নীতীশ ডিগবাজি খেতেই তেজস্বীকে ইডির তলব! ন্যায় যাত্রায় ইন্ডিয়া নিয়ে নীরব কেন রাহুল?

Tejashwi Yadav Bharat Jodo Nyay Yatra : সিবিআই গত বছরের অক্টোবরে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ, রাবড়ি দেবী, তাঁদের মেয়ে মিসা ভারতী এবং অন্য ১৩ জনের বিরুদ্ধে চাকরির জন্য জমি কেলেঙ্কারিতে চার্জশিট দাখিল করে।

inscript
৩ মিনিট
নীতীশ ডিগবাজি খেতেই তেজস্বীকে ইডির তলব! ন্যায় যাত্রায় ইন্ডিয়া নিয়ে নীরব কেন রাহুল?

রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা ঢুকে পড়েছে বিহারে। এই যাত্রার বিহার প্রবেশের ঠিক একদিন আগেই ইন্ডিয়া জোটের শরিক নীতীশ কুমার ফের ডিগবাজি খেয়ে চলে গেছেন বিজেপির শিবিরে। আর বিহারে ন্যায় যাত্রার দ্বিতীয় দিনেই ইন্ডিয়ার আরেক শরিক আরজেডির নেতা তেজস্বী যাদবকে শমন পাঠালো ইডি। চাকরির জন্য জমি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাঁকে। লালু যাদব ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মেয়াদে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই কেলেঙ্কারিটি ঘটেছিল। আরজেডি-র জাতীয় সভাপতি ছাড়াও ইডির চার্জশিটে তৎকালীন রেলওয়ে জেনারেল ম্যানেজারের নামও রয়েছে।

রেলে চাকরি দেওয়ার বদলে লালু প্রসাদ যাদব ওই চাকরি প্রার্থীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অধিকারে থাকা জমিগুলি তাঁর স্ত্রী রাবড়ি দেবী এবং কন্যা মিসা ভারতীর নামে করে নেন, তাও আবার নামমাত্র মূল্যে। সেই সময়ের প্রচলিত সার্কেল রেট এবং জমির বাজার দরের তুলনায় অনেক কম দামে জমি হস্তগত করেন লালু।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতরত্ন দেওয়াতেই লুকিয়ে আসল খেল? কীভাবে কর্পুরী ঠাকুরের পথে হাঁটলেন নীতীশ কুমার?

Karpoori Thakur and Nitish Kumar : কর্পুরী ঠাকুর অনগ্রসর জাতিগুলিকে দু’ভাগে ভাগ করেছিলেন, "অপেক্ষাকৃত বেশি পিছিয়ে পড়া" এবং "অপেক্ষাকৃত কম পিছিয়ে পড়া"।

সিবিআই গত বছরের অক্টোবরে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ, রাবড়ি দেবী, তাঁদের মেয়ে মিসা ভারতী এবং অন্য ১৩ জনের বিরুদ্ধে চাকরির জন্য জমি কেলেঙ্কারিতে চার্জশিট দাখিল করে। সিবিআই বলছে, এই চাকরি প্রার্থীদের প্রথমে রেলওয়েতে গ্রুপ ডি পদে বিকল্প হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাদের পরিবার যখন জমি বিক্রির চুক্তি করে তখন তাদের পাকাপাকি কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। রেলে চাকরির বদলে ঘুষের জন্য জমি হস্তগত করার অভিযোগের তদন্ত করছে সিবিআই। একই সঙ্গে অর্থ তছরুপের মামলারও তদন্ত করছে ইডি।

এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি ভারত জোড়া ন্যায় যাত্রা নিয়ে ২৯ জানুয়ারি বিহারে পৌঁছে যান। খুব আশ্চর্যের বিষয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিন্দা করলেও, সারা দেশে জাতি-ভিত্তিক আদমশুমারির দাবি জানালেও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের ইন্ডিয়া থেকে এনডিএ হয়ে যাওয়া নিয়ে একটি কথাও বললেন না তিনি। রাহুল বলছেন, বিজেপি এবং আরএসএস ঘৃণা ছড়ায়, জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করার কথা বলে কিন্তু কংগ্রেস ভালোবাসা, সম্মান এবং ভ্রাতৃত্বের কথাই বলে। তাহলে ইন্ডিয়া ছেড়ে নীতীশের চলে যাওয়া, দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ণ আরজেডি প্রসঙ্গ কি এড়িয়ে যাচ্ছেন রাহুল?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মমতা নেই, নীতীশ নেই! বিজেপির বিরোধিতা করতে ইন্ডিয়া জোটে রইল কারা?

INDIA Block and BJP : জেডি(ইউ) বিজেপিতে যাওয়ার ফলে, উচ্চবর্ণের পাশাপাশি ওবিসি এবং ইবিসি (অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণি) সম্প্রদায়ও এনডিএ-কে ভোট দিতে পারে।

রাহুলের দাবি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ছাড়া দেশ কখনই উন্নতি করতে পারে না। ফলে বিজেপি যে কথা বলছে তা একেবারেই ফাঁপা। "ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর জাতি) দেশের জনসংখ্যার ৫০%, দলিত আছেন ১৫%, ১৫% সংখ্যালঘু এবং ১২% উপজাতি। এই দেশের সরকার ৯০ জন আইএএস অফিসার দ্বারা পরিচালিত এবং তারাই প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং অন্যান্য খাতে বাজেট বরাদ্দ করে। আমি বিহারের ওবিসি জনগণকে বলতে চাই যে ৯০ জনের মধ্যে মাত্র তিনজন ওবিসি আইএএস অফিসার রয়েছে। যদি ১০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়, তাহলে ওবিসি অফিসার মাত্র ৫ টাকা বরাদ্দ করেন। এটাই বাস্তবতা,” বলছেন রাহুল।

বিহারে কংগ্রেসের এই ন্যায় যাত্রা সীমাঞ্চল অঞ্চল থেকে শুরু হয়েছিল, বর্তমানে বিহারে এই অঞ্চল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এবং কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। সীমাঞ্চল, উত্তর বিহারে অবস্থিত, চারটি জেলা নিয়ে গঠিত: পূর্ণিয়া, কাটিহার, কিষাণগঞ্জ এবং আরারিয়া। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে, NDA তিনটি এবং কংগ্রেস জিতেছে একটি আসন। সেই সময় জেডি(ইউ)ও এনডিএ-র অংশ ছিল। কাটিহার ও পূর্ণিয়া লোকসভা আসন এখন জেডি(ইউ)-এর, আরারিয়া বিজেপির এবং কিষাণগঞ্জ কংগ্রেসের। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সীমাঞ্চল অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা ৪৭%, যা কংগ্রেস এবং আরজেডির জন্য বেশ ভালো সুযোগ।

কিন্তু এরই মাঝে, নীতীশ বিজেপির হাত ধরতেই তেজস্বীকে ইডির জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়টি নতুন করে কাঁটা হয়ে উঠছে গলার। রাহুল যতই নীতীশকে নিয়ে চুপ থাকুন না কেন, বোঝাই যাচ্ছে নীতীশ ও বিজেপি মিলে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সমস্ত মোক্ষম অস্ত্রই ব্যবহার করতে চলেছে। চাকরির জন্য জমি কেলেঙ্কারির মতো ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে কি আরজেডি এবং ইন্ডিয়া বিহারে আস্থা অর্জন করতে পারবে?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।