ঈদের আগে ছাই বঙ্গবাজারের হাজার হাজার দোকান, বারবার কেন আগুনের গ্রাসে বাংলাদেশ?

Dhaka Bangabazar Market Fire : কেউ রাস্তায় বসে হাউহাউ করে কাঁদছেন। চোখের নিমেষে ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল সমস্ত স্বপ্ন, দোকান বাজার।

inscript
২ মিনিট
ঈদের আগে ছাই বঙ্গবাজারের হাজার হাজার দোকান, বারবার কেন আগুনের গ্রাসে বাংলাদেশ?

লাইন দিয়ে রয়েছে একের পর এক দোকান। আর সেখানেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন আগুনের গোলা আছড়ে পড়েছে ওই জায়গায়। ঠিক বাইরেটায় সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে দমকলের গাড়ি। সমানে পাইপ দিয়ে জলের স্রোত চালু রাখা হয়েছে। তবুও সর্বগ্রাসী আগুন নেভার নামগন্ধও নিচ্ছে না। যখন সব শেষ হল, তখন ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা সবার মাথায় হাত। কেউ রাস্তায় বসে হাউহাউ করে কাঁদছেন। চোখের নিমেষে ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল সমস্ত স্বপ্ন, দোকান বাজার।

এমনই ছবি এখন বাংলাদেশের বিখ্যাত বঙ্গবাজার মার্কেটে। ভয়াবহ আগুনে কার্যত পুড়ে ছাই হয়ে গেল ৩০০০-রও বেশি দোকানঘর। এমনিতেই এখন ঈদের মরসুম। উৎসবে, আনন্দে মেতে উঠেছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা। ঈদে পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য জামাকাপড়, অন্যান্য জিনিসপত্র নেওয়ার প্রথা বহুদিনের। ব্যবসায়ীরাও এই দিনটির দিকে মুখ চেয়ে থাকেন। কিন্তু তার আগেই এই ঘটনায় কার্যত বাকরুদ্ধ তাঁরা। এত টাকার জিনিস এক মুহূর্তে পুড়ে খাক হয়ে গেল। কিছু উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগই ভস্মীভূত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেউ সন্তানের অপেক্ষায়, কেউ ঝলসে গিয়েছে, গুলিস্তানের বিস্ফোরণের পর শুধুই হাহাকার

Explosion in Dhaka Gulistan : অধিকাংশের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। পরিস্থিতি এমনই যে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে পুলিশ প্রশাসন।

কী করে লাগল আগুন? সেই কারণ এখনও জানা যায়নি। মঙ্গলবার ভোরেই এই আগুন লেগেছে বলে সূত্র মারফৎ খবর পাওয়া যাচ্ছে। তারপরই পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে জানানো হয়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা ও ভয়াবহতা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন খোদ দমকল কর্মীরা। ৪৮ থেকে ৫০টি ইঞ্জিন লাগাতার আগুন নেভানোর কাজ করেছে। সেইসঙ্গে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি সহ অন্যান্যরাও হাত লাগিয়েছেন। ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এই কাজ করতে গিয়ে দমকলের আটজন কর্মী আহতও হয়েছেন।

তবে এমন আগুন যে যে কোনও সময় লাগতে পারে, তার পূর্বাভাস আগে থাকতেই দেওয়া ছিল। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বঙ্গবাজার মার্কেট অত্যন্ত পরিচিত। এই কমপ্লেক্সে গুলিস্তান সহ আরও বেশকিছু মার্কেট রয়েছে। অত্যন্ত ঘিঞ্জি এলাকা ও ভিড় অত্যাধিক হওয়ায় ঝুঁকি ছিলই। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বঙ্গবাজার মার্কেটকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেও ঘোষণা করা হয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই নোটিশ বারবার অগ্রাহ্য করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু ঈদের আগে এমন পরিস্থিতি হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে দোকানদারদের। কী করবেন না করবেন কিচ্ছু বুঝতে পারছেন না। কেবল চোখের জল ফেলছেন। কেন এরকম ঘটনা হল, আগুন লাগার কারণ কী, কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানার জন্য ইতিমধ্যেই তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠে আসছে।

কী প্রশ্ন? মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা। বাংলাদেশের ঢাকারই আরেক মার্কেট গুলিস্তানে প্রবল বিস্ফোরণ হয়। একটি স্যানিটারি পণ্যের দোকানে এই বিস্ফোরণ হয়। অনেকেই মারা যান, আহতের সংখ্যাও প্রচুর। তারপর প্রায় নিকটবর্তী এলাকায় ফের অগ্নিকাণ্ড। প্রথমে ভাবা হয়েছিল গুলিস্তানের বিস্ফোরণ কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর কাজ। কিন্তু জানা যায়, ঘিঞ্জি পরিবেশ, ভিড় আর অসাবধানতার জন্যই স্যানিটারি দোকানে ব্যাপকভাবে এই বিস্ফোরণ হয়েছে।

বঙ্গবাজার মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডেও প্রাথমিকভাবে সেই বিপজ্জনক পরিবেশ, ঘিঞ্জি দোকানপাটের ছবিই সামনে আসছে। এরকম অবস্থা থাকলে আরও অগ্নিকান্ডের মুখে পড়তে হবে বাংলাদেশকে। অবিলম্বে এমন জায়গাগুলিকে চিহ্নিত করে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। নয়তো বারবার বাংলাদেশের মানুষ চোখের জল ফেলবেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।