ধর্মীয় উস্কানি থেকে সিএএ-র হুঁশিয়ারি! ধর্মতলার মঞ্চ থেকে যে যে ইঙ্গিত দিলেন শাহ

Amit Shah: হাজার হাজার কর্মী-ভক্ত, তাঁদের উন্মাদনার মধ্যেই মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালেন অমিত শাহ। তবে বেশিক্ষণ নয়, মাত্র ২৩ মিনিটেই শেষ হয়ে গেল অমিত শাহের বক্তব্য।

Sohini Das
৪ মিনিট
ধর্মীয় উস্কানি থেকে সিএএ-র হুঁশিয়ারি! ধর্মতলার মঞ্চ থেকে যে যে ইঙ্গিত দিলেন শাহ

ধর্মতলার ঠিক যে জায়গায় ২১ জুলাই সভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেখানেই মঙ্গলবার হয়ে গেল বিজেপির বিরাট জনসভা। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে হাজির ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির চাণক্য অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভা বলে কথা, স্বাভাবিক ভাবেই সভামঞ্চের সামনে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার কর্মী-ভক্ত, তাঁদের উন্মাদনার মধ্যেই মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালেন অমিত শাহ। তবে বেশিক্ষণ নয়, মাত্র ২৩ মিনিটেই শেষ হয়ে গেল অমিত শাহের বক্তব্য। অমিত শাহের মতো হেবি ওয়েট নেতার এত কম সময়ের বক্তব্য় স্বাভাবিক ভাবেই চোখ টাঁটিয়েছে। তবে যা মনে হচ্ছে, লোকসভা ভোটের আগে এ রাজ্যের বিজেপি নেতাকর্মীদের মনোবলকে বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল ওই ২৩টি মিনিটই। ওই তেইশ মিনিটেই মোটামুটি রাজ্যবিজেপিকে দিশা দেখিয়ে গিয়েছেন তিনি।

আসছে বছর লোকসভা ভোট। কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের ফেরা নিয়ে ততটা সংশয় না থাকলেও বাংলায় এখনও পর্যন্ত দাঁত ফোঁটাতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রতিবারই ভোটের আগে আগে নিজেদের প্রভাববিস্তারের চেষ্টায় বাংলায় আসতে শুরু করেন কেন্দ্রীয় বিজেপি দলের একাধিক শীর্ষনেতৃত্ব। ২০২৩-ও ব্যতিক্রম নয়। মোটামুটি প্রথা মেনেই এ রাজ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বদের যাতায়াত। এ দিন মঞ্চে উঠেই তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানাতে শুরু করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এই সভার অভিমুখ যে চব্বিশের লোকসভার কথা মাথায় রেখেই, তা গোড়া থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন অমিত শাহ। মোটামুটি এই বক্তৃতা কোথায় পৌঁছতে চলেছে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সভার শুরুতেই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু হয়ে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় থেকে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, কেউই বাদ গেলেন না তাঁর বক্তব্য থেকে। এমনকী উঠল গোপাল পাঁঠার নামও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অ্যাপেলের অ্যালার্ট, কার কার ফোনে আড়িপাতার চেষ্টা অমিত শাহের মন্ত্রকের?

Apple Threat Message : মেসেজে আরও বলা হয়েছে, আপনি কে বা আপনি কী করেন, সেই কারণেই আক্রমণকারীরা সম্ভবত আপনাকে আলাদাভাবে টার্গেট করছে৷

তবে এসবের পিছনে বিশেষ সময় নষ্ট করতে দেখা গেল না এদিন শাহকে। বরং ভণিতা না করে সরাসরি তৃণমূলকে আক্রমণ শানানোর দিকে ঢুকে পড়লেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যবিজেপি নেতৃত্বের ভার যে মূলত শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারের হাতেই দিয়ে রেখেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, তাও এদিন স্পষ্ট করে দিলেন অমিত শাহ। বারবার উঠে এল তাঁর বক্তৃতায় তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির প্রশ্ন। বাংলার মানুষ যে তৃণমূল সরকারের অধীনে ভালো নেই, আর বিজেপি সরকার এলেই যে তার বদল সম্ভব, সে কথাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন। উঠে এল নির্বাচনী হিংসার কথা, কাটমানি-সিন্ডেকেট থেকে পার্থ, অনুব্রত বা জ্যোতিপ্রিয়ের মতো নেতাদের দুর্নীতির উল্লেখ। শাহের মতে, যে বাংলার সকালে এককালে কান পাতলে রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনা যেত, সেখানে এখন বোমার শব্দ পাওয়া যায়। রাজ্যের উন্নয়নে মোদী সরকার লাখো লাখো টাকা পাঠালেও তৃণমূলের সিন্ডিকেট তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে দেয় না বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর এরপরেই সরাসরি তৃণমূলনেত্রীকে চ্যালেঞ্জ করেন শাহ। ৩ জেলবন্দি তৃণমূল নেতার নাম তুলে তাঁর দাবি, 'ক্ষমতা থাকলে জ্যোতিপ্রিয়, অনুব্রত, পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের মতো নেতাদের সাসপেন্ড করুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বিজেপি ভার্সেস বিজেপি! শুভেন্দু-দিলীপের কোন্দল থামাতে বাংলায় আসতে হল অমিত শাহকে?

Amit Shah Bengal BJP: দলের রাজ্য দফতরের ওই বৈঠকে সংবাদমাধ্যম তো দূর, বেছে বেছে প্রবেশের অনুমতি ছিল মাত্র ১৪ জন শীর্ষ বিজেপি নেতার।

তবে শুধু তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধ তোপ দাগাই নয়, শাহের এই সভার আরও একটি উদ্দেশ্য যে মোদি সরকারের গুণগুলি এ রাজ্যের মানুষের কর্ণকুহরে পৌঁছে দেওয়া। আর সেই কাজটা ভালো মতোই করেছেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর বক্তৃতায় উঠে এসেছে একের পর এক মোদির সাফল্যের কথা। কাশ্মীর, করোনা, চন্দ্রযান থেকে রাম মন্দির, বাদ যায়নি কিছুই। কংগ্রেস ও তৃণমূল মিলে রামমন্দির গড়ার কাজ আটকে রেখেছিল বলে তোপ দাগেন তিনি। একই সঙ্গে ওঠে অনুপ্রবেশকারীদের কথাও। এ রাজ্যে তৃণণূল সরকারের ঢিলেঢালা নীতির কারণেই যে দেশে অনুপ্রবেশকারীর বাড়বাড়ন্ত, তা স্পষ্ট করে দেন শাহ। পাশাপাশি তাঁর হুঁশিয়ারি, এ বার যে যে কোনও ভাবে তিনি সিএএ কার্যকর করবেনই।

লোকসভা ভোটের আগে অমিত শাহের এই জনসভা স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল রাজ্যবিজেপির জন্য। ভোটের আগে নেতাকর্মীদের মনোবল বাড়াতে টনিকের মতো কাজ করবে শাহের দাওয়াই। সেই ভাবনা থেকেই তো এমন সভার আয়োজন। তবে শুধু যে ২৪-এর লোকসভার দিকেই তাকিয়ে নেই বিজেপির কেন্দ্র নেতৃত্ব, তা মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে শাহের কথায়। ২০২৬ সালে এ রাজ্যে বিধানসভা ভোট। চব্বিশের লোকসভা ভোটের চেয়েও যেটা বেশি পাখির চোখ বিজেপির। আর তার জন্য যে এ রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর উপরেই ভরসা রাখছেন কেন্দ্রীয় বিজেপি, তা একরকম বুঝিয়ে দিয়েছেন অমিত শাহ। এদিন মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অমিত শাহ বলেন, "২ কোটি ৩০ লাখ ভোট বাংলায় ভারতীয় জনতা পার্টি পেয়েছে। আমাদের নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দিদি দ্বিতীয়বার বিধানসভা থেকে বরখাস্ত করে দিয়েছেন। আমি বলছি, দিদি কান খুলে শুনে নিন শুভেন্দুজিকে আপনি বিধানসভার বাইরে বাইরে বের করতে পারেন। কিন্তু, বাংলার জনতাকে চুপ করাতে পারবেন না। বাংলার মানুষ বলছে দিদি আপনার সময় এবার শেষ হয়ে গিয়েছে।"

এদিন সভামঞ্চ থেকে একদিকে যেমন তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ধস নামানোর চেষ্টা করছেন শাহ, অন্যদিকে তেমনই বাংলার মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক হিংসার স্মৃতি উসকে ধর্মের তাস খেলারও চেষ্টা করছেন। আর তাতেই যে মাছের চোখ বিদ্ধ হবে ভোটের আগে, তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন নেতাকর্মীদের। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটে যেমন বাংলা থেকে ভালো ফল চাইছেন শাহ, তেমনই বিধানসভা ভোটেও এ রাজ্যে বিজেপির খুঁটি শক্ত করার দিকে বেশি করে মন দেওয়ারও ইঙ্গিত রেখে গেলেন তিনি সভায়।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।