টাইটানিক থেকে অবতার, সত্যজিৎ লুকিয়ে ছিলেন সর্বত্র

Soukarya Ghosal
৪ মিনিট
টাইটানিক থেকে অবতার, সত্যজিৎ লুকিয়ে ছিলেন সর্বত্র

এলন মাস্ক যতই লাফাক না কেন, ব্যাপারটা অমঙ্গুলে হতেই পারে, এটা মাথায় ঢুকিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। আজ আর বলতে দ্বিধা নেই, আমার বয়সি ছেলেরা যখন গাঁতিয়ে ফুল হ্যান্ড ক্রিকেট খেলত বড় মাঠে, তখন আমাকে ওয়ান ড্রপ ওয়ান হ্যান্ড খেলতেও দলে নিত না গলি ক্রিকেটের স্টুডেন্টরা। কারণ আমি স্পিন খাওয়া বলের দিকে তাকিয়ে ভাবতাম, কী যে ভাবতাম, মনে নেই! বোধহয় ভাবতাম, এই বুঝি মহাবিশ্বের লীলা! পৃথিবীকে নিয়েও আসলে বুঝি কেউ ক্যাচ ক্যাচ খেলছে, আর তা করতে করতেই ড্রপ খাওয়া বল ভেঙে দিত উইকেট। তাই আমি ঘুড়ি ওড়াতাম। কিন্তু মুশকিলটা হল, বিশ্বকর্মা পুজো ছাড়া সারা বছর লোকে যেহেতু আকাশকে খুব একটা খাতির করত না, তাই ঠা ঠা রোদে গোটা নীলে আমার ঘুড়িটাও একা একা দাঁড়িয়ে থাকত আমার মতো। তাই আমি তারপর ঘরে চলে এলাম, আর আমার হাতে এল 'ব্যোমযাত্রীর ডায়রি'। তখনই প্রথম জানলাম, মঙ্গল ব্যাপারটায় খটকা আছে। 'টাফা'-র মতো কিছু খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত গ্লোবাল ওয়ার্মিং, প্যানডেমিক, মব প্যাঁদানির হাত থেকে রেহাই আমাদের তেমন একটা নেই। অর্থাৎ, কল্পনাই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ নভোযান। আসল ব্যাপারটা হল, অকালপক্ক অবস্থায় শঙ্কুর ল্যাবরেটরিতে ঢুকে পড়া। কারণ, ওখান থেকেই পেয়েছিলাম কল্পনার নভোযানের বোর্ডিং পাস। প্যারালাল ইউনিভার্সের অবলিক শর্টকাট।

নিউটন-প্রহ্লাদদের দুনিয়ায় যেমন যা ইচ্ছে তাই হতে পারে, তেমনটা হতে থাকে আমাদের মনেও। কয়েকজন বিভিন্ন জায়গায় থাকা জ্ঞানী বিজ্ঞানীকে স্বপ্নে নিমন্ত্রণ করে, তাদের পাণ্ডিত্যকে কাঁচামাল বানিয়ে একটা গোটা দ্বীপ আলোকিত করা যায়- এই ইন্টারডিসিপ্লিনারি এনার্জি থিওরি ব্যাপারটা কনজার্ভেশন তত্ত্বকে অ্যায়সান বুড়ো আঙুল দেখায় যে, গোটা ক্লাসে যখন সবক'টা ছেলেমেয়ে মুখ বুজে বোরিং ফিজিক্স ম্যামের কথা মেনে নিচ্ছিল, তখন বুক ঠুকে বলতে ইচ্ছে করেছিল, চলুন 'স্বপ্নদ্বীপ', আপনাকে স্পষ্ট দেখাচ্ছি, এনার্জি ক্যান বি পড়ে পড়ে ক্রিয়েটেড অ্যান্ড বলে বলে ডেস্ট্রয়েড।

কিন্তু সত্যজিতের সেই স্বপ্নদ্বীপ তো আর নিছক গল্পের জন্য বানানো কোনও মগের মুলুক নয়, একটা প্রফেসির মতো, দিব্যদর্শন। যা মাথার মধ্যে একটা ঝলমলে বোটানিক্যাল গার্ডেনের সন্ধান দেয়, অনেক পরে জেমস ক্যামেরনের 'অ্যাভাটা' বা 'অবতার' দেখতে গিয়ে খালি মনে হয়, এই জঙ্গলে আগে ঘুরে গেছি। ঠিক যেমন, 'ইন্টারস্টেলর'-এর টার্সকে দেখলে মনে হয়, ও আগের জন্মে নিশ্চয়ই বিধুশেখর ছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শঙ্কুর শেষ গল্পে লুকিয়ে ছিল বাবরি মসজিদ ভাঙার অশনি সংকেত?

Satyajit Ray Professor Shanku: শঙ্কুর শেষ কাহিনিতে যখন স্বৈরতান্ত্রিক শাসন-ব্যবস্থার বিরোধিতা করছিলেন সত্যজিৎ, তখন তাঁর দেশের রাজনীতির অবস্থা কী?

আসলে সায়েন্স ফ্যান্টাসি ব্যাপারটায় যে স্কুলকাল থেকে নেশাগ্রস্ত হয়েছিলাম, এর কারণটাই সত্যজিৎ রায়। এবং ফিজিক্স যে আসলে প্রতিদিনের, প্রতি মুহূর্তের ব্যবহারযোগ্য একটা বিদ্যা, এটা ভেক্টর-স্কেলার পড়ার বহু আগেই জেনে গিয়েছিলাম, ফেলুদা যখন থুতু ফেলতে গিয়েও প্যারাবোলিক কার্ভের কথা বলেছিল। যে মুহূর্তে টাইটানিক জাহাজ থেকে জ্যাক আর রোজ থুতু ফেলার কম্পিটিশন করে একটা অকারণ মজা পাচ্ছিল, সেসময় আমি বুঝতেই পেরেছিলাম, এটা স্রষ্টার ফেলুদা না পড়ার কুফল। ইনফ্যাক্ট, একটু বড় হয়েও যখন উইন্সলেটের প্রেমে পাগল হয়ে 'ইটারনাল সানশাইন অফ দ্য স্পটলেস মাইন্ড' দেখতে বসেছি, তখনও সত্যজিতের কিশোর ইউনিভার্স পিছু ছাড়েনি। 'লাকুনা, লাকুনা' বলে এত কিছু করে ব্যাপারটা যখন পুরোটা প্রকাশ পেল, তখন দেখলাম বেসিকালি জিনিসটা যেন শঙ্কুর রিমেমব্রেন, সফটওয়‍্যার আপডেট নেয়নি বলে বাগ-এ ভরে গেছে।

আমাদের কিশোরকালে ইন্টারনেট এতটা সহজলভ্য ছিল না, সত্যজিতের কিশোর সাহিত্য ছিল। আর মজার কথা হল, যারা সেসব পড়েনি, তারাই হাইস্কুলে লেননের গানের চাইতে ওর এল.এস.ডি. ট্রিপের গল্প নিয়ে বেশি রোমাঞ্চিত হয়েছে। কারণ লালমোহনবাবু যখন কাঠমান্ডুর হোটেলে পায়ে পিষে পিষে 'মাইস্' মেরেছে, তখন তারা গাঁতিয়ে ফুলহ্যান্ড ক্রিকেট খেলে বেড়িয়েছে।

সত্যজিতের কিশোর ইউনিভার্স আসলে তো নিছক কল্পনার উদ্যান নয়। একটা স্কুল যেখানে আটটা-ন'টার সূর্যের মতো মন হোক বা কাঁচা আমির মতো মন হোক, সকলেরই জীবনের বহু কিছু জানা প্রথম জানা হয়। সারা জীবন ধরে বয়সের পরতে পরতে নতুন তথ্য বা তত্ত্ব যখনই সামনে আসে, এক অবাক কৃতজ্ঞতা জাগে। মনে হয়, সেই কবে তো জানতাম এটা। শিখেছিলাম সত্যজিতের কিশোর ইউনিভার্সের স্কুলে। ঘড়ির কোম্পানির নামে শেষ 'টি'-টা উচ্চারণ না হয়ে টিসো হোক বা ফিনিক্সের ধারণার উদ্ভব, সবই আমরা কিশোর বা শিশুকালে জেনে গেছি সত্যজিতের হাত ধরে। সত্যজিৎ আসলে শুধু গল্প বলতে বোধহয় চাননি, একটা প্রজন্ম তৈরি করতে চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মননের, জ্ঞানের। কে জানে, বিশ্বায়ন বা ডেটা সায়েন্সের পৃথিবী হয়তো আঁচ করেছিলেন গত শতাব্দীতে বসেই।

আর মজার ব্যাপারটা হল, এর প্রভাব অনুভব করা যায় ঘন ঘন, সারা জীবন। মৃগাঙ্কবাবুর কথা ধাঁ করে মনে পড়ে গেল, যখন কলেজে উঠে কাফকা পড়তে হয়েছিল। ছবি আঁকার সুবাদে অবনীন্দ্রনাথ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা যখন শুরু হল, হঠাৎ চমকে গেলাম, কারণ 'কুটুম কাটাম' শব্দের মজা ছেলেবেলাতেই চাখিয়ে দিয়েছেন সত্যজিৎ।

অনেক সময় যারা মনের দিক থেকে অনেক বয়সে বড় আর ভারী হয়ে গেছে, তারা বলত, এসব আমার বাড়াবাড়ি। সবেতেই সত্যজিতের কিশোর ইউনিভার্সের রেফারেন্স আসলে একপ্রকার ওসিডি। আমিও তাই অবসেশন আর কম্পালশন থেকে বেরনোর চেষ্টা করলাম প্রাণপণে। একদিন শ্রীঅরবিন্দর জীবনীর মতো গম্ভীর ব্যাপারস্যাপার পড়তে পড়তে অমিতাভ বুদ্ধর কথা পড়লাম। তা যা হয়, একটা থেকে একটায় আমরা চলে যাই যেমন। বৌদ্ধ যোগীদের মতো গম্ভীরতর একটা ইতিহাসে গিয়ে প্রথমেই দেখি, জ্বলজ্বল করছে একটা নাম, যা আমার ভারী মনের বন্ধুদের ওসিডি তত্ত্বকে ঘ্যাঁচ করে কেটে দিয়ে ছেলেবেলার আকাশের একাকী ঘুড়িটার মতো উড়িয়ে নিয়ে গেল ডুলুংডো-র রাস্তায়। যেখানে যাওয়ার আগে শঙ্কু মৌনি লামার কাছে খোঁজ করেছিল মিলারেপা-র। বৃদ্ধ লামার মতো আমার কিশোর মনটা হঠাৎ কোত্থেকে উদয় হল আর কোনও কথা না বলে ডান হাতের তর্জনীটা সোজা তুলে বসে রইল। মানেটা বুঝতে অসুবিধে হল না– সত্যজিৎ একজনই ছিলেন, তিনি আজও কোনও মন্ত্রবলে আমাদের মনকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেন তার কিশোর ইউনিভার্সে। যখনতখন।

লিখেছেন
Soukarya Ghosal
Soukarya Ghosal
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাছ-ভাত খেয়ে দেবী বরণ আর কী কী বিশেষ রীতি পালন করা হয় ২২০ বছরের রাজকৃষ্ণ মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজোয়?

Rajkrishna Mitra House Durga Puja: দর্জিপাড়ার রাজকৃষ্ণ মিত্রের বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন দুর্গাপুজোতে ২২০ বছর ধরে একই রীতি মেনে পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোর বিশেষত্ব শুধু তার প্রাচীনত্বে নয়, দেবীর ভোগ, নৈবেদ্য, পারিবারিক খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দশমীর বরণ; প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে নিজস্ব কিছু নিয়ম। যার মধ্যে অন্যতম, দশমীর দিন মাছ-ভাত খেয়ে দেবীকে বরণ করেন বাড়ির মহিলারা। আবার যে পুজোয় একসময় বলির রীতি ছিল, সেই পুজোতেই এখন বলির পরিবর্তে দেওয়া হয় চিনির নৈবেদ্য।

ইস্টবেঙ্গলের জয়ে কোমা ভেঙে চোখ মেলেছিলেন শচীনকর্তা

S D Burman's love for East Bengal: শচীনকর্তার একমাত্র পুত্র ‘পঞ্চম’ বাবার কানের কাছে চিৎকার করে উঠলেন— “বাবা… ইস্টবেঙ্গল জিতসে… পাঁচ-শূন্য!” আর তারপরই ... যে মানুষটি নির্জীব পড়েছিলেন, যাঁর স্নায়ু কোনো ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না—তাঁর চোখের কোণ সামান্য কেঁপে উঠল। ধীরে ধীরে শচীনকর্তা তাঁর অক্ষিপট মেলে তাকালে। ব্যাস, ওইটুকুই। এর পর আর কোনোদিন তিনি চোখ খোলেননি।

যে দুর্গাপুজোয় সাধারণের প্রবেশ ছিল নিষেধ, সেখান থেকেই যেভাবে হলো সর্বজনীন পুজোর শুরু

history of Durga Puja in Kolkata: ব্রিটিশ কলকাতায় সেই পুজোর ধরন বদলাতে শুরু করল; বদলাল গেট-টুগেদারের ধরনও। আর কলকাতার দুর্গাপুজো আদতে হয়ে উঠল কোম্পানির পুজো। মানে কোম্পানির লোকেদের তোয়াজের জন্য করা পাঁচ দিনের অনুষ্ঠান। সেই পুজোর থেকে ইংরেজদের মনোরঞ্জন করা প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

প্রেমে, ঈর্ষায়, ভ্রমণে মারিয়া কোদামার চোখে কেমন ছিলেন বোর্হেস?

Jorge Luis Borges: ২০১৯ সালে প্রকাশিত এই সাক্ষাৎকারে লেখকের বিধবা স্ত্রী মারিয়া কোদামা তাঁদের অনন্য সম্পর্ক ও একান্ত যাপনের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। মারিয়া কোদামা মৃত্যুবরণ করেন ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছিলেন পাবলো হিয়েনেরা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, পরে লা নাসিয়ন (La Nacion) পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ২০২৩ সালের ২৫ মার্চ। সাক্ষাৎকারটি স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেসবিশেষজ্ঞ কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন।

এনসিইআরটি-র নতুন ইতিহাসের বই হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চাকে নতুন জায়গা করে দিচ্ছে?

NCERT Class 9 Book controversy: নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বই 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি'-র 'রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স' অধ্যায়ে সপ্তম শতক থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে আরব, তুর্কি, মুঘল ও ইউরোপীয় আক্রমণের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় উদ্দেশ্য ও হিন্দু রাজাদের দেবী-প্রদত্ত তলোয়ারের উল্লেখ রয়েছে। মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাঠ-শিখ-রাজপুত-অহোম প্রতিরোধের বর্ণনা। হিন্দুত্ববাদী লেখক জে. সাই দীপকের 'মধ্যপ্রাচ্যের ঔপনিবেশিকতা'র ধারণা ও হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ মীনাক্ষী জৈনের গবেষণার ছায়ায়, এভাবেই তৈরি হচ্ছে নতুন সাম্প্রদায়িক ইতিহাসচর্চার পরিসর।

‘গ্রাহক পঞ্চায়েত’-এর সভায় ছুরি কোথা থেকে এল?

SRFTI Kolkata clash: সমাজমাধ্যমে যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে—এক ব্যক্তি হঠাৎ পিছন থেকে এসে এক শিক্ষার্থীকে সজোরে লাথি মারছে। অথচ ঠিক সেই মুহূর্তেও পিছনের দেওয়ালে ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া ব্যানারটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় ঝুলছিল। অর্থাৎ, যে ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগকে সামনে এনে এত প্রচার চালানো হচ্ছে, তখনো পর্যন্ত সেই ব্যানারে কোনো আঁচড়ও পড়েনি।

চার-পাঁচ বছর নিয়েছিল তৃণমূল, বিজেপি মাত্র চারমাস

SRFTI incident: গোটা দেশে যখন মানুষের বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ ঘটতে শুরু করেছে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এল। অথচ একসময় গর্বের সঙ্গে বলা হতো—“হোয়াট বেঙ্গল থিঙ্কস টুডে, ইন্ডিয়া থিঙ্কস টুমরো।” আজ তা যেন উল্টে গিয়েছে।

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।