এবার ইন্দিরাকেই চাঁদে পাঠালেন মমতা, ১৪ বছর পরেও একই ভুল কেন শোধরান না মুখ্যমন্ত্রী?

Mamata Banerjee on Indira Gandhi on Moon: “দিদি যখন বলেছেন রাকেশ রোশন তখন রাকেশ রোশনই… একদম জ্ঞান কপচাবি না।"

Madhurima Dutta
৩ মিনিট
এবার ইন্দিরাকেই চাঁদে পাঠালেন মমতা, ১৪ বছর পরেও একই ভুল কেন শোধরান না মুখ্যমন্ত্রী?

তিনি মহাকাশে যাননি। বড়জোর ভিনগ্রহের বস্তাপরা একজন এলিয়েনকে নিয়ে সিনেমা বানিয়েছিলেন। কিন্তু চন্দ্রযানের সাফল্যে সারা ভারত যখন কাঁপছে, মুম্বই থেকে তাঁকে সোজা চাঁদে পাঠিয়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। "রাকেশ রোশন যখন চাঁদে গেছিলেন...” বলে তিনি হয়ে উঠলেন সারা রাজ্যের সোশ্যাল মিডিয়ার সপ্তাহব্যাপী রসদ। সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই ফের তিনি নয়া উপাদান দিয়ে দিয়েছেন। রাকেশ রোশন যখন গেছেনই, ইন্দিরা গান্ধীই বা বাদ যান কেন? তিনি দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীকেও চাঁদে পাঠিয়ে ফেললেন। একটি ভুলের একসপ্তাহ পর আরেকটি ভুল। মমতা কি ইচ্ছে করেই এমন বলেন?

সোমবার ছিল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবস। ছাত্রদের সভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। সারা দেশের হট টপিক এখন চন্দ্রযান। সেই প্রসঙ্গেই কথাবার্তা হচ্ছে, হঠাৎ কী ইচ্ছা হলো ইন্দিরা গান্ধীকে চাঁদে পৌঁছে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, "ইন্দিরা খখন চাঁদে পৌঁছল..."। মমতা বললেন, ইন্দিরা গান্ধী যখন চাঁদে পৌঁছাল রাকেশকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, উপর সে হিন্দুস্তান ক্যায়সা লাগ রাহা হ্যায়? ও বলেছিল সারে জাঁহা সে আচ্ছা। এই কথাটা আমি আজও মনে রাখি।" মনে রেখেছেন বটে। তবে উদোর পিণ্ডি একেবারে চটকে দিয়েছেন বুধো সহ রাজ্যের ঘাড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদ নয়, মহাকাশচারী রাকেশ শর্মাকে কী বলেছিলেন ইন্দিরা?

Indira Gandhi Conversation with Rakesh Sharma: চাঁদ-জয়ের সাফল্য মনে করিয়ে দিয়েছে ১৯৮৪ সালের সেই ২ এপ্রিল দিনটির কথা। যেদিন ভারতীয় নভোশ্চর হিসেবে প্রথমবার মহাকাশে পা রেখেছিলেন রাকেশ শর্মা।

চন্দ্রযান ৩ যখন চাঁদে সফল অবতরণ করে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, রাকেশ রোশন চাঁদে গিয়েছিলেন। তিনি বেচারা প্রতিবাদ করেই বা কী করবেন, রাকেশ শর্মাও মনে মনে দুঃখ পেয়েছেন না তাজ্জব হয়েছেন জানা যায়নি। তবে এই গোটা সপ্তাহ জুড়ে রাকেশ শর্মাকে রাকেশ রোশন বলা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়েছে ঢের। ১৯৮৪ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন রাকেশ শর্মা। পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশযানে চেপে মহাকাশে গিয়েছিলেন তিনি। বয়সে রাকেশ রোশন আর রাকেশ শর্মার ফারাক এক বছরের। তবে যখন রাকেশ শর্মা চাঁদে যাচ্ছেন, রাকেশ রোশন তখন চাঁদে যাওয়া বা পচা কম্পিউটারে বার্তা পাঠিয়ে জাদুকে আনার কথাও ভাবছেন না। বর জোর ম্যায় কাতিল হুঁ, হাসতে খেলতে, জাগ উঠা ইনসান এসব সিনেমায় অভিনয় করছেন, বিশেষ লাভ হচ্ছে না।

তবে রাকেশ রোশনের এই ভুলটি কিন্তু ২০২৩ সালে প্রথম নয়। খুব আশ্চর্যজনক একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে যাতে দেখা যাচ্ছে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের বলছেন, “দিদি যখন বলেছেন রাকেশ রোশন তখন রাকেশ রোশনই… একদম জ্ঞান কপচাবি না।" এডিটেড ভিডিও নাকি? একেবারেই না। ২০০৯ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘আলোর নিশানা’ নামে সিনেমাটি। পরিচালনা করেছিলেন বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী অনিন্দিতা সর্বাধিকারী। কিন্তু কীভাবে ১৪ বছর আগেই তিনি রাকেশ শর্মা আর রাকেশ রোশনের গণ্ডগোলটি ধরে ফেলেছিলেন?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'রোশন' বিতর্কের মধ্যেই আলোয় রাকেশ শর্মা! এখন কোথায় কৃতি এই নভোশ্চর?

Rakesh Sharma: চন্দ্রযান ৩-এর সাফল্যের পরে ইসরোকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাকেশ স্বয়ং। রোশন নয়, শর্মা। আপাতত তামিলনাড়ুর কুন্নুরে রয়েছেন প্রাক্তন এই নভোশ্চর, সকলের আড়ালে।

২০০৮ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল চন্দ্রযান ১। সেই সময়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাকেশ শর্মার বদলে রাকেশ রোশনের নামই বলেছিলেন। ১৪ বছর কেটে গেল, মমতা বদলালেন না, মমতার ভুলটিও বদলাল না? হুবহু একই ভুল একজন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে করে যেতে পারেন? এবারই তো প্রথম না, চিকেন মারা হচ্ছে তাও চিকুনগুনিয়া কমছে না কেন থেকে শুরু করে মৃত্যুর পরে রবীন্দ্রনাথ নাকি ফলের রস খাইয়ে গান্ধীজির অনশন ভঙ্গ করেছিলেন! ভুলের তালিকা দীর্ঘ। ভুল নাহয় হলোই, কিন্তু তা কেউ শুধরে দেয় না কেন? সকলেই জানেন তিনি ভুল বলছেন অথচ...

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যা চলছে তা চলুক যতক্ষণ না ব্যক্তিগত সর্বনাশ হচ্ছে, এই মানসিকতাই সার্বিকভাবে কাজ করছে। মানুষ শুধরে দিতে গেলে বা বিরোধিতা করলে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। ফলে 'এইটুকু' ভুল ধরিয়ে আর কী হবে ভাবতে ভাবতে ভুলের পরিমাণ বাড়ছে। মমতাকে ঘিরে থাকা শিক্ষিত প্রশাসনিক আধিকারিকরাও তাঁর এই ভুল কোনওকালেই ধরিয়ে দেন না। রাকেশ রোশন হয়ে যান, ইন্দিরা চাঁদে চলে যান। রাজ্যবাসী ভাবে এইটুকুই তো ভুল, বিরোধিতার মাশুল যদি সারা পরিবারকে আজীবন গুণতে হয়, তাঁর চেয়ে ভুলের সঙ্গে সংসার করাই তো ভালো।

লিখেছেন
Madhurima Dutta
Madhurima Dutta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।