কোথাও রসের হদিশ, কোথাও ঘিয়ের গন্ধ, উত্তর থেকে দক্ষিণে রাজ করছে বাংলার যেসব মিষ্টি

Bengals sweets : নীহাররঞ্জন রায় তার ‘বাঙালির ইতিহাস’ বইয়ে বাঙালির মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের যে বিবরণ দিয়েছেন তাতে ছানার উল্লেখ নেই, জানেন কেন?

Kankana Mukherjee
৪ মিনিট
কোথাও রসের হদিশ, কোথাও ঘিয়ের গন্ধ, উত্তর থেকে দক্ষিণে রাজ করছে বাংলার যেসব মিষ্টি

কথায় বলে ‘মাছে ভাতে বাঙালি’, কিন্তু শেষ পাতে একটু মিষ্টিমুখ না হলে বাঙালির পেট পুজো ঠিক জমে না। মিষ্টি নাকি শুভ তাই, শুরুর আপ্যায়নে মিষ্টিমুখই ভরসা জোগায়। ফলত চড়া ব্লাড সুগার উপেক্ষা করে লুকিয়ে চুরিয়ে হলেও মিষ্টি বাঙালিকে খেতেই হবে। বাঙালির এই মিষ্টি প্রেমের ইতিহাসটা অনেক লম্বা, ঘরে তৈরি নারকেল নাড়ু কিংবা গুড় চাকতি থেকে শুরু করে আজকের দিনের নানা রকম বাহারি মিষ্টি, সবকিছুতেই রয়েছে এক রসনা তৃপ্তি এবং মননের সন্তুষ্টির ইতিহাস।

আজকের আধুনিক মিষ্টির যুগে মূল উপকরণ হল ছানা। কিন্তু প্রথম দিকে ছানা ও ছানার তৈরি মিষ্টি একরকম পরিত্যাজ্যই ছিল ধর্মীয় কারণে। পরবর্তীকালে ষোড়শ শতকে পর্তুগিজদের হাত ধরে বাঙালির পাতে পাকাপাকিভাবে আসন গ্রহণ করে ছানা। শোনা যায়, পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল অঞ্চলে পর্তুগিজরা তাদের খাঁটি গড়ে তোলার পর শুরু হয় ছানার যাত্রা। ফলে সঙ্গত কারণেই নীহাররঞ্জন রায় তার ‘বাঙালির ইতিহাস’ বইয়ে বাঙালির মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের যে বিবরণ দিয়েছেন তাতে ছানার উল্লেখ নেই, কিন্তু বাঙালির মিষ্টির ইতিহাসের সেই ছক ভাঙছে প্রখ্যাত সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যাল -এর ‘রূপমঞ্জুরী’ উপন্যাসে ছানার মিষ্টির প্রচলন এর উল্লেখে।

এন্টনি ফিরিঙ্গির সেই বিখ্যাত ভোলা ময়রা থেকে শুরু করে একালের পরিচিত নবীনচন্দ্র দাস, যুগে যুগে এঁদের হাতের জাদুতেই বাঙালির আবেগের অপর নাম হয়ে উঠেছে মিষ্টি। ঘরোয়া কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্লাইম্যাক্স যে মিষ্টি, তার লম্বা জার্নিতে বাংলার নানা জেলা নিজেদের মতো করে রসদ জুগিয়ে এসেছে। আর তাই এরকম কিছু জেলার মিষ্টির উল্লেখ ছাড়া হয়তো সত্যিই বাঙালির জীবের স্বাদকে বর্ণনা করা অসম্ভব। সুতরাং, জানা যাক তাদের কথা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শুধু ঝোল কিংবা অমলেট নয়, মিষ্টিতেও বিকল্প নেই ডিমের

Recipe : কাজুবাদাম, কিসমিস, আমন্ড, আখরোট, পেস্তা কুঁচিয়ে ইচ্ছেমতো সাজিয়ে পরিবেশন করুন ‘ডিমের রাবড়ি’

বাঙালির মিষ্টি প্রেমের জার্নিতে যে সব মহিমায় থেকে গেছেন সে হল কলকাতার রসগোল্লা। ১৮৬৬ সালে কলকাতার বাগবাজারে নবীনচন্দ্র দাসের হাত ধরে তার আগমন। বাঙালির আবেগ এই রসগোল্লা, তাকে রীতিমতো লড়াই করে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে জয় করে বাংলা। কিন্তু এখানে তো যাত্রা সবে শুরু রসগোল্লার সঙ্গে কলকাতার কাঁচাগোল্লা, অমৃতি কিংবা লেডিকেনির স্বাদ সাথে নিয়ে হাওড়া থেকে ট্রেনে চেপে হুগলির চৌকাঠে পা রাখলেই বাঙালির মনে পড়ে যায় গুপ্তিপাড়ার বিখ্যাত ‘গুপো সন্দেশ’, ‘জানাইয়ের মনোহরা’ কিংবা সেই প্রচলিত জামাই ঠকানোর মিষ্টি ‘জলভরা’র কথা।

তারপর ট্রেন যখন সবে বর্ধমান ছুঁইছুঁই, বাঙালিকে হালকা বিরতি নিতেই হয় শক্তিগড়ের ল্যাংচা মহলে। শোনা যায় বর্ধমানের এমন এক কারিগর এই মিষ্টি তৈরি করেছিলেন যাঁর একটি পা ছিল ভাঙা, তাই সেই থেকেই নাকি এই ভাজা মিষ্টির নাম হয় ল্যাংচা। যদিও নামকরণ নিয়ে বিতর্ক আরও অনেক আছে। এরপর বর্তমান স্টেশনে নেমে বাঙালি চেখে দেখে চিরকালীন নস্টালজিয়া সীতাভোগ আর মিহিদানাকে। ১৯০৪ সালে বড়লাট জর্জ ন্যাথানিয়েল কার্জন -এর বর্ধমান আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে ভৈরব চন্দ্র নাগের হাতে জন্ম এই সীতাভোগ এবং মিহিদানার।

তারপর আবার অন্য ট্রেনে চেপে বীরভূম বাঁকুড়া আর পুরুলিয়ার পথে বাঙালিকে টেনে নিয়ে যায় তার রস নাই আমাদের ভালোবাসার তালিকায় নতুনভাবে সংযোজিত হয় বীরভূমের রসমালাই কিংবা বাঁকুড়ার মেচা সন্দেশ। অতঃপর পুরুলিয়ার কাস্তার লাড্ডু।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গুড়ের সন্দেশকে টেক্কা দিল চকলেট সন্দেশ! মিষ্টিমুখেও সাম্রাজ্যবাদ

Nalen Gur: বাহারি ডার্ক চকোলেটের পাশে ম্রিয়মাণ নলেন গুড়, বিষণ্ণ সন্দেশ, আর একখানা রুগ্ন অস্তিত্ব সংকট।

এরপর ধরুন ফিরতি পথে অন্য রাস্তা ধরে কাঁথির কাজু বরফি, ডেবরার মুগের জিলাপি, আর ক্ষীরপাই -এর বাবরসার স্বাদ নিয়ে নিলেই বাঙালির ষোলকলা পূর্ণ হয়ে যায় খানিক। আর তারপর যদি জয়নগরের প্রতি একটু হাঁটা দিয়ে পূর্ণচন্দ্র ঘোষ ওরফে বুঁচকি বাবু এবং নিত্যগোপাল সরকারের শীতকালীন মোয়ার স্বাদ চেখে দেখা যায় তবে তো আর কথাই নেই!

না এত সহজে বিরাম নেই, এরপর আবার অন্য পথে স্বাদের যাত্রা। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের দুই বিখ্যাত মিষ্টি সরপুরিয়া এবং সরভাজা। দুধের সর এবং ঘি -এর এই রসায়ন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় নাম। প্রচলিত মতে, এদের সৃষ্টিকর্তা কৃষ্ণনগরের অধর চন্দ্র দাস। এছাড়াও নদীয়ার নবদ্বীপের কালিপদ মোদকের তৈরি লাল দই বা ক্ষীর দই অন্যতম প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন। শোনা যায়, হাজার ১৯৩০ সালে মিষ্টান্ন পরিবারের কুলীন সদস্য সাদা দই বা দধির এই নতুন রাঙা রূপে সেজে ওঠা এই নবদ্বীপেই।

নদিয়া ছাড়িয়ে মুর্শিদাবাদের পথে এগোলে বাঙালির স্বাদের ঝুলিতে যোগ দেয় বহরমপুরের বিখ্যাত ছানাবড়া। যাক, এতক্ষণে বাঙালির মিষ্টির থলি বেশ ভরে উঠেছে দক্ষিণবঙ্গের স্বাদে। ফলত দক্ষিণের পেট পুজো সামলে মিষ্টিপ্রেমী বাঙালির এবার নজর কাড়ে উত্তরের জেলাগুলোও। উত্তরবঙ্গের মালদহের বিখ্যাত মিষ্টি হিসেবে প্রথমেই আসে কানসাট এবং রসকদম্বের নাম। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে ওপার বাংলার শিবগঞ্জ জেলার কানসাট অঞ্চল থেকে প্রসিদ্ধ এই মিষ্টিটি ব্যবসায়িক মহেন্দ্রনাথ সাহার পুত্র বিজয় কুমার সাহার হাত ধরেই বাংলার মালদহে ক্ষীরের মিষ্টি, কানসাটের যাত্রা শুরু। অপরদিকে কথিত আছে, আলাউদ্দিন হোসেন শাহর রাজত্বকালে গৌড় বা মালদার রামকেলিতে এসে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব ফুল ভর্তি কদম গাছের নিচে বিশ্রাম নেন। এখানেই তিনি রূপ সনাতনকে দীক্ষা দেন। শোনা যায়, এই ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতেই মালদাহের কারিগরেরা তৈরি করেন রসকদম্ব বা রসকদম।

এছাড়াও জলপাইগুড়ির চমচম, কোচবিহারের মন্ডা, শিলিগুড়ির লালমোহন বা গোলাপজাম কিংবা আলিপুরদুয়ারের বিখ্যাত কমলাভোগ, আজকের পরিচিত মিষ্টির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, এ কথা অবশ্য স্বীকার্য।

কিন্তু উত্তর দক্ষিণ এত ঘুরেও বাঙালির এই মিষ্টি প্রেমের তালিকা কিছু হাতে গোনা অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টির নাম দিয়ে বিচার করা যায় না। সারা বাংলা জুড়ে আরো বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই বাঙালির মনের মহলে জাঁকিয়ে বসে রয়েছে। যেমন - গজা, খাজা, সন্দেশ, জিলিপি, বোঁদে, গুজিয়া, রাবড়ি, রাজভোগ, লর্ড চমচম, মালপোয়া কিংবা শীতের পিঠেপুলি সহ আরও কত কি! ভালোবাসার টানে জেলার গণ্ডি পেরিয়ে সারা বাংলার মিষ্টি আজ একাকার হয়ে গেছে। মিষ্টি তাই বাঙালির মননের তৃপ্তি থেকে জীবনের ছন্দে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল আছে এবং থাকবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।