‘আড়িয়াদহের ঘটনা পুরনো!’ শাসকদলের নাম জড়াতেই তড়িঘড়ি সাফাই প্রশাসনের?

Alapan on Jayanta Singh: আড়িয়াদহের ঘটনা নিয়েই এবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা।

Sohini Das
৩ মিনিট
‘আড়িয়াদহের ঘটনা পুরনো!’ শাসকদলের নাম জড়াতেই তড়িঘড়ি সাফাই প্রশাসনের?

রাজ্য জুড়ে একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায় বারবার মুখ পুড়েছে রাজ্যের শাসকদলের। চোপড়ার পরে আড়িয়াদহ। আড়িয়াদহের গণপিটুনির ঘটনায় অভিযুক্তের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তাতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূলের। জানা গিয়েছে, আড়িয়াদহের ঘটনায় অভিযুক্ত দুষ্কৃতী জয়ন্ত সিং নাকি তৃণমূল নেতা মদন মিত্রের খাস লোক। এর আগেও একাধিক মামলায় পুলিশের খাতায় নাম থাকা জয়ন্তের সঙ্গে মদন মিত্রের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে তৃণমূল। সেই ঘটনা নিয়েই এবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা।

সেই সাংবাদিক বৈঠকে মনোজ ভার্মাকে পাশে নিয়ে আলাপন জানান, বেলঘড়িয়া থানার অন্তর্গত আড়িয়াদহের তালতলা ক্লাবের যে মারধর করার ভিডিও সামনে এসেছে, যা নিয়ে সমস্ত মহলে চর্চা হচ্ছে, তাই নিয়ে সরকারের তরফে কিছু কথা বলা প্রয়োজন। আলাপন বাবুর দাবি, 'প্রথমত ঘটনাটি ২০২১ সালের মার্চে অর্থাৎ তিন বছর আগে ঘটেছে। দ্বিতীয়ত, ভিডিওয় যাঁকে মার খেতে দেখা যাচ্ছে, তিনি কোনও মহিলা নন, তিনি একজন পুরুষ। তৃতীয়ত, 'এই ঘটনায় যিনি মূল অভিযুক্ত, সেই জয়ন্ত সিং এর আগে অন্তত ৫ বার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সেই ২০১৬ সাল থেকে। তিনি একজন পরিচিত গুন্ডা, বারংবার বিভিন্ন কেসে গ্রেফতার হয়েছেন।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দুর্নীতি, গণপিটুনি! মমতা বিরোধী হলে কী করতেন? বিজেপি-সিপিএম সব কোথায় গেল?

Opposition Movement in West Bengal বিরোধীদের রাস্তায় নামতে ভয় নাকি রাস্তায় নামার মতো ক্ষমতাও নেই? সোশ্যাল মিডিয়াতেও বা কোথায় হইচই?

এই সাংবাদিক বৈঠকের আগেই আড়িয়াদহ কাণ্ডে মুখ খোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনায় বারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংকে তোপ দাগেন। বলেন, “২০২১ সালের ঘটনা নিয়ে ভোট ড্যামেজের জন্য গত ৭২ ঘণ্টা ধরে একই খবর দেখানো হচ্ছে।। সেই সময় অর্জুন সিং সেখানকার সাংসদ ছিলেন। যারা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা এখন জেলে। ২৯ জন গ্রেপ্তার। চোখ নেই, কান নেই। দেখতে পান না? পুলিশের কাছ থেকে তথ্য জানুন। এখন আবেদন জানাচ্ছি। কাজ না হলে আইনি ব্যবস্থা নেব।” যদিও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং। বলেন, “কামারহাটি বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে না। মিথ্যা দোষারোপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরেই সামনে এল আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও মনোজ ভর্মার সাংবাদিক বৈঠক। সেখানে তাঁরা আরও দাবি করেন, 'সাম্প্রতিক উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন আইনকানুন রক্ষার জন্য রাজ্য সরকার ও প্রশাসনকে সতর্ক করেছে। সেই সময়েই তিন বছরের পুরনো একটি ঘটনা নিয়ে, ঘটনায় নিগহীতের লিঙ্গ পরিচয় বিকৃত করে, যেভাবে অশান্তি করার চেষ্টা করা হয়েছে, তাতে রাজ্য সরকার উদ্বিগ্ন। আলাপনের কথার সূত্র ধরে মনোজ ভার্মা জানান, আড়িয়াদহের এই মারধরের ভিডিও একবার নয়, বারবার এসেছে সামনে। তেমনি পুলিশও বারবারই পদক্ষেপ করেছে। এটাই প্রথম নয়। এলাকায় যাঁরা যখনই ঝামেলা বাঁধানোর চেষ্টা করেছে, পুলিশ জানার সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ করেছে। এই ঘটনায় প্রথম যে ভিডিও সামনে এসেছে, তাঁদের মধ্যে ৬ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শেখ শাহজাহান, জেসিবি, জয়ন্ত: পাড়ায় পাড়ায় বাহুবলী এটাই তৃণমূলের সংস্কৃতি?

Sheikh Shahjahan, JCB, Jayant Singh: সরকার পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা যদি তৈরি না হতো কেউ কি কোনওদিনও শেখ শাহজাহানের দাপটের আঁচ পেত?

গত কয়েক দিন ধরে রাজ্য জুড়েই একের পর এক গণপিটুনির ঘটনা সামনে এসেছে। জেলা থেকে শুরু করে খাস কলকাতাতেও। কোথাও ছেলেধরা সন্দেহে তো কোথাও মোবাইল চোর সন্দেহে। কোথাও আবার সালিশি সভায় গণপিটুনির ঘটনা। একের পর এক গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বিগ্ন রাজ্য় সরকার। এদিন আড়িয়াদহ নিয়ে কথা বলতে এসে বাঁকুড়ার সাম্প্রতিক গণপিটুনি নিয়েও মুখ খোলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও মনোজ ভর্মা। বাঁকুড়ার খাতরায় বিজেপির বুথ সেক্রেটারি বঙ্কুবিহারী মাহাতোকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সেই অভিযোগের টুইটটি রিটুইট করে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, 'খাতরায় একটি ঘটনা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় খাতরা থানায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই একই গ্রামের তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, যে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং নিহত ব্যক্তি মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন সেই জমিতে একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়, যা খুন অবধি গড়ায়।'

এদিন সে ঘটনা নিয়ে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, 'একটি জমি বিতর্কের গায়ে অকারণে রাজনীতির রং লাগানো হচ্ছে। রাজ্য সরকার সেটাও পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতে চায়।' তাঁর কথার সূত্র ধরে এডিজি বলেন, 'এটা ৯ তারিখের ঘটনা। জমি নিয়ে দুই পড়শির ঝামেলা ছিল। গাছ কাটা নিয়ে ঝামেলা হয়, এক জন মারা যান। সেদিনই অভিযোগ নিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।' এছাড়া চোপড়া কাণ্ডেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।