অস্কারজয়ী দুই হাতিকে দেখতে ভিড় পর্যটকদের! রাতারাতি বিখ্যাত ভারতের এই পর্যটনকেন্দ্র

The Elephant Whisperer Oscars: মুদুমালাই-থেপ্পাকাডু হাতি ক্যাম্পে এই রঘু আর আম্মুকে স্বচক্ষে দেখতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ।

inscript
৩ মিনিট
অস্কারজয়ী দুই হাতিকে দেখতে ভিড় পর্যটকদের! রাতারাতি বিখ্যাত ভারতের এই পর্যটনকেন্দ্র

ছুটিছাটা পেলে মানুষ বনগামী হয়। জঙ্গলে রাত্রিযাপনের মধ্যে দিয়ে নিজের অন্দরের আদিম চেতনকে ঝাঁকিয়ে দেখে নেয়, জঙ্গলের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে, অথবা নিরাপদ গাড়িতে চেপে বন্যপ্রাণীদের দেখতে দেখতে ছুটি কাটান পর্যটকরা। অভয়ারণ্যে পশুরাই রাজা, মানুষ ভয়ে ভয়ে সেই রাজত্বে ঘণ্টাখানেক কাটানোর সুযোগ পায়। বাঘ আর সিংহের পর সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নেশা মানুষের হাতি দেখায়। হাতির যূথবদ্ধতা, হাতির প্রখর বুদ্ধি মানুষকে টানে। আর টানে হুজুগ। সদ্য অস্কার জেতার পরদিনই যেভাবে মানুষকে টেনেছে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর মুদুমালাই-থেপ্পাকাডু হাতি ক্যাম্প। এই ক্যম্পেই থাকে রঘু আর আম্মু, সেই দুই অনাথ হস্তিশাবক যাদের বড় করে তুলেছিলেন এক মানব দম্পতি। যাদের জীবন নিয়েই তৈরি হয়েছিল দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স এবং এসএস রাজামৌলির RRR-এর নাটু নাটু দু'টি অস্কার জিতেছে৷ The Elephant Whisperers একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্র। যার মূল চরিত্র দুই অনাথ হাতি, রঘু আর আম্মু। এক আদিবাসী দম্পতি বোম্মান এবং বেলির যত্নে বেড়ে ওঠে রঘু আর আম্মু। বোম্মান ও বেলির সঙ্গে রঘু ও আম্মুর গড়ে ওঠা সম্পর্কের বন্ধনই তথ্যচিত্রটির প্রাণভোমরা।

মুদুমালাই-থেপ্পাকাডু হাতি ক্যাম্পে এই রঘু আর আম্মুকে স্বচক্ষে দেখতে এখন ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ। তথ্যচিত্রটি অস্কার জেতার পর থেকেই ভিড় উপচে পড়ছে এই ক্যাম্পে। দেশের নানা প্রান্ত তো বটেই, লন্ডন থেকেও পর্যটকরা এসেছেন অস্কারজয়ী রঘু-আম্মুকে দেখতে। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত থেপ্পাকাদু এলিফ্যান্ট ক্যাম্প এশিয়ার প্রাচীনতম ক্যাম্প। বর্তমানে ২৮টি হাতি রয়েছে এই ক্যাম্পে যারা একসময় বুনো হাতি ছিল। সেইসময় এই হাতিদের আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে প্রাণহানি, বিবিধ ঘটনাই ঘটেছে। পরে এই হাতিগুলিকে ক্যাম্পে এনে 'কুনকি' হাতিতে রূপান্তরিত করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অস্কারের মঞ্চে কলকাতার মেয়ে! 'এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স'-এর দৌলতে বিরল কৃতিত্ব বাঙালি কন্যার

The Elephant Whisperers Oscar Bong Connection : জুড়ে গিয়েছে অস্কারের মঞ্চ, এবং কলকাতাও! এবারের অস্কারের সঙ্গে প্রবলভাবে জড়িয়ে আছেন এক বঙ্গতনয়া।

The Elephant Whisperers জিতেছে বেস্ট ডকুমেন্টারি শর্ট সাবজেক্ট বিভাগের অস্কার! কার্তিকি গঞ্জালভেস পরিচালিত এবং গুনীত মঙ্গা প্রযোজিত দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স, ৯৫ তম আকাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে স্বল্পদৈর্ঘ্যের বিষয়ের সেরা তথ্যচিত্রের সম্মান জিতেছে। এই বিভাগে মনোনীত অন্য চারটি তথ্যচিত্র ছিল, হলআউট, দ্য মার্থা মিশেল এফেক্ট, স্ট্রেঞ্জার অ্যাট দ্য গেট, এবং হাউ ডু ইউ মেজার আ ইয়ার? দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স এই বিভাগে অস্কার জয়ী প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র। এর আগে অবশ্য দু'টি তথ্যচিত্র এই বিভাগে মনোনীত হয়েছিল। The House that Ananda Built এবং An Encounter With Faces তথ্যচিত্র দু'টি ১৯৬৯ এবং ১৯৭৯ সালে সেরা ডকুমেন্টারি শর্টের জন্য মনোনীত হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স : ভারতকে প্রথম অস্কার এনে দিল যে ৪১ মিনিটের কাহিনি!

The Elephant Whisperers Oscars: দ্য এলিফ্যান্ট হুইস্পারার্স এক আদিবাসী দম্পতি বোম্মান এবং বেলির যত্নে বেড়ে ওঠা রঘু নামের এক অনাথ হস্তিশাবকের গল্প।

অস্কারের মঞ্চে এই ৪১ মিনিটের তথ্যচিত্রের পরিচালক কার্তিকি গঞ্জালভেস এবং প্রযোজক গুনীত মঙ্গা এই বিশেষ সম্মান অর্জন করেন। কার্তিকির কথায়, মানুষ এবং প্রাকৃতিক বিশ্বের মধ্যেকার পবিত্র বন্ধনের কথা বলে এই তথ্যচিত্র। আদিবাসী সম্প্রদায়ের সম্মান, অন্যান্য জীবের প্রতি ভালোবাসা, সহ-অস্তিত্ব সবটুকু মিলেই তৈরি হয়েছে এই তথ্যচিত্র।

লন্ডন থেকে এক পর্যটক শুধু ছুটে এসেছেন বাচ্চা হাতির অস্কার জয়ের খবরে। পর্যটকরা আসলে শুধু হাতি দেখতে ভিড় জমাননি, রঘু-আম্মুর বেড়ে ওঠার দৃশ্যগুলি যেন প্রত্যক্ষ করতে চেয়েছেন। থেপ্পাকাডু হাতি ক্যাম্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকজন বিদেশি পর্যটক হাতি এবং মাহুতদের সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছিলেন আলাদা করে। রঘু আর আম্মু অবশ্য অস্কার জেতার খবর জানে না, তারা রোজের যাপনে বেঁচে আছে। বেঁচে আছে মানুষের ভালোবাসায়। বেঁচে আছে পরম মায়ায়, নিবিড় যত্নে৷

The Elephant Whisperers তথ্যচিত্রটি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে Netflix-এ মুক্তি পায়। এই তথ্যচিত্রের প্রেক্ষাপট তামিলনাড়ুর মুদুমালাই টাইগার রিজার্ভ। এটিই পরিচালক হিসেবে কার্তিকি গঞ্জালভেসের আত্মপ্রকাশ। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এর আগে কার্তিকি জানিয়েছিলেন, পাঁচ বছর ধরে রঘুর গল্পটিকে ভেবে চলেছিলেন তিনি। প্রায় ৪৫০ ঘণ্টার ফুটেজ ছিল। সেখানে রঘুর স্নান, তার খাওয়া বা খেলার হাজার হাজার দৃশ্য ধরা ছিল। সেই হাজার হাজার দৃশ্যের মধ্যে বসে ধৈর্য ধরে খুঁজে বের করেছেন তিনি এমন কিছু দৃশ্য যেখানে বেলি আম্মুকে তার পাশে বসতে বলছে। এই অপার্থিব অন্তরঙ্গ মুহূর্ত সাধারণের কল্পনাতেই আসে না, ভেবেচিন্তে এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। হাতি এবং আদিবাসী দুই তরফের সম্পর্ককে বুনেছে এই তথ্যচিত্র। বহু শতাব্দী ধরে মানুষ আর বন্যপ্রাণীর এই সম্পর্ক ভিড়ের উদযাপন নয়, নিবিড় যাপনের কাহিনি। যে কাহিনিই ভারতকে প্রথম নিজস্ব অস্কার এনে দিয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?