নাটকীয় রাজনৈতিক উত্থান! ১২ ঘণ্টায় যেভাবে বদলে গেল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাস!

South Korea Martial Law:ইউন সামরিক শাসন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই তা বাতিলও হয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়ায়।

inscript
৩ মিনিট
নাটকীয় রাজনৈতিক উত্থান! ১২ ঘণ্টায় যেভাবে বদলে গেল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাস!

মঙ্গলবার গভীর রাতে নাটকীয় রাজনৈতিক উত্থানের সাক্ষী হলো দক্ষিণ কোরিয়া। সেই দেশের রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইওল দেশে সামরিক আইন ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। মঙ্গলবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি সিদ্ধান্তমূলকভাবে এই সামরিক আইন ঘোষণাকে বাতিল করে দিয়েছে। গভীর রাতের এক জরুরি অধিবেশনে, শাসক ও বিরোধী দুই দলেরই ৩০০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯০ জন সর্বসম্মতভাবে সামরিক আইন প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে ভোট দেন। ইউন সামরিক শাসন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই তা বাতিলও হয়ে গেল দক্ষিণ কোরিয়ায়।

১৯৮০ সালের পর এই প্রথম সামরিক আইনের শাসন ঘোষিত হয়েছিল সেই দেশে। প্রেসিডেন্ট ইউন বলেছিলেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি কারণ, তা না হলে 'রাষ্ট্রবিরোধী' এবং 'উত্তর কোরিয়াপন্থী শক্তি' নির্মূল করা যাবে না দেশ থেকে। সামরিক শাসনের ঘোষণা হতেই দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পরিষদের বাইরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে যান। সামরিক আইন জারির বিরোধিতায় সংসদের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলে। সিওলে বিধানসভার কাছে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষও শুরু হয়। ট্যাঙ্ক, সাঁজোয়া গাড়ি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কমান্ডো বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যরা সংসদ ঘেরার চেষ্টা করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ধ্বংসস্তূপ হয়ে যাওয়া দেশ আজ উন্নতির চূড়ায়! কীভাবে ঘুরে দাঁড়াল দক্ষিণ কোরিয়া

South Korea: দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা একেবারে ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন, দেশের স্বার্থকে সব সময় এগিয়ে রেখেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অনেক ভিডিওতেই দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিকরা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রবেশপথে পাহারা দিচ্ছেন। হেলমেট-পরা সৈন্যরা রাইফেল হাতে মানুষের প্রবেশ রোধে চারপাশে কড়া প্রহরা দিচ্ছে। সামরিক আইন জারি মানে, রাজনৈতিক ও সংসদীয় কার্যক্রম স্থগিত করা যেতে পারে, পরোয়ানা ছাড়াই লোকজনকে গ্রেফতার করা যেতে পারে এবং ভিন্নমতের মানুষদের উপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে। পাশাপাশি ভুয়ো খবর এবং জনমতকে নিজের মতো করে ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। সামরিক আইন জারির খবর ছড়িয়ে যেতেই বিরোধী এবং সুশীল সমাজের কাছ থেকে তীব্র নিন্দা ধেয়ে আসে রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যে। এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক নীতির উপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেন নাগরিকদের বড় অংশই।

এই শাসন জারির ঘোষণার পরপরই সিওলে জাতীয় পরিষদের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। জরুরি সামরিক আইন প্রত্যাহারের দাবির পাশাপাশি ইয়ুন সুক ইওলকে গ্রেফতার করার দাবিও ওঠে। অ্যাসেম্বলিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরোধী নেতারা তাঁদের সদস্যদের একজোট করে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের অভিযোগ আনেন।

অ্যাসেম্বলিতে গভীর রাতের অধিবেশনে সামরিক আইনের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে সর্বসম্মত ভোটের পর জাতীয় পরিষদের স্পিকার সামরিক আইনকে অবৈধ ঘোষণা করেন। জানিয়ে দেন সন্ধ্যার আগেই সংসদীয় প্রাঙ্গণে প্রবেশকারী সৈন্যদের প্রত্যাহার করতে হবে। সামরিক আইন জারির কিছুঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ইউনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণায় বিক্ষোভকারীরা উদযাপনে মেতে ওঠেন। ক্ষোভ প্রশমিত হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, সংসদ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে দাবি করলে প্রেসিডেন্টকে অবিলম্বে সামরিক আইন তুলে নিতে হবে। প্রেসিডেন্ট ইউনের নিজের দলই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। মার্কিন উপ-রাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেল প্রেসিডেন্ট ইউনের সামরিক আইন ঘোষণার পর দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করার এবং আইনের শাসন বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী কিয়ং-ওয়া কাংও ইউন সুক ইওলের গভীর রাতে সামরিক আইনের ঘোষণা 'বিস্ময়কর' বলে মনে করেছিলেন। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, "দেশ কোনও পরিস্থিতিতেই এমন পদক্ষেপকে সমর্থন করে না।” দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইওল হঠাৎ টেলিভিশন ভাষণে অপ্রত্যাশিতভাবে সামরিক আইন জারির কথা বলাতে মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে কোরিয়ান ওয়ানের তীব্র পতন ঘটে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।