পাঁচ দশকের শাসনের অবসান! কীভাবে সিরিয়ায় পতন হলো আসাদ সরকারের?

Syria Al-Assad Govt: আসাদ এবং তাঁর পিতা হাফিজ আল-আসাদের শাসনকালে মানবধিকার লঙ্ঘন নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। এখন রাজধানী দামাস্কাস সহ একাধিক শহর চলে গিয়েছে বিদ্রোহীদের দখলে।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
পাঁচ দশকের শাসনের অবসান! কীভাবে সিরিয়ায় পতন হলো আসাদ সরকারের?

রবিবার সকালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকারের পতন হয়েছে। দেশ ছেড়েছেন আসাদ। সিরিয়ায় পাঁচ দশক বাদে অবসান হয়েছে আসাদ পরিবারের শাসনের। আসাদ এবং তাঁর পিতা হাফিজ আল-আসাদের শাসনকালে মানবধিকার লঙ্ঘন নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। এখন রাজধানী দামাস্কাস সহ একাধিক শহর চলে গিয়েছে বিদ্রোহীদের দখলে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, দামাস্কাসে ইতালির রাষ্ট্রদূতের বাসভবনেও ঢুকে পড়েছেন একদল সশস্ত্র মানুষ। পর্যবেক্ষকদের মত, একপ্রকার বিনা বাধাতেই রাজধানী দখল হয়ে গিয়েছে। তেমন কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি সরকার। কারা সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে উৎখাত করল? পতনের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বিরোধীরা কারা?

রবিবার ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী 'হায়াত তাহরির আল-শাম' (এইচটিএস) এক বিবৃতিতে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, বাশার আল-আসাদ দেশ থেকে পালিয়েছেন। সিরিয়া এখন মুক্ত। এর মধ্যে দিয়ে দেশে অন্ধকার যুগের সমাপ্তি হলো এবং নতুন যুগের সূচনা হলো। ইসলামপন্থী সশস্ত্র দুই গোষ্ঠী 'হায়াত তাহরির আল-শাম' (এইচটিএস) এবং তাদের সহযোগী 'জইশ আল-ইজ্জা'-র যৌথবাহিনী উৎখাত করেছে আসাদ সরকারকে। আবু মহম্মদ আল-জুলানির নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল এই অভিযান। নভেম্বরের শেষদিকে বিদ্রোহীরা হঠাৎ আলেপ্পা দখল করে নেয়। তারপরই সিরিয়ায় সরকারের পতন হলো। হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিল এইচটিএস। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক সহ একাধিক দেশে এইচটিএস সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবেই তালিকাভুক্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হিজবুল্লাহকে চাপে রাখতেই লেবাননে স্থল আক্রমণ! ইজরায়েলে পাল্টা পরমাণু হামলার ফন্দি আঁটছে ইরান?

Israel-Hezbollah Conflict: কিছুদিন আগেই লেবাননে স্থল আক্রমণের কথা জানিয়েছিল ইজরায়েলি সেনা। মঙ্গলবার থেকেই সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোনো শুরু করেছে তারা।

২০১১ সালে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠা হয়। সূচনালগ্নে সংগঠনের নাম ছিল জাবাত আল নুসরা। সেই সময় এটি আল-কায়দা জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। সংগঠনটি গঠনের সময় আইএস গোষ্ঠীর নেতা আবু বকর আল বাগদাদিও ছিলেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইএস আসাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল। বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, এই গোষ্ঠী বিপ্লবের চেয়ে জিহাদি আদর্শকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিদ্রোহীরা 'ফ্রি সিরিয়া' নামে একটি জোট করেছিল। পরে এই জোটে মতের ভিন্নতা দেখা যায়। ২০১৬ সালে এইচটিএসের নেতা আবু মহম্মদ আল-জুলানি নতুন সংগঠন তৈরি করেন এবং জাবাত আল নুসরাকে বিলুপ্ত করেন। নতুন সংগঠনের নাম হয় তাহরির আল-শাম। পরে এর সঙ্গে আরও ছোট সংগঠন যুক্ত হয়েছিল। মাঝে বেশ কিছুদিন এইচটিএস সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশকে ক্ষমতার কেন্দ্র করেছিল। সংগঠনটি ওই এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনও চালু করে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়েছিল এইচটিএসের। বিশ্লেষকরা মনে করেন, আল কায়দার সঙ্গে জোট ভাঙার পর তারা খিলাফতের চেয়ে সিরিয়ায় ইসলামি শাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মৃত্যু উপত্যকা গাজা | এত লাশ রাখব কোথায়?

Gaza War: প্যালেস্তাইনের নিরস্ত্র জনতার উপর যখন বোমা পড়ছে, রকেট বৃষ্টি হচ্ছে, ঝলসে যাচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুর দল, সেই অপরূপ মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য তখন উঁচু পার্বত্য এলাকায় ইজরায়েলিদের ভিড়।

২০১১ সালে দাদরা শহরে গণতন্ত্র রক্ষার বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। সিরিয়া সরকার তখন আন্দোলনকারীদের উপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। আসাদ এই আন্দোলনকে 'বিদেশি সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ' বলেছিলেন। এতে আন্দোলন আরও তীব্র হয় এবং আসাদ সরকারের পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। সেই সময় থেকেই সিরিয়ায় বহু বিদ্রোহী দল তৈরি হয়। এবং দিন দিন হিংসা বাড়তে থাকে। দেশে কার্যত গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আইএস ও আল-কায়দার মতো উগ্রপন্থী গোষ্ঠীরাও সিরিয়ায় শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

অনেক আন্তজার্তিক সংবাদমাধ্যম গত চার বছর ধরে লিখতে শুরু করেছিল সিরিয়ায় যুদ্ধ শেষের দিকে। বলে রাখা ভালো, দেশের শুধুমাত্র বড় শহরগুলিতেই আসাদের শাসন ছিল। সংঘাতের শুরু থেকেই সিরিয়ার পূর্ব দিকের কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলি আসাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। উত্তর পশ্চিমের ইদলিব প্রদেশ এবং মরুভূমি এলাকাগুলিতে জঙ্গি সংগঠনগুলি শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। ইদলিব মূলত এইচটিএস নিয়ন্ত্রণ করত। কয়েক বছর ধরেই এই এলকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। কারণ সরকার বাহিনীও ইদলিবকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইছিল।

বিশেষজ্ঞদের মত, সিরিয়ায় ইরানের সামরিক কমান্ডোদের উপর ইসরায়েলের আক্রমণ বিদ্রোহীদের হঠাৎ আলোপ্পার দিকে যেতে উস্কেছে। আরও একটি কারণ হিসাবে বিশ্লেষকরা বলছেন, লেবাননে ইজরায়েলের আক্রমণে হিজাবুল্লাহর যে পরিণতি হয়েছে তার কথাও। বলে রাখা ভালো, গত কয়েক মাসে ইসরায়েল ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে জোরদার হামলা হচ্ছিল। এতে সিরিয়ার হিজাবুল্লাহ নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়েছে। রাশিয়া বহুদিন ধরেই আসাদ সরকারকে সমর্থন জানিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, বিদ্রোহীদের সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক। আসাদ যুদ্ধক্ষেত্রে আস্থা রেখেছিলেন রাশিয়ার বিমানশক্তি, ইরানের সামরিক সহায়তা এবং হিজাবুল্লাহর উপর। বিশেষজ্ঞদের মত, এই সমর্থন না থাকলে অনেক আগেই আসাদ সরকারের পতন হতো।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ব্রাজিল থেকে আমেরিকা যে কারণে দক্ষিণপন্থীদের শাস্তি দিচ্ছে শান্তিকামী মানুষ

The Alt - right Tide Turns: বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। হাঙ্গেরিতে ১৬ বছরের অরবান-শাসনের অবসান, সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের নির্বাচনী বিজয়, ব্রাজিলে প্রথম রাউন্ডে পিছিয়ে থেকেও লুলার জয়, আমেরিকায় মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটদের সংসদের দুই কক্ষ দখল, সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে অতি-দক্ষিণপন্থী জোয়ারে ভাটার সুর। তবে ফ্রান্স, পোল্যান্ড, ইতালিতে দক্ষিণপন্থা এখনও টিকে আছে। সেগুলির বিরুদ্ধেও চলছে জেনজিদের, শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষদের বিক্ষোভ।

ডানাছাঁটা ট্রাম্প-নেতানিয়াহু, বিশ্ব রাজনীতি কোন দিকে যাবে?

Trump midterm defeat: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং ইজরায়েলের নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো—দুটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমেরিকা-ইজরায়েল সম্পর্কের সমীকরণ কি বদলাবে? আর বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাবই বা কতটা পড়বে?

ট্রাম্পের হারের ৫ কারণ: কেন মুখ ফিরিয়ে নিলেন মার্কিন ভোটাররা?

US Midterm Elections: আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ট্রাম্পের নীতি—রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পাঁচটি মূল কারণ কী কী?

পিস বন্ড কী, কেন দিতে হয়? নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঔপনিবেশিক আমলের আইন

Peace Bond: শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করলেই কি দিতে হবে পিস বন্ড? AISA-র জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার আপত্তিতে নতুন করে বিতর্কে ঔপনিবেশিক আমলের প্রতিরোধমূলক আইন। ব্রিটিশ আমল থেকে স্বাধীন ভারত, CrPC থেকে BNSS—কীভাবে বদলেছে এই আইনি ব্যবস্থা? কেন কাউকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকা দিতে বলা হয়? কী বলছে আইন?

রামলীলা ময়দানের সভায় ভিড় দেখাতে এআই ছবি? কতটা সত্যি?

Ramlila Maidan AI image controversy: দিল্লির রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বরের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমাবেশে ভিড় ও এআই ছবি ব্যবহার নিয়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে বিতর্ক তুঙ্গে। ভাইরাল ছবিগুলোর সত্যতা কী?

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।