গঙ্গাবক্ষে ভাসছে মাংসাশী মাছ! কোন বিপদের আশঙ্কা করছে বিজ্ঞানীমহল?

গঙ্গা নদীতে যদি এই মাছের বংশবিস্তার ঘটে, তবে তা অন্যান্য জীবের ক্ষতি করার পাশাপাশি গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য যে বিপদ ডেকে আনবে, সেই বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরা।

Sayan Das
৩ মিনিট
গঙ্গাবক্ষে ভাসছে মাংসাশী মাছ! কোন বিপদের আশঙ্কা করছে বিজ্ঞানীমহল?

গঙ্গা নদী, ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী পুরাণ থেকে নিত্যদিনের বাস্তবতা- সর্বত্র জড়িয়ে আছে দেশবাসীর সঙ্গে। ভারতের একাধিক রাজ্যের ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে এই নদী। যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বহন করে চলেছে, ঠিক তেমনভাবেই বহু মানুষের রোজগার থেকে শুরু করে আশা-ভরসার অপর নাম 'গঙ্গা'।

অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর কথা কমবেশি আমাদের সকলেরই জানা। কথিত আছে, এই আমাজন নদীতেই নাকি বসবাস একাধিক জানা-অজানা প্রাণীর। এমনকী, আমাজনের বিখ্যাত সাপ অ্যানাকোন্ডা আমাদের সকলেরই পরিচিত। তবে শুধু সাপই নয়, হাঙর, কুমির থেকে শুরু করে বহু মাংসাশী মাছ এবং অন্যান্য প্রাণীও বসবাস করে প্রায় আট হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই নদীতে।

কয়েক হাজার মাইল দূরে থাকা এই দুই নদীর মধ্যে সাদৃশ্য নেই বললেই চলে। তবে সম্প্রতি ঘটা একটি ঘটনা গঙ্গার সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার এই নদীকেই একই সারিতে মিশিয়ে দিয়েছে। একই যোগসূত্রে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে দু'টি ভিন্ন দেশের এই দুই নদীর জল। তবে এদের মিলিয়ে দেওয়া যোগসূত্রটি কী? এক বিশেষ ধরনের মাছ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শিশুদের বড় বিপদের সংকেত দিচ্ছে মাঙ্কিপক্স, আবার নতুন ভাইরাস-আতঙ্ক ভারতে?

ইতিমধ্যেই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, শিশুদের ওপর মাঙ্কিপকের প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে এবং তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কতটা।

সম্প্রতি, উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বারাণসী জেলায় ঘটেছে এই আশ্চর্যজনক ঘটনাটি। বারাণসী শুধু ভারত নয়, বিশ্বের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। এই বারাণসীতেই গঙ্গার জলে এই মাছটি উঠে আসার পরেই শুরু হয়ে যায় চাঞ্চল্য। আসলে প্রাণীটির আকার কিংবা চেহারা দেখে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এই দেশের নয়। এমন বিচিত্র প্রাণী তাহলে এল কোথা থেকে? বৈজ্ঞানিক মহলের একাংশের ধারণা, এই প্রাণীটি দক্ষিণ আমেরিকার আমাজনের।

উত্তরপ্রদেশের বারাণসী জেলার রামনগরের রমনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা নদীতে সম্প্রতি এক নাবিকের দল মাছ ধরতে যায় এবং তখনই তারা উদ্ধার করে এই বিচিত্র প্রাণীটিকে। এরপরই দাবি করা হয় যে, ভারত থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত আমাজন নদীতে নাকি এই ধরনের মাছ পাওয়া যায়, যার নাম সাকেরমাউথ ক্যাটফিশ। অনেকেই হয়তো এই প্রাণীটির নাম প্রথমবার শুনছেন।

তবে গঙ্গা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এই মাছটিকে নিয়ে বর্তমানে গভীর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েহিসেবেছে সকলে। কারণ মাছটি মাংসাশী। অর্থাৎ, এর প্রভাবে গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে বলে মত বৈজ্ঞানিক মহলের। এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, ভারতে যে নদীগুলি বয়ে গিয়েছে, সেখানে সচরাচর মাংসাশী মাছের অস্তিত্ব মেলে না। এমনকী, বিশেষজ্ঞদের দাবি, শুধু ভারতেই নয়, পূর্ব এশিয়ার কোনও দেশেই নাকি আগে এই ধরনের মাছের খোঁজ মেলেনি। এর থেকে আন্দাজ করা যায় যে, এই প্রজাতির মাছ যদি দেশের নদীগুলির মধ্যে বংশবিস্তার করে, তবে তা প্রকৃতির জন্য হবে অত্যন্ত ভয়ানক।

এবার আসা যাক, আমাজন নদীতে বসবাসকারী এই সাকেরমাউথ ক্যাটফিশ সম্পর্কে। বর্তমানে বারাণসী অন্তর্গত গঙ্গা নদীর জলে যে প্রাণীটির খোঁজ মিলেছে, সেটির মুখের আকৃতি বিচিত্র রকমের। সাধারণত, মাছটির মুখের আকৃতি থেকে শুরু করে শরীরের ধরন, কোনওকিছুই আমাদের দেশের কোনও মাছের সঙ্গেই মেলে না; বরং এর সঙ্গে বহু গুণে সাদৃশ্য রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার মাছের প্রজাতির। বিজ্ঞানীরা আন্দাজ করছেন, কোনও না কোনও কারনে আমাজন থেকেই এরা গঙ্গা নদীতে এসে পৌঁছেছে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, এই মাংসাশী মাছের বাঁচার রসদ কী? সাকেরমাউথ ক্যাটফিশ জলের ভেতর উপস্থিত অন্যান্য ছোট ধরনের জীবকে খাওয়ার মাধ্যমে বেঁচে থাকে। ফলে গঙ্গা নদীতে যদি এই মাছের বংশবিস্তার ঘটে, তবে তা অন্যান্য জীবের ক্ষতি করার পাশাপাশি গঙ্গা নদীর বাস্তুতন্ত্রের জন্য যে বিপদ ডেকে আনবে, সেই বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞরা। সেই কারণে বৈজ্ঞানিক মহলের মত, এই প্রজাতির মাছ যদি পরবর্তীকালে গঙ্গা নদী কিংবা অন্যান্য যে-কোনও নদীর জল থেকে পাওয়া যায়, তবে সেটিকে যেন পুনরায় জলের মধ্যে না ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে এখন প্রশ্ন, কয়েক হাজার মাইল দূরে দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীতে বসবাসকারী প্রাণীগুলি আমাদের গঙ্গায় কীভাবে এসে পৌঁছল? এক্ষেত্রে অবশ্য সুস্পষ্ট কোনও ধারণা মেলেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আমাদের দেশে এখন অনেক মাছ ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা অনেক সময় বিদেশ থেকে চড়া দামে বিভিন্ন রকমের মাছ কিনে নিয়ে এসে নিজেদের একোয়ারিয়ামে রাখে, সেই সূত্র ধরেই সন্দেহ করা হয়েছে যে, হয়তো ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই এই বিশেষ ধরনের প্রাণীকে উপস্থিত হয়েছে গঙ্গার জলে।

এই ঘটনা অবশ্য প্রথম নয়, এর পূর্বেও এই সাকেরমাউথ ক্যাটফিশ দেখা মিলেছিল গঙ্গা নদীতে। মাছ ব্যবসায়ীদের অবহেলার কারণে যদি ভবিষ্যতে দেশের নদীগুলিতে এরা বংশবিস্তার ঘটায়, তবে তা বড় বিপদ ডেকে আনবে এবং তা রোখা একপ্রকার মুশকিল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের।

লিখেছেন
Sayan Das
Sayan Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?