যাদবপুরে সততা বনাম দুর্নীতি! সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী সৃজন ভট্টাচার্য?

Srijan Bhattacharyya: যাদবপুরে এবার সৃজন বনাম সায়নী, সততা বনাম দুর্নীতির লড়াই।

inscript
২ মিনিট
যাদবপুরে সততা বনাম দুর্নীতি! সায়নী ঘোষের বিরুদ্ধে কতটা শক্তিশালী সৃজন ভট্টাচার্য?

জটিল আসন। যাদবপুর আসনে একসময় জিতেছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন অবশ্য তিনি কংগ্রেসে। এই আসনে একাধিকবার জিতেছেন বাম নেতারা, তবে ২০১৯ সালের পর থেকে একচেটিয়াভাবে এই আসনে জিতছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০০৯ সালে জিতেছিলেন কবীর সুমন, তারপর সুগত বসু, তারপর মিমি চক্রবর্তী। তৃণমূলের সাংসদ মিমি অবশ্য পদত্যাগ করেছেন। এবার তৃণমূলের প্রার্থী সায়নী ঘোষ। আর তাঁর বিরুদ্ধে যাদবপুর কেন্দ্রে এবার বামেদের মুখ প্রাক্তন ছাত্রনেতা সৃজন ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন ধরে এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদকের পদ সামলে আসা সৃজন এর আগে, বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন সিঙ্গুর থেকে। বামেদের নতুন মুখ যারা ছিলেন, লোকসভা নির্বাচনেও তাঁদের অনেকের উপরই আস্থা রাখছে সিপিআইএম। অর্থাৎ যাদবপুরে এবার সৃজন বনাম সায়নী, সততা বনাম দুর্নীতির লড়াই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোটে হেরেও ছিলেন মমতার বিশ্বস্ত! অভিনয় থেকে দুর্নীতিতে যেভাবে নাম জড়াল সায়নী ঘোষের

Saayoni Ghosh ED: ভোটে হেরে পদোন্নতি হয়েছিল সায়নীর। সেই বছর জুন মাসেই সায়নী ঘোষকে তৃণমূল যুব সভানেত্রী ঘোষণা করেন মমতা।

১৯৭৭ সালে যাদবপুর আসনে জিতেছিলেন বামনেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসন ছিনিয়ে নিলেও ১৯৮৯ সালে আবার এই আসনে জেতেন বাম প্রার্থী মালিনী ভট্টাচার্য। তারপর তিন দফায় তৃণমূলের হয়ে জিতেছিলেন কৃষ্ণা বসু। ২০০৪ সালে তাঁর থেকে এই আসন ছিনিয়ে নেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। কিন্তু ২০০৯ সালে এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হন কবীর সুমন। তারপর থেকে তৃণমূলকে সরাতে পারেননি কেউ। নতুন প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো দুঁদে নেতা। এবার যাদবপুরের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ আসনে বামেদের ভরসা 'ঘরের ছেলে' সৃজন ভট্টাচার্য। ২০১৯ সালের লোকসভায় যাদবপুর আসনে তৃতীয় হয়েছিল সিপিআইএম। বিকাশ রঞ্জন ভট্টচার্য পেয়েছিলেন ৩ লক্ষ ২ হাজার ২৬৪ টি ভোট। মিমি পেয়েছিলেন ৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪৭২ টি ভোট। ২০১৪ আর ২০০৯ সালে এই আসনে দ্বিতীয় হয়েছিল বামেরা। ২০১৪ সালে বাম নেতা ডঃ সুজন চক্রবর্তী পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৪১ টি ভোট। আর ২০০৯ সালে সুজন পেয়েছিলেন ৪ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০০ ভোট।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টিকিট পাননি, পাঁচ বছরে যাদবপুরের জন্য কী করলেন মিমি চক্রবর্তী?

Mimi Chakraborty Jadavpur MP Performance: ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১১ টি সিনেমা করেছেন মিমি। এই বছরই বাংলাদেশের তারকা শাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন।

বিজেপির হয়ে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন ডাঃ অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। বিজেপির বুদ্ধিজীবী মহলে অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায় অত্যন্ত পরিচিত নাম। আরএসএসের ভরসার পাত্র তিনি। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন অনির্বাণ নিজে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রও ছিলেন। যাদবপুরের ছাত্র সৃজনও। যাদবপুর আসনের মধ্যে পড়ে বারুইপুর পূর্ব ও পশ্চিম, সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ, যাদবপুর, টালিগঞ্জ আর ভাঙড়। এর মধ্যে যাদবপুর আর টালিগঞ্জে বামেদের কিঞ্চিৎ দখল আছে। ভাঙড়ে দাপট আইএসএফের। কোনও জোটেই এবার যায়নি সিপিআইএম। এমন অবস্থায় ভাঙড়ে কতখানি সুবিধা করতে পারবেন সৃজন, প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। তবে এই অঞ্চলে মুসলিম ভোটের পরিমাণ নেহাত কম নয়। সায়নী তৃণমূলের হয়ে সেই ভোট ব্যবহার করতে পারেন ঠিকই কিন্তু নিঃসন্দেহে তাতে তাঁর মাথায় ঝুলে থাকা দুর্নীতির খাঁড়া সরে যায় না।

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম রয়েছে তাঁর। শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছিল তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষের। কুন্তলের সঙ্গে সায়নীর যোগাযোগ ও প্রতিপত্তি ক্রমেই বাড়তে থাকার বিষয়টি তাই ইডির রাডারে আসে। ইডির দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছেন সায়নী। আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে গত বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন সায়নী। হেরে যান সামান্য ভোটে। যুব সমাজে তাঁর দাপট রয়েছে, তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও আছে। কিন্তু যাদবপুর কেন্দ্রে আছে কি? যাদবপুর অঞ্চলে বেড়ে ওঠা সৃজন ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংগঠন সামলেছেন। ফলে ছাত্রযুবদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা নেহাত কম নয়। এবার প্রশ্ন দুর্নীতি না সততার লড়াই, কাজের দাবিতে লড়াই- যাদবপুর আসনে বামেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারক হবে কোন ইস্যু?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।