কাশ্মীরের দুর্দশার জন্য দায়ী নেহরু, বলছেন অমিত শাহ! কী বলছেন কাশ্মীরে মানুষ?

Jammu Kashmir 370 Article : কাশ্মীরের জনগণের কাছে ছবিটা এখনও ভয়েরই। ভয়ে চুপ থাকা মানেই শান্তি নয়! ভয়, ক্রমবর্ধমান দাম এবং বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে এই অঞ্চলে।

inscript
৩ মিনিট
কাশ্মীরের দুর্দশার জন্য দায়ী নেহরু, বলছেন অমিত শাহ! কী বলছেন কাশ্মীরে মানুষ?

বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল। ৩৭০ ধারা বাতিল কি আদৌ সাংবিধানিক পদ্ধতিতে করা হয়েছে? কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার মতো কাজ কি বিজেপি সরকার করতে পারে? দেশের শীর্ষ আদালত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে, পারে। জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা বাতিল সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই হয়েছে। ২০২৪ সালের আগে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কেন্দ্রের পক্ষে যাওয়া এক বড় ঘটনা। চার বছর আগের এই ধারা বাতিলের ঘটনায় আদালতের সমর্থন পাওয়ার পরেই তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা যা জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল, সেই ধারাই এই অঞ্চলকে বিচ্ছিন্নতাবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

"কাশ্মীরের চেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যা সহ অন্যান্য রাজ্য রয়েছে। তাহলে কেন শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীরেই সন্ত্রাসবাদ এত বেশি? কারণ ৩৭০ ধারা এই অঞ্চলকে বিচ্ছিন্নতাবাদের দিকে পরিচালিত করেছিল," বলেছেন অমিত শাহ। সোমবার সকালেই শীর্ষ আদালত নিজের রায়ে উল্লেখ করে যে, ৩৭০ ধারাটি ছিল অস্থায়ী, শুধুমাত্র জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসাবে সহজ করে রাখার উদ্দেশ্যেই তা তৈরি হয়। চার বছর আগে, ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট অমিত শাহই ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে ভাগ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন।

কংগ্রেস এবং বিরোধীরা আদালতের রায়ে খুশি নয় স্বাভাবিকভাবেই। এখানেই ফের পুরনো তাস আস্তিন থেকে বের করেছেন অমিত। কংগ্রেস এবং নেহরু প্রসঙ্গ এনেই কাশ্মীরের দুর্দশার কারণ অনুসন্ধানে নেমেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেসের দাবি ছিল, ৩৭০ ধারাটি ভুল উপায়ে বাতিল করা হয়েছে। অমিত শাহ বলছেন, কংগ্রেস ৪০ বছর ধরে ভুল করেছে। "কংগ্রেস আশা করছে, ৪০ বছরের ভুলগুলি মোদি চার বছরেই সংশোধন করবেন। কিন্তু ঠিকই আছে, সবসময়ই লক্ষ্য উঁচু রাখাই উচিত," বলেন অমিত শাহ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৩৭০ ধারা রদের পক্ষেই সুপ্রিম কোর্ট, কী ব্যখ্যা দিচ্ছে শীর্ষ আদালত?

Jammu Kashmir Article 370 Verdict : ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকেই দায়ী করেন অমিত। "যদি অসময়ে যুদ্ধবিরতি না হতো (পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধের সময়), তাহলে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর হতো না। আমাদের দেশ জিতেছে, নেহরু যদি দুই দিন অপেক্ষা করতেন, তাহলে পুরো কাশ্মীরই আমাদের হয়ে যেত। অনেকেই বলে নেহরু না থাকলে কাশ্মীর থাকত না। যারা ইতিহাস জানেন, আমি তাদের জিজ্ঞাসা করতে চাই, হায়দরাবাদ একটি বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল, নেহরু কি সেখানে গিয়েছিলেন? নেহরু কি লাক্ষাদ্বীপ, জুনাগড় বা যোধপুরে গিয়েছিলেন? তিনি শুধুমাত্র কাশ্মীরেই যেতেন এবং সেখানেও কাজ অসমাপ্ত রেখে দিয়েছিলেন,” বলছেন অমিত শাহ।

জম্মু ও কাশ্মীরের এই বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে বাকি দেশের সঙ্গে তাকে মিলিয়ে দেওয়ার ফলে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে বলে দাবি মন্ত্রীর। অমিত শাহের দাবি, যারা সন্ত্রাসবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদের কথা বলে তাদের কথা শোনেন না কাশ্মীরিরা। "কাশ্মীরের মানুষ এখন গণতন্ত্রের কথা শোনে... ২০১৪ সালের আগে, হাজার হাজার মানুষ সন্ত্রাসবাদীদের শেষযাত্রায় যোগ দিতেন। এখন কেউ কি এমন কিছু দেখতে পান? কারণ আমরা একটা ব্যবস্থা করেছি। যে স্থানে তাদের হত্যা করা হয়েছিল সেখানেই তাদের শেষকৃত্য হবে,” বলছেন অমিত।

কাশ্মীরের পাথর ছোড়ার ঘটনাও কমে গেছে কারণ সেখানে সরকার একটি নিয়ম করেছে যে যদি কারও বিরুদ্ধে পাথর ছোড়ার মামলা থাকে তবে তাদের পরিবারের কেউ সরকারি চাকরির যোগ্য হবে না। যারা পাথর ছুঁড়ত সরকার কাশ্মীরের সেই তরুণদের ল্যাপটপ তুলে দিয়েছে বলে দাবি অমিত শাহের।

তাহলে কাশ্মীর 'হাসছে'? কাশ্মীর স্বাভাবিক? কাশ্মীরের জনগণের কাছে ছবিটা এখনও ভয়েরই। ভয়ে চুপ থাকা মানেই শান্তি নয়! ভয়, ক্রমবর্ধমান দাম এবং বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে এই অঞ্চলে। কারফিউ নেই ঠিকই, কোনও বনধ নেই ঠিকই কিন্তু মানুষের হাতে টাকাও নেই। সপ্তাহে ৭ দিন বাজার খোলা থাকলেও ক্রেতা নেই। এখনও সন্ধ্যা হলেই থমথমে পরিস্থিতি। বিকেল ৫.৩০ টা হলেই রাস্তায় বেরনো বন্ধ। বাজারে ভিড় নেই, পরিবহন নেই। এখনও ভয়ে থাকে মানুষ। ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়াতে বেকারত্ব বেড়েছে বেশিই। পরিবারের পেট চালানোর মতো টাকা নেই মানুষের হাতে, জমিও যে কোনও মুহূর্তে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা। অথচ ভয় রয়েছে প্রবল। এমনকী আগের চেয়েও বেশি। আর্থিক অবস্থার থেকেও মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বেশি, বলছেন স্থানীয় মানুষরাই। তবে, আগে মানুষ নিজেদের দুর্দশার কথা মুখ ফুটে বলতেন, এখন সেই বলার আগে ভয় এসে আঁকড়ে ধরে। নেহরু না বিজেপি না পাকিস্তান- ঠিক কোন ভয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অবস্থা বদলায় না তাঁদের? উত্তর লুকিয়ে কাশ্মীরেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।