বক্তব্যের মাঝেই বিক্ষোভকারীদের বলেন, "আপনাদের দলকে আমাদের রাজ্যে শক্তি বাড়াতে বলুন যাতে তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।" 'আপনাদের দল' বলতে কদের কথা বলছেন মমতা? তাহলে তিনি কি নিশ্চিত যে অক্সফোর্ডের বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? তারা তাহলে পশ্চিমবঙ্গেও উপস্থিত?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অক্সফোর্ডে ধুন্ধুমার! বিক্ষোভকারীদের টানা প্রশ্ন, কী উত্তর ফেরালেন মমতা?

Mamata Banerjee Oxford: বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে মমতা বলেন, “আমি আপনাদের মিষ্টি দেব, আমি আপনাদের চকলেট দেব।"

মূল বিড়ম্বনা শুরু হয় মমতার দেওয়া একটি শিল্প বিনিয়োগ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান ঘিরে। মমতা বলেন 'লক্ষ কোটি টাকা' মূল্যের 'বিনিয়োগ প্রস্তাব' পেয়েছে বাংলা। এই সম্পর্কেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন এক দর্শক। সেই রেশ ধরে প্রশ্ন তোলেন আরেকজন। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময়, যখন টাটার টিসিএস কোম্পানিতে বিনিয়োগের বিষয়টি উত্থাপিত হয়, তখন দর্শকদের পিছনে কিছু বিক্ষোভকারীকে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। রাজ্যে নির্বাচন এবং ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাসের পাশাপাশি আরজি ধর্ষণ বিষয়ে স্লোগান লেখা ছিল তাতে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এখানে রাজনীতি করবেন না, এটি রাজনীতির প্ল্যাটফর্ম নয়, আমার রাজ্যে যান এবং আমার সঙ্গে রাজনীতি করুন।" যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিককালে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় এক ছাত্রের আহত হওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন বিক্ষোভকারীরা। মমতা বলেন, ‘‘আমার বাম, অতিবাম, সাম্প্রদায়িক শক্তির বন্ধুদের বলব, আপনাদের আমি চকোলেট দেব। আপনাদের মতাদর্শকেও চকোলেট খাওয়াব।’’ অক্সফোর্ডে গিয়েও সিপিএম কি সত্যিই পিছু ছাড়ল না মুখ্যমন্ত্রীর?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতার ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশংসা! চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে যা লিখলেন গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক

Gayatri Chakravorty Spivak Mamata Banerjee: ১৯৮৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ খেড়িয়া শবর কল্যাণ সমিতির সমিতির কার্যকরী সভাপতি মহাশ্বেতা দেবীর সঙ্গে পুরুলিয়া জেলার কেন্দায় আসেন গায়ত্রী।

তৃণমূলের একাংশ বলছে, টাটার নাম উচ্চারিত হতেই যেভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়, তাতে সিপিএমের যোগ স্পষ্ট। 'যাদবপুর' প্রসঙ্গ ওঠায় অতিবাম যোগও বের করছেন দলের একাংশ। এখানে উল্লেখ্য, সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের ব্রিটেন শাখা জানিয়েছে, তাদের সংগঠনের সদস্যরা বিক্ষোভে ছিলেন। অভিযোগ, এই বিক্ষোভের আয়োজনের মূল পরিকল্পনা ছিল নিখিল ম্যাথুর। কে নিখিল ম্যাথু? তাঁর ফেসবুক আইডি বলছে, তিনি যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সম্পাদক। SFI-এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই ছাত্র ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড লেবার স্টাডিজ নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নিয়ে পিএইচডি করছেন। ধরে নেওয়া গেল, এই বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি ছিল বামেরাই। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে এসএফআই। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, ওই ভিড়ের মধ্যে বাংলায় হিন্দুদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কে?

বিক্ষোভের মধ্যেই প্রশ্ন ওঠে, “এনিওয়ান ফর হিন্দুস?” জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি হিন্দু-মুসলমান সকলের জন্য।” তাহলে বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার (এসএফআই-ইউকে) যুক্তরাজ্য শাখাই কেবল ছিল না? হিন্দু বিষয়ক প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়াতে স্বাভাবিকভাবেই নজর যায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির দিকেও।

মমতা বলেছেন, "আমি প্রতিটি ধর্মকে সমর্থন করি। আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টানকে সমর্থন করি। একটি জাতির নাম নয়, সবার নাম বলুন। আপনারা যা করছেন তা ঠিক নয়। আপনারা যে রাজনীতি করছেন, আমার অতি-বাম বন্ধু এবং সাম্প্রদায়িক বন্ধুরা তা করেন না।” অতিবাম এবং বিজেপিকে 'বন্ধু' বলে, চকোলেট-মিষ্টি খাওয়াতে চেয়ে অক্সফোর্ডের বিতর্ক আপাতত ধামাচাপা দিয়েই ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদেশের মাটিতে এই বিক্ষোভের শিকড় আসলে তো বাংলাতেই। বছর গড়াতেই, সিংহাসনের লড়াই। সেই লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিবাম ও সাম্প্রদায়িক বন্ধুদের সঙ্গে সমীকরণ কী হবে, সেই প্রশ্নই বঙ্গের রাজনীতিতে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক এখন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।