লাগাতার বৃষ্টিতে ব্যাপক জল ছাড়ছে ডিভিসি, পুজোর আগেই ভাসবে দক্ষিণবঙ্গ?

Flood Situation in West Bengal: মঙ্গলবার ভোর পৌনে পাঁচটা থেকেই জল ছাড়া শুরু করে ডিভিসি। ঝাড়খণ্ডের দিকে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ায় তেনুঘাট জলাধর থেকে জল ছাড়া হয়েছে ৷ এর জেরে পাঞ্চেত জলাধারের উপরে চাপ বেড়েছে ৷

subhajit putatunda
৩ মিনিট
লাগাতার বৃষ্টিতে ব্যাপক জল ছাড়ছে ডিভিসি,  পুজোর আগেই ভাসবে দক্ষিণবঙ্গ?

লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পরিস্থিতি দক্ষিণ বঙ্গের একাধিক এলাকায়। তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে আসানসোল ও ঝাড়খণ্ডের দিকে। এই পরিস্থিতিতে ডিভিসির মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিস প্রশাসন। ডিভিসি কর্তৃপক্ষের তরফে এ-ও জানানো হয়েছিল, বৃষ্টি যদি না কমে, তাহলে জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়াবে ডিভিসি। সত্যি হয়েছে সেই আশঙ্কাই। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ব্যাপক পরিমাণে জল ছাড়তে শুরু করেছে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার।

যে জল জমা হওয়ার কথা দুর্গাপুরে। যার ফলে দুর্গাপুর ব্যারেজেও প্রবল চাপ তৈরি হওয়ার কথা। যে চাপ সামাল দিতে নতুন করে জল ছাড়তে হবে দুর্গাপুর ব্যারেজকে। এই পরিস্থিতিতে বন্যার আশঙ্কায় কাঁপছে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি জেলা। বৃষ্টি না ধরলে পুজো যে জলের তলাতেই কাটকে পারে এ রাজ্য়ের নিচু স্তরের জেলাগুলিতে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সব শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এক লক্ষ ৩৩ হাজার কিউসেক জল ছেড়েছে দুর্গাপুর ব্য়ারেজ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা, নেপথ্যে যে কারণ

Bangladesh Flood: অগস্টের শুরুতেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৭টি অংশে ভাঙন দেখা গিয়েছিল। প্রথমে এখান থেকেই লোকালয়ে জল ঢুকতে শুরু করে।

ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ডিভিসি সূত্রে খবর, বেলা ১১টা নাগাদ মাইথন থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার কিউসেক হারে এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৭০ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে ৷ ব্যাপক পরিমাণে জল ছাড়ার ফলে রাজ্যের নীচের এলাকাগুলি জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৷ ডিভিসির ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে বন্যার লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে ৷ আড়াই লক্ষ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে বলে ওয়েবসাইটে ডিভিসি নিজেই জানিয়েছে । আর এই জল ছাড়ার ফলে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে রাজ্যে ৷ গত তিনদিন ধরে অবিরাম বর্ষণ চলছে ৷ এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় প্লাবনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে । ডিভিসি জল ছাড়ার ফলে পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলির নীচের স্তরের জায়গাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল ৷ এবার মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই আশঙ্কা বাড়িয়ে দিল ৷

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
IAS হতে গিয়ে ভেসে গেলেন ৩ পড়ুয়া! কোচিং সেন্টারে বন্যায় মর্মান্তিক মৃত্যুতে গাফিলতি কার?

Delhi IAS coaching centre deaths: শনিবার রাতে ভারী বৃষ্টি হয় দিল্লিতে। সেই সময় রাউ'জ আইএএস স্টাডি সার্কেলের বেসমেন্টে একটি লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করছিলেন তিন সিভিল সার্ভিস পড়ুয়া

মঙ্গলবার ভোর পৌনে পাঁচটা থেকেই জল ছাড়া শুরু করে ডিভিসি। ঝাড়খণ্ডের দিকে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ায় তেনুঘাট জলাধর থেকে জল ছাড়া হয়েছে ৷ এর জেরে পাঞ্চেত জলাধারের উপরে চাপ বেড়েছে ৷ ফলে পাঞ্চেত জলাধার থেকে ভোর থেকে ৪৯ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া শুরু হয়েছে ৷ মাইথন থেকে এই ক'দিনে কম জল ছাড়া হয়েছিল ৷ যেটুকু তাপবিদ্যুতের টারবাইন ঘোরানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল, সেটুকুই ছাড়া হচ্ছিল ৷ কিন্তু আসানসোলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এই মরশুমের সবচেয়ে বেশি জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ালো ডিভিসি কর্তৃপক্ষ ৷ ডিভিসি সূত্রে খবর, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধারে প্রচুর পরিমাণে জল বেড়েছে এবং সেই জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ৷ ডিভিসি জানিয়েছে গত চব্বিশ ঘণ্টায় মাইথন জলাধারে ৪৯৩.৯৬ ফুট জলস্তর রয়েছে এবং পাঞ্চেতে ৪২১.৮৩ ফুট জলস্তর রয়েছে ৷ প্রতি ঘন্টায় গড়ে দুই থেকে আড়াই লাখ কিউসেক ছাড়া হচ্ছে সূত্রের খবর।

এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্য়োপাধ্যায়। পুজোর আগে যাতে এই সব জেলা এলাকাগুলিতে বন্য়া পরিস্থিতি না তৈরি হয়, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা হয়েছে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নিম্নলিখিত জেলায় নজরদারির জন্য নিম্নলিখিত বিশেষ সচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিচু এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে ইতিমধ্যেই। হাওড়ায় এম‌এস‌এম‌ই সচিব রাজেশ পান্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বীরভূমের দায়িত্বে রয়েছেন আবাসন সচিব রাজেশ সিনহা। পশ্চিম মেদিনীপুরে জনস্বাস্থ্য কারিগরি সচিব সুরেন্দ্র গুপ্তা, হুগলি কৃষি সচিব ওঙ্কার সিং মীনা, পুর্ব মেদিনীপুরের খাদ্যসচিব পারভাজ সিদ্দিকী, ঝাড়গ্রামের পরিবহণ সচিব সৌমিত্র মোহন, পশ্চিম বর্ধমানের অনগ্রসর কল্যাণ সচিব সঞ্জয় বনসল, বাঁকুড়ার শ্রম সচিব অবনীন্দ্র সিং, পুরুলিয়ার শিল্প সচিব পি মোহন গান্ধি এবং পূর্ব বর্ধমান পঞ্চায়েত সচিব পি উলগানাথকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

যদিও আশার আলো মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে সূর্য উঠেছে আসানসোলে ৷ তাই খানিকটা হলেও স্বস্তি মিলেছে ৷ যদিও ঝাড়খণ্ডের দিকে বেশি বৃষ্টিপাত হলে জল ছাড়া অব্যাহত থাকবে বলেই ডিভিসি সূত্রের খবর ৷ আর তেমনটা হলে অচিরেই ভাসতে পারে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা, তেমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?