ভারত বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ফেরাতেই হবে! পদক্ষেপ শুরু হলো দুই তরফেই

Yunus on Bangladesh India Relation: সংখ্যালঘু ইস্যু সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যেক নাগরিককে রক্ষা করতে এবং ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে তাঁদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

inscript
৩ মিনিট
ভারত বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ফেরাতেই হবে! পদক্ষেপ শুরু হলো দুই তরফেই

বাংলাদেশ ইস্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কোনও মত প্রকাশ করছে না বলে দিন কয়েক আগেই অভিযোগ করেছিলেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের (হিন্দুদের) উপর অত্যাচারের অভিযোগ, ভারতের পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে দুই দেশের সম্পর্ক তিক্ততর হচ্ছে ক্রমেই। হাসিনা সরকারের সঙ্গে ভারত সরকারের সুসম্পর্ক অজানা নয়। তবে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পরে জনতার অভ্যুত্থানে তৈরি হওয়া 'নতুন' বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সমীকরণ বদলে গেছে সম্পূর্ণই। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্ক ফেরাবে ভারত? সফররত ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি বলেছেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে এবং দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে 'সম্মিলিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টা' করতে চায়।

ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিক্রম মিসরি বলেছেন, "সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে দ্বিতীয় কোনও চিন্তা নেই। আমরা এটাকে দুই দেশের পক্ষেই লাভজনক হিসেবে দেখছি। আমরা যেখানে বিষয়টি থামিয়েছিলাম, সেখান থেকেই আবার চালিয়ে নিয়ে যেতে চাই।”

৪০ মিনিটের ওই বৈঠকে সংখ্যালঘুদের সমস্যা, ভুয়ো তথ্য প্রচার, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনা হয়। মিসরি জানিয়েছেন, "আমাদের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ব্যবসার ক্ষেত্রে যেতে হবে। এটিই একটি প্রধান সম্পর্ক।"

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহম্মদ ইউনূসই অন্তত আরও চার বছর দায়িত্বে? নির্বাচন কবে হবে বাংলাদেশে?

Muhammad Yunus: ইউনূস স্বীকার করেছেন যে, হিন্দু সহ সংখ্যালঘুরা বাংলাদেশে বিক্ষোভের পর হিংসার সম্মুখীন হয়েছেন ঠিকই কিন্তু এটি তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়।

অন্যদিকে অধ্যাপক মহম্মদ ইউনূস বলছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এখনও 'খুবই দৃঢ়' এবং 'ঘনিষ্ঠ'। সাম্প্রতিক হিংসা ও অস্থিরতার আবহে সেই সম্পর্কের উপর মেঘ জমেছে, একথা অস্বীকার করার নয়। তবে দীর্ঘদিনের বন্ধু, তথা নিকটতম প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই মুহূর্তে যে কোনও পদক্ষেপ করলেই তা দুই অঞ্চলের স্থানীয় মানুষদের উপরেও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

ওই বৈঠকে ইউনূস ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, ১৫ বছরের নৃশংস ও দুর্নীতিবাজ স্বৈরশাসনের পর ৫ অগাস্ট ভারতেই পালিয়ে যান হাসিনা। ভারতের বিদেশ সচিবকে ইউনূস বলেন, “আমাদের লোকেরা উদ্বিগ্ন কারণ তিনি সেখান থেকে অনেক বিবৃতি দিচ্ছেন। এটা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশ নিয়ে যে ১৩ টি মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলি

Bangladesh Fake News: যে ভারতীয় সংবাদ সংস্থাগুলি মিথ্যে প্রতিবেদন ছড়াচ্ছে, তাদের মধ্যে রিপাবলিক বাংলা আছে শীর্ষে! মোট পাঁচটি গুজব সম্প্রচার করেছে তারা।

বিক্রম মিসরি এর আগে বাংলাদেশের বিদেশ সচিবের সঙ্গেও একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জুলাই-অগাস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বাংলাদেশে ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করেছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস কীভাবে পড়ুয়া, শ্রমিক ও জনগণ জুলাই-অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনার দুর্নীতিবাজ শাসনের অবসান ঘটাতে হাত মিলিয়েছিল সেই বিস্তারিত প্রসঙ্গও টেনে আনেন।

ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গৃহীত সংস্কার উদ্যোগের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরে বলেছেন, "আমাদের কাজ হলো তাদের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা। এটি একটি নতুন বাংলাদেশ।" বিক্রম মিসরিও বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেই প্রথম বিদেশি নেতাদের একজন যিনি অধ্যাপক ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন বর্ণনা এবং ভারত সরকারের নিজস্ব ধারণা যে ভিন্ন সেই উল্লেখ করে মিসরি বলেন, "আমরা আপনার সাফল্য কামনা করি।"

বাংলাদেশের একটি বিশেষ দলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক রয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়ে পড়ছে তা যে আসলে মিথ্যা, তা স্পষ্ট করেছেন মিসরি। ইউনূস বন্যা এবং জল ব্যবস্থাপনায় ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আহ্বান জানান। সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ভারতকে তাঁর উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান। ইউনূস বলছেন, "আমরা আমাদের সবার জন্য এক সমৃদ্ধ নতুন ভবিষ্যত গড়তে চাই। সংখ্যালঘু ইস্যু সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যেক নাগরিককে রক্ষা করতে এবং ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে তাঁদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। "আমরা একটি পরিবার। আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে," বলছেন ইউনূস।

বিক্রম মিসরি বলেছেন, যে ভারত সার্কের সঙ্গে এখনও যুক্ত আছে তবে তাতে কিছু বাধাও রয়েছে। মিসরি জানিয়েছেন, ভারত গত মাসে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসার সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে এবং আগামী দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়াবে। তবে এই আশ্বাস-ভরসা বৈঠকের ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরেও কতখানি কার্যকর হবে, ভুয়ো তথ্য দিয়ে দুই দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে সংবাদমাধ্যমগুলির বিরুদ্ধে দুই দেশই কোনও ব্যবস্থা নেবে কিনা, এর উপরেও নির্ভর করছে দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের ভিত্তি।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।