সাংবাদিকদের উপর রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলার বিকল্প সংবাদমাধ্যমের সমস্বর

News Click Vs Central Govt: স্বাধীন সাংবাদিকদের উপর এই নির্লজ্জ আক্রমণকে আমরা ধিক্কার জানাই। আমরা এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বারবার লিখতে, বলতে, জনমত গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

inscript
৩ মিনিট
সাংবাদিকদের উপর রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলার বিকল্প সংবাদমাধ্যমের সমস্বর

নিউজক্লিক ওয়েবসাইটের সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ এবং সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অমিত চক্রবর্তী গতকাল ভোর থেকে জেরার পর রাতে গ্রেফতার হয়েছেন, নিউজক্লিকের অফিস সিল করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। হবে না-ই বা কেন? সাংবাদিক মানে তো হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সং। মোদী-শাহ, আদানি-আম্বানি এবং হিন্দুত্ববাদের বেসরকারি মুখপাত্র। এটাই যেন স্বতঃসিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দেশে। আর যে বা যাঁরা প্রশ্ন করেন, 'না' বলেন, শিরদাঁড়াটা বিক্রি করতে রাজি হন না, ঘৃণার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, তাঁদের জন্য জারি অলিখিত জরুরি অবস্থা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা, ২০২২ সালে নিশানা করা হয়েছে ১৯৪ জন সাংবাদিককে।

দেশদ্রোহিতা থেকে মানহানি -- আইন অপব্যবহারের চূড়ান্ত নিদর্শন দেখেছি আমরা, ইন্ডিয়া তথা ভারতের জনতা। সাংবাদিকদের গতিবিধি মাপতে কখনও মুখোশের আড়াল থেকে পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। কখনও আবার ইডি, সিবিআই আসরে নেমে দিনভর তল্লাশির নামে হয়রান করেছে স্বাধীন সাংবাদিকদের, মোদি-শাহের আনুগত্য অস্বীকার করা প্রতিষ্ঠানগুলিকে। এই তালিকাতেই শেষ সংযোজন, নিউজক্লিকের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১২ জন স্বাধীন সাংবাদিক/সম্পাদক, সমাজকর্মী, ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞানী, রাজনৈতিক কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি। ৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার), ২০২৩, মোট ৩৫টি জায়গায় অমিত শাহের দিল্লি পুলিশের অভিযান চলেছে। পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা, অভিসার শর্মা, অনিন্দ্য চক্রবর্তী, ভাষা সিং, সঞ্জয় রাজৌরাদের মোবাইল, ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নিউজক্লিকের অন্যান্য কর্মীর বাড়িতেও হানা দেওয়া হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রবীণ সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতাকে বারবার হেনস্থা, কীসের মাশুল?

NewsClick Journalists Harassed : পরঞ্জয় সাম্প্রতিক অতীতে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করে দাবি করেন যে, তাঁর ফোন পেগাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে হ্যাক করা হয়েছে।

কখনও দিল্লি পুলিশ, কখনও আবার ইডি, সিবিআইকে ব্যবহার করে স্বাধীন সাংবাদিকদের হেনস্থার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। কারণ এই ঘটনা প্রথম নয়। গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে বিবিসির সাম্প্রতিক তথ্যচিত্র সম্প্রচারিত হতেই তাদের দিল্লি, মুম্বই অফিসে আয়কর হানা কেউ ভোলেনি। কেউ ভোলেনি দুর্ভেদ্য মণিপুরে ঢুকতেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর ঘটনা। অতীতে বেশ কয়েকবার নানা ছুতোয় নিউজক্লিকের অফিসে ইডি হানা এবং সম্পাদককে ঘন্টার পর ঘন্টা জেরার ঘটনা ঘটেছে। মজার কথা, দেশপ্রেমিক সরকার এবার হাতিয়ার করেছে মার্কিনি কাগজ নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনকে। সেখানে তেমন কোনও প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়েছিল নিউজক্লিক টাকা পেয়েছে চিনের হয়ে প্রোপাগান্ডা করার জন্যে। অর্থাৎ অপছন্দের সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে বেদবাক্য বলে মেনে নিতে সরকারের আপত্তি নেই, যদিও সেখানে সমালোচনা করা হলে বলা হয় ভারতকে আক্রমণ করছে পশ্চিমী মিডিয়া।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রশ্ন করলেই রাজরোষ! স্বাধীন মিডিয়াকে কেন ভয় পাচ্ছে মোদি সরকার?

News Click Vs Central Govt : সরকারের সমালোচনা করলেই হয় সিবিআই, নয় ইডি না হলে আয়কর দফতরের হানা।

ইতিমধ্যেই এই আক্রমণের নিন্দায় সরব হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি। উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া। কিন্তু গোদি মিডিয়া স্পিকটি নট। স্বাভাবিকভাবেই তাদের দাসানুদাস বাংলার টিভি, ডিজিটাল মিডিয়ায় এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়নি। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়নি। হবে, এমন মনে করারও কারণ দেখি না। কারণ আমরা জানি, এই কুচক্রের কারণেই ১৮০টি দেশের মধ্যে প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুযায়ী ভারতের স্থান ১৬১-তে।

এই জায়গায় দাঁড়িয়ে, স্বাধীন সাংবাদিকদের উপর এই নির্লজ্জ আক্রমণকে আমরা ধিক্কার জানাই। আমরা এই দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বারবার লিখতে, বলতে, জনমত গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ সাংবাদিকের সেটাই ধর্ম বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা জানি, চুপ করে থাকা মানে মেনে নেওয়া। আমরা চাই, এই মুহূর্তে এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে নাগরিক প্রতিরোধ গড়ে উঠুক। কোনও রাজনৈতিক দল নয়, সাধারণ মানুষের কাছেই আমাদের আবেদন, যে ইডির সাফল্যের হার ০.০৪%, যে সিবিআই দুর্নীতি মামলায় ৩% সাফল্য পেয়েছে, যে দিল্লি পুলিশ তিন বছর আগে রাজধানীর বুকে ৭২ ঘন্টা হিংসার মধ্যে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে ছিল, তাদের বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করার আগে দু"বার ভাবুন। ভাবুন কীভাবে এই সংস্থাগুলি শাসকের অঙ্গুলিহেলনে নাচছে, হেনস্থা করছে আমাদেরই সহ-নাগরিকদের। আর দিনভর আপনার ফোকাস অন্য দিকে ঘুরিয়ে রাখছে গোদি মিডিয়া। এই অন্যায় রুখতে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ছাড়া কোনও দ্বিতীয় পথ খোলা নেই। অনুরোধ, আমাদের এই প্রতিবাদে আপনিও শামিল হোন, পক্ষ নিন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।