যুদ্ধের বাজারে জ্বালানি অমিল! মাটির সাবেক উনুনে ফুটে ওঠে ভাতই ভরসা এখন বিধ্বস্ত গাজায়

Israel-Palestine conflict: সময় যে ভালো নয়, তা বেশ বুঝতে পারেন আকরা। তাই মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে উনুনের দামে নয়ছয় করেন না। পুরনো দামেই উনুন বিক্রি করছেন এখনও।

Sohini Das
৩ মিনিট
যুদ্ধের বাজারে জ্বালানি অমিল! মাটির সাবেক উনুনে ফুটে ওঠে ভাতই ভরসা এখন বিধ্বস্ত গাজায়

পোড়া কাঠে সদ্য সেঁকা রুটির গন্ধ। অভুক্ত বা অর্ধভুক্তের কাছে এ যেন স্বপ্নের মতো। তবে সেই রোম্যান্টিসিজমের জায়গা নেই আর বেঁচে নেই গাজা স্ট্রিপে। একটা-দুটো রুটি, একটু অর্ধসিদ্ধ তরকারি, ন্যূনতম এইটুকু জোগার করাটাই এখন কঠিন গাজায়। কারণ সব দিক থেকে গাজাকে অন্নে, ভাতে এবং হাতে মেরে রেখেছে ইজরায়েল। ৪৫ দিনের লাগাতার যুদ্ধে খাবারের মজুতে টান পড়েছে। জল নেই, ওষুধ নেই। এমনকী প্রয়োজনীয় জ্বালানিটুকুও নেই এখন গাজায়। তবু তো বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ন্যূনতম রুটিটুকু তো লাগে। তার জন্যই এখন মাটির উনুনের দিকে ঝুঁকছে গাজা। ক্রমশ রমরমা বাড়ছে মাটির উনুনের।

মাটির উনুনে করা রান্নার স্বাদই আলাদা। তা ছোট থেকেই শুনেছেন গাজার মানুষজন। তবে সেই স্বাদ যে এই পরিস্থিতিতে জিভে উঠে আসবে, তা কি দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি তারা। তবে আজ এই যুদ্ধপরিস্থিতিতে সেটাই একমাত্র ভরসা গাজার।

৫৩ বছরের ইনশিরাহ সালেম আল আকরা এই যুদ্ধভূমিতে বসে একমনে তাই বানিয়ে যাচ্ছেন মাটির উনুন। হ্যাঁ, গ্যাস বা সিলিন্ডার আসার আগে ঠিক যেমন মাটির উনুনে রান্না করতেন মানুষ। নরম মাটি, কাদা, পশুর গোবর ও খড় দিয়ে মণ্ড তৈকি করে হাত দিয়ে মেখে মেখে তৈরি করে ফেলতে হবে একদম উনুনের আকারের। এর পর তাকে রোদে শুরিয়ে ফেলার পালা। আর শুকিয়ে গেলেই তৈরি মাটির উনুন। আর এই কাজটিই গাজাবাসীর জন্য মন দিয়ে করে চলছেন ইনশিরাহ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ওষুধের জোগান নেই, নামছে হাসপাতালে ঝাঁপ! জর্ডনের ফিল্ড হাসপাতাল বাঁচাবে গাজাকে?

Israel-Hamas War: লাগাতার বোমা, রকেট হামলা। তার উপর গাজাকে হাতে এবং ভাতে মারার সমস্ত ব্যবস্থাই করে রেখেছে ইজরায়েল। খাবার-জল থেকে শুরু করে জ্বালানি, সব কিছুরই তীব্র সঙ্কট এখন গাজায়।

গত ৪৫ দিন ধরে গাজায় একের পর এক হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইজরায়েল। একের পর এক হাসপাতাল, একের পর এক শরণার্থী শিবিরকে নিশানা করা হয়েছে। বাস্তুহারা ভিটেহারা স্বজনহারা মানুষ, তবু দিনযাপনের জন্য ন্যূনতম খাবারটুকু তবু প্রয়োজন হয়। যা এখন অমিল গাজায়। তবু মানুষ যুদ্ধ থামান না। বেঁচে থাকার যুদ্ধ। যে যুদ্ধ এই ইজরায়েল-গাজার যুদ্ধের চাইতেও আসলে আরও বড়, আরও কঠিন। গাজায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জখম তিরিশ হাজারেরও বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ওষুধ নেই, কেমোথেরাপি নেই! যেভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে এগোচ্ছেন গাজার ক্যান্সার আক্রান্তরা

Gaza Cancer Patients : লিউকেমিয়া রোগী সালেম খরেইস জানাচ্ছেন, কোন ওষুধ নেই, চিকিত্সা নেই। যন্ত্রণা কতটা ভয়াবহ তা বলে বোঝাতে পারার অবস্থাতেও নেই তিনি।

ভয়াবহ এই যুদ্ধ আদতে গাজার শৈশবের উপরে সবচেয়ে বড় একটা প্রশ্নচিহ্ন। তবু যারা বেঁচে গিয়েছে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায়, তাদের জন্য ভরসা এখন মাটির উনুন। জ্বালানিহীন গাজায় শিশুদের মুখে অন্ন তুলে দিতে ওটাই ভরসার জায়গা। জ্বালানি নেই। দীর্ঘদিন ধরেই গাজা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। কারণ একের পর এক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দফতরগুলিকে উড়িয়ে দিয়েছে ইজরায়েলি সেনা। ফলে সনাতন পদ্ধতির কাছে ফেরা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই গাজায়।

আল-আকরার স্বামী ছিলেন পেশায় মৎস্যজীবী। সেই কাজ করেই চলত সংসার নির্বাহ। তবে গত মালে ইজরায়েলি সেনা তাঁর সাধের নৌকোখানি পুড়িয়ে দেয়। জীবিকাহীন হয়ে পড়ে আল আকরার পরিবার। অগত্যা সংসারের হাত ধরতে হল তাঁকেই। আগেও উনুন বানাতেন আকরা। স্বামীর পাশে দাঁড়াতেন উনুন বানিয়ে। এই যুদ্ধের মধ্যে দাঁড়িয়ে সেটাই হয়ে উঠল আয়ের একমাত্র পথ। গত এক সপ্তাহে অন্তত পাঁচটি মাটির উনুন তৈরি করে বেচেছেন তিনি। আগে যা তৈরি করতে একমাস সময় লাগত, তা এখন ঝড়ের গতিতে বানিয়ে ফেলছেন আকরা। সময়টাই যে বিধ্বস্ত। এ সময় হাতের গতি না বাড়ালেই বা চলবে কেন।

সময় যে ভালো নয়, তা বেশ বুঝতে পারেন আকরা। তাই মানুষের দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে উনুনের দামে নয়ছয় করেন না। পুরনো দামেই উনুন বিক্রি করছেন এখনও। গাজায় এখন সবচেয়ে ছোট্ট উনুনটির দাম ৪০ শেকেল, যা ২১ ডলারের কাছাকাছি। আর সবচেয়ে বড় উনুনটি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ শেকেলে। যা ৪০ ডলারের সমান। আপাতত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের মুখে দুটো অন্ন তুলে দিচ্ছে সেকেলে সেই উনুন। একটু গাছের ডাল, শুকিয়ে যাওয়া লকরি, যে যেটুকু পারছেন, উনুনের মুখে ঢেলে দিয়ে ফুটিয়ে নিচ্ছেন খাবারটুকু। তুলে দিচ্ছেন সন্তানের মুখে। বাড়ির মানুষগুলোর মুখে। কথায় বলে, যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ। সেদিকেই তাকিয়ে সাবেক জীবনযাপনের দিকে ফিরছে গাজা। উনুনের আঁচে সেঁকে লাল হয়ে উঠছে রুটি, এই আশায় একদিন সকাল হবে। গোলাবারুদহীন সুন্দর এক সকাল, যেখানে ইজরায়েলি বাহিনীর চোখরাঙানি থাকবে না, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া শরীর থাকবে না। এমন দিনের দিকে চেয়ে গোটা বিশ্ব।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।