পৃথিবী আবার শান্ত হবে! গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত কিশোরীদের স্বপ্ন দেখায় বক্সিং

Palestinian Girls Boxing: ইজরায়েলি সেনা ভেঙে দিয়েছে তাঁদের প্রশিক্ষণের জায়গাটি। একদিন যে বক্সিং ক্লাব তাঁদের হাতে গ্লাভস গলিয়ে নিতে শিখিয়েছিল, শিখিয়েছিল উঠে দাঁড়ানোর মন্ত্র, সেই ক্লাব আজ ধ্বংসস্তূপ।

Sohini Das
২ মিনিট
পৃথিবী আবার শান্ত হবে! গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত কিশোরীদের স্বপ্ন দেখায় বক্সিং

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা। ইজরায়েলের হামলায় হামলায় শেষ হয়ে যাওয়া শহরটা আস্ত একটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে যুদ্ধের চিহ্ন, ঘর বাড়ি ধর্মস্থান থেকে শুরু করে স্কুল, হাসপাতাল সব কিছু গুড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। গণকবরে উপচে পড়ছে মৃতদেহের ভিড়। যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরটাকে বাসিন্দাদের সঙ্গী বলতে এই নৈরাশ্যের পাহাড় আর মৃত্যুভয়। তবু তো মানুষ স্বপ্ন দেখে, সুযোগ পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর। সমস্ত যুদ্ধবাজদের এক নিমেষে রুখে দিয়ে শান্তির পায়রা উড়িয়ে দেওয়ার। ঠিক যেমন ভাবে স্বপ্ন দেখেন ফিলিস্তিনি কোচ ওসামা আইয়ুব। তাই যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শরণার্থী শিবিরে দাঁড়িয়েই ফিলিস্তিনি মেয়েদের বক্সিং শিখিয়ে যান তিনি।

ইজরায়েলি সেনা ভেঙে দিয়েছে তাঁদের প্রশিক্ষণের জায়গাটি। একদিন যে বক্সিং ক্লাব তাঁদের হাতে গ্লাভস গলিয়ে নিতে শিখিয়েছিল, শিখিয়েছিল উঠে দাঁড়ানোর মন্ত্র, বন্ধুত্ব করতে শিখিয়েছিল, সেই ক্লাব আজ ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু সেই ক্লাবে একদিন যে হার না মানার শিক্ষা পেয়েছিল খুদে খুদে মেয়েরা, সেই মনোবলকে সম্বল করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। গাজায় কোনও রকম খেলাধুলোর সুযোগসুবিধা বা সরঞ্জামই বেঁচে নেই ইজরায়েলি আগ্রাসনের মুখে। তাতে কী? মাথার উপর দিগন্ত বিস্তৃক আকাশ রয়েছে, পায়ের তলায় রয়েছে মাটি। সেইটুকুকে সম্বল করেই শরণার্থী শিবিরে জোরদার প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান ওসামা। না, সুরক্ষার সরঞ্জাম নেই। বক্সিংয়ের রি বা পাঞ্চ ব্যাগ কোনওটাই নেই। সেসব ছাড়াই অভ্যাসের লড়াই লড়ে যান বক্সিং যোদ্ধারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গাজার শরণার্থী শিবিরে ভয়ঙ্কর হামলা! ফের নিরপরাধ মানুষের রক্তে ভিজল নেতানিয়াহুর হাত

Israel’s war on Gaza: মধ্য গাজার একটি স্কুলকেই শরণার্থী শিবির করে আশ্রয় নিয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত সহায়সম্বলহীন গাজাবাসী। আর সেই স্কুলেই আকাশপথে হামলা চালানো হয় বৃহস্পতিবার।

প্রথম প্রথম যুদ্ধের ভয় কাটাতে সময় লেগেছিল ওসামারও। তার পর বক্সিংকে কেন্দ্র করেই হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে আসতে থাকে। ফের রাস্তায় বেরনো শুরু করেন তাঁরা। কোনও অংশেই যে কম যান না তাঁরাও, তা যেন বুঝিয়ে দিচ্ছিল ওই বক্সিংয়ের গ্লাভস দু'টোই। এখন ওসামার প্রশিক্ষণ শিবিরে চোখ রাখলেই দেখা যায়, কিশোরীদের দল খালি হাতে ঘুষি মারছে হাওয়ায়। কখনও আবার কাল্পনিক প্রত্যাঘাত এড়াতে সরিয়ে নিচ্ছে মুখ। প্রতিটা পদক্ষেপ, সমস্ত কৌশল দ্রোণাচার্যের মতোই শিখিয়ে যাচ্ছেন ওসামা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পাঁচ মাসে ১৭ হাজার মৃতদেহ দাফন! গাজার মৃত্যুমিছিল ঘুমোতে দেয় না বৃদ্ধ জাফরকে

Israel War on Gaza: গত সাতাশ বছরে যে পরিমাণ শবদেহকে সমাধিস্থ করেছেন জাফর, গত পাঁচ মাসে তার দশগুণ দেহ সৎকার করতে হয়েছে তাকে। গাজা এখন গণকবর।

একদিন যে বক্সিং ওইসব কিশোরীদের স্বপ্ন দেখিয়েছিল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার, সেই বক্সিংয়ের হাত ধরেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে গাজার ওই সব মেয়েরা। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে লাগাতার যুদ্ধ চলছে গাজায়। ইজরায়েলের একের পর এক হামলায় ছাড়খার হয়ে গিয়েছে গোটা শহর। সেই যুদ্ধ ভিতর থেকে নিষ্প্রভ করে দিয়েছিল এই সব খুদে বক্সারদের। সেই বক্সিংই যে তাঁদের পুরনো আমিকে ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁদের কাছে। আর সেটাই বড় তৃপ্তি দেয় কোচ ওসামাকে।

গাজা যেন এখন আস্ত একটা বধ্যভূমি। গাজাবাসীর জন্য যেখানে বেঁচে থাকাটাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ, খেলাধুলার স্বপ্ন সেখানে বিলাসিতা। অথচ এই খেলাই তো মানুষকে জোট বাঁধতে শেখায়, একসঙ্গে লড়ে যেতে শেখায়। কিন্তু সেখানে এখন খেলাধুলার আয়োজন করাও খুব ঝুঁকির কাজ। গত মঙ্গলবারই ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন আঘাত হেনেছিল ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র। অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয় সেই ঘটনায়।

গাজায় এখন ৯০ শতাংশ মানুষই বাস্তুচ্যুত। কোনও রকমে শরণার্থী শিবিরে পশুর মতো দিন কাটছে তাঁদের। তার উপর দেশে দুর্ভীক্ষের পরিস্থিতি। নেই চিকিৎসার সুযোগ। রোজ রোজ মানুষ মরে যাচ্ছে। তা-ও মানুষের স্বপ্ন মরে না। বেঁচে যাওয়া প্রতিটি মানুষ প্রায় প্রতিটি মুহূর্তে স্বপ্ন দেখে একটা যুদ্ধহীন অশান্তিহীন নতুন দিনের। আর সেই নতুন দিনের সূর্য আনার পথে ছোট ছোট মেয়েদের কয়েক পা এগিয়ে দেন ওসামা আইয়ুব। বক্সিংয়ের হাত ধরেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে যুদ্ধক্লান্ত এক দল ফিলিস্তিনি কিশোরী।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।