ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচাতে কলকাতায় মশারির ভিতর ফুটবল!
FIFA World Cup 2022: মশারির ভিতরেই চলছে ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা; তাও খোদ কলকাতায়। ব্যাপার কী?

কেবল কাতার নয়, গোটা বিশ্বই এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। অলিতে-গলিতে, বড় রাস্তার মোড়ে, বাড়ির ছাদে, গাড়ির বনেটে প্রিয় দলের পতাকা লাগিয়েছেন, কাউকে আবার প্রিয় দলের জার্সি গায়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যাচ্ছে। পাড়ার ক্লাবগুলোতে ফাঁক পেলেই ফুটবল নিয়ে নেমে পড়ছে কচিকাঁচারা। কলকাতাও তার ব্যতিক্রম নয়। এই শহরের পথ শিশুদেরও খেলতে ইচ্ছা করে, ইচ্ছা করে মেসি, রোনাল্ডো, নেইমারদের হয়ে গলা ফাটাতে। কিন্তু কোথাও যেন সেই ভরসাতে একটু ভয় ঢুকে আছে। সেখানে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে 'ডেঙ্গু'। আসলে শহরে যেভাবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে তাতে রীতিমত আশঙ্কিত সাধারণ মানুষ। চিন্তায় রয়েছেন কচিকাঁচাদের বাবা-মা থেকে চিকিৎসকরাও। ফলে ফুটবল খেলতে যাওয়ার আগে অনেক বাবা-মা'ই দু'বার ভাবছেন। খোলা মাঠে ফুটবল খেললে তাঁদের ছেলেমেয়েরা যদি ডেঙ্গুকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফিরে আসে! তাছাড়া ফুটবল তো আর কোনও ইনডোর গেম নয়। ফুটবল মাঠে একটি মশাও প্রবেশ করবে না, ডেঙ্গুর মশা হুল ফোটাবে না এমন নিশ্চয়তাও কেউই দিতে পারবে না।
কিন্তু এমনটা যদি হয়! ফুটবল খেলাও হবে অথচ মশাও সেই নিরাপত্তার বেড়াজাল ভেদ করে মাঠে প্রবেশ করতে পারবে না!
এমনটাই ভেবেছেন এক চিকিৎসক। নাম অজয় মিস্ত্রি। ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে মশারি। আর খেলার জন্য ফুটবল। দু'টোই বিনামূল্যে দিচ্ছেন ওই চিকিৎসক।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Football World Cup: শৈলেন মান্না জানিয়েছিলেন বুট একটি কারণ হলেও মূল কারণ নয়। ভারতের বিশ্বকাপ না খেলার মূল দু’টি কারণ হল- বিশ্বকাপের প্রতি উদাসীনতা এবং অর্থাভাব।
ডাক্তারবাবু চান ওরা ফুটবল খেলুক। কিন্তু মশার কামড় যেন না খায়। খেলতে গিয়ে ডেঙ্গু যাতে না হয়, তাই একটা ছোট মাঠের সমান আয়তনের মশারি অর্ডার দিয়ে করিয়ে দেন চিকিৎসক অজয় মিস্ত্রি। সেই সঙ্গে দিলেন নানা দেশের জার্সি, পতাকা। আর ফুটবল।
বৃহস্পতিবার সকলের দিকে দক্ষিণ কলকাতার খিদিরপুরে হেস্টিং ক্রসিং ব্রিজের নিচে অনুষ্ঠিত হলো এক অনুষ্ঠান।
১৯ ফুট বাই ২০ ফুটের বিশাল বড় মশারি টাঙিয়ে তার ভেতর ফুটবল খেলল পথশিশুরা। চিকিৎসক বলেন, 'বিগত দুই দুবছর করোনার কারণে তারা বাড়ির বাইরে খেলতে বার হয়নি। ফলে বাচ্চারা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশ্বকাপের আনন্দে এই বাচ্চাগুলো খেলতে চায়। অন্যদিকে ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি। স্বাভাবিকভাবে আমি চাই খেলতে গিয়ে যাতে কেউ ডেঙ্গুতে সংক্রমিত না হয়।'
সবকিছু দেখে কেউ কেউ ঠাট্টা করে বলছেন ভাগ্যিস কলকাতা শহরে বিশ্বকাপের আসর বসেনি! নাহলে মেসি, রোনাল্ডো, নেইমারদেরও ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচাতে মশারি খাটিয়ে ফুটবল খেলার আয়োজন করতে হতো ফিফাকে।






