জোর দিতেন গবেষণায়, বাংলা পড়ারও সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন বাংলার বাঘ

Susen
৪ মিনিট
জোর দিতেন গবেষণায়, বাংলা পড়ারও সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন বাংলার বাঘ

সাক্ষর সেনগুপ্ত: সেনেটের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে ১৮৯১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠিতে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন— এম এ স্তর পর্যন্ত দেশীয় ভাষার ব্যবহার শুরু হোক। সভায় সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হল, ১১-১৭ ভোটে হেরে প্রস্তাব বাতিল হল! কিন্তু তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলা ভাষা শুরুর পক্ষে মত দিয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, আনন্দমোহন বসু। অনেক পরে নিজে উপাচার্য হয়ে ব্রাত্য বাংলা ভাষাকে যোগ্য মর্যাদায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে এনেছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। দীনেশচন্দ্র সিংহের বর্ণনায়, রবীন্দ্রনাথের নোবেল পাওয়ার প্রাক্কালে ম্যাট্রিকের সিলেবাসে বাংলা বলতে ছিল ‘বেঙ্গলি কম্পোজ়িশন’, কোনওমতে খানিকটা ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ আর সাধু-চলিত, চলিত-সাধু রূপান্তর, ব্যাকরণের টুকিটাকি। বি এ ক্লাসেও ‘কম্পোজ়িশন’ ছিল, কিন্তু তাতে পড়ুয়ারা পাশ করুক কি ফেল, রেজ়াল্টে কোনও সমস্যা হত না। এই জায়গা থেকে আশুতোষ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা পড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ছেলে শ্যামাপ্রসাদ ইংরেজিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এম এ চালু হলে আশুতোষ তাঁকে বাংলার ছাত্র করে ক্লাসে পাঠিয়েছিলেন!

১৮৮৫ সালে গণিতে, পরের বছর পদার্থবিদ্যায় এম এ হলেন। এরকম মেধাবী ছাত্রের আগাগোড়া ভাল ফল দেখে শিক্ষা বিভাগের তৎকালীন ব্রিটিশ অধিকর্তা আশুতোষকে প্রেসিডেন্সি কলেজে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর আশুতোষ বললেন, ‘চাকরি করতে পারি, তবে আমার পদমর্যাদা ও বেতন ইত্যাদি সাহেব শিক্ষকদের সমান হতে হবে, প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আমাকে অন্য কোথাও বদলি করা যাবে না, আর সবচেয়ে বড় কথা, গবেষণার সুযোগ ও পরিকাঠামো দিতে হবে।’ তরুণের কথা শুনে অধিকর্তা তো হতভম্ব! তদানীন্তন উপাচার্যও ডেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ!’ আশুতোষ জানালেন— ‘আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটের সদস্য করে নিন।’ একুশ বছর বয়সের একটা ছেলে ঢুকতে চায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেটে, যেখানকার সব সদস্যই কি না আদতে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত বা অনুমোদিত। আর তার মধ্যে সেনেট সদস্য হয়েই ছাড়লেন আশুতোষ। পঁচিশ বছর বয়স তখন! তারও পর আছে। আইন পড়লেন, ১৮৮৮ সালে, কলকাতা হাইকোর্টের উকিল হলেন, আর তারই বিচারপতি হলেন যখন, তখন তাঁর বয়স চল্লিশ। আর সেই তিনিই ১৯২৩-এ যখন অবসর নিচ্ছেন, বিচারপতি হিসাবে রায়ের সংখ্যা দু’হাজারের বেশি।

চিত্রঋণ : Google১৯০৬-এ তাঁকে যখন উপাচার্য করা হল তখন বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে। লর্ড কার্জ়নের ইউনিভার্সিটি কমিশন আর ইউনিভার্সিটি অ্যাক্টের তীব্র প্রতিক্রিয়া বাংলার বিশিষ্ট জনেদের মধ্যে। জাতীয় শিক্ষা পরিষদ গঠিত হয়েছে, ব্রিটিশ বিরোধিতা তুঙ্গে। বাংলার প্রায় সমস্ত গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে আক্রমণ করে বলছেন ‘গোলদিঘির গোলামখানা’, ব্রিটিশদের চাকর তৈরির জায়গা। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার হাতে নেওয়া মানে তো অগ্নিপরীক্ষা! ঘরের লোক আর পরের লোক— দুয়েরই চক্ষুশূল হওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কিন্তু তিনি আশুতোষ মুখোপাধ্যায়! উপাচার্য হয়ে শুধু নিয়ন্ত্রণ হাতে নিলেন না, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পঠ নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোন পঠনপাঠনের আবহেও আপাদমস্তক বদল আনলেন। পরীক্ষার ব্যবস্থা করলেন। যে প্রতিষ্ঠান ছিল শুধু ইস্কুল-কলেজের পরীক্ষার ভারবাহী কেজো যন্ত্র, তাকে উচ্চশিক্ষা আর গবেষণা চর্চায় অনেক বেশি উপযোগী হয়ে ওঠার ব্যবস্থা করলেন।

কোনও সংস্কার মানে তো কারণ ছাড়া দেওয়া নয়। একটু ভাঙা তো অনেকটা গড়া। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা দুটোতেই অর্থের প্রয়োজন। তারকনাথ পালিত, রাসবিহারী ঘোষ-সহ বহু বিদ্যোৎসাহী ও অর্থবান মানুষের থেকে দান-অনুদান জোগাড় করলেন আশুতোষ। পাঠ্যসূচি সংস্কার করলেন, স্নাতকোত্তরে খুললেন নতুন নতুন বিষয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব, ফলিত রসায়ন, প্রাচীন ভারত ও ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতির মতো বিষয়ের শুরু তাঁর চেষ্টাতেই। শুধু তো নতুন বিভাগ খুললেই হল না, উপযুক্ত শিক্ষকও চাই। পদার্থবিদ্যায় সি ভি রমন, রসায়নে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়কে নিয়ে এলেন পড়াতে। গণেশ প্রসাদ, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষ, হাসান সুরাবর্দি... কে না ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে? সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে এম এ পাশ করার পরেই এম এ ক্লাসে পড়ানোর ভার দিয়েছেন। দর্শনের চেয়ার-অধ্যাপক করে বসিয়ে দিয়েছেন এক দক্ষিণী তরুণকে— নাম সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ! অক্সফোর্ডের অধ্যাপক পল ভিনোগ্রাডফ, বন ইউনিভার্সিটির সংস্কৃতের প্রফেসর হার্মান জেকবি, বিখ্যাত ফরাসি অধ্যাপক সিলভাঁ লেভি— সবাই এসেছেন আশুতোষের ডাকে সাড়া দিয়ে। সাধে কি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মশ্রদ্ধার প্রবর্তন হয়েছে এইখানেই’!

চিত্রঋণ : Googleসেনেট হলে আইনের ছাত্রদের পরীক্ষা, ও দিকে কলকাতা অশান্ত অসহযোগ আন্দোলনে। সুকুমার সেনের স্মৃতিচারণায় আছে, আশুতোষ পরীক্ষার্থীদের বাড়ি যেতে দিলেন না। রেখে দিলেন হার্ডিঞ্জ হস্টেলে, পাছে ঘরে ফিরলে রাজনৈতিক নেতারা তাদের পরীক্ষা দিতে না দেন! আবার এই ব্রিটিশ সরকারই যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বশাসিত সংস্থার উপরে ছড়ি ঘোরাতে শুরু করল, আশুতোষ তীব্র ভাষায় তার সমালোচনা করেছেন। সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিতেন গবেষণাকে। প্রেসিডেন্সি কলেজের লাইব্রেরিতে বিখ্যাত সব গণিত বিষয়ক গবেষণা পত্রিকা আসত, পড়তেন মন দিয়ে। এম এ পাশের আগেই তাঁর তিনটে পেপার প্রকাশিত। ১৮৮৪-১৯০০, এই ক’বছরের মধ্যে তিনি লন্ডন ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি, রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি, এডিনবরা রয়্যাল সোসাইটি, লন্ডন ফিজ়িক্যাল সোসাইটি, প্যারিস ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি, রয়্যাল আইরিশ অ্যাকাডেমি, আমেরিকান ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটির সভ্য! প্রচুর লিখেছেন এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল জার্নালে। মহেন্দ্রলাল সরকারের ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্স’-এ সাম্মানিক অধ্যাপক পদেও ছিলেন।

১৯০৮-এ তৈরি করেন ক্যালকাটা ম্যাথমেটিক্যাল সোসাইটি। ওই সোসাইটির জার্নালেই পরে বেরিয়েছিল সি ভি রমন, মেঘনাদ সাহার গবেষণাপত্র! সি ভি রমন আক্ষেপ করেছিলেন, বাংলা আইনজীবী ও বিচারক আশুতোষকে পেয়েছে বটে, কিন্তু হারিয়েছে এক গণিত-নক্ষত্রকে! শুধু গণিত নিয়ে থাকলেই মানুষটা হইচই ফেলে দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিছনে লেগে থাকতেন, যাতে তাঁরা গবেষণায় মন দেন। ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র সম্পাদনার কাজ দীনেশ সেন করেছেন তাঁরই প্রেরণায়। রমেশচন্দ্র মজুমদার আত্মকথায় লিখেছেন, গবেষণা করতেন যে শিক্ষকেরা, আশুতোষ তাঁদের ক্লাস কমিয়ে দিতেন। শিক্ষকদের রক্ষাও করতেন ঈর্ষাপরায়ণ সহকর্মীদের কাছ থেকে। এক বার মর্নিং ওয়াকে দেখা হলে আশুতোষ তরুণ রমেশচন্দ্রকে বলেন, ‘তোমার চাকুরি হওয়াতে বুড়োরা খুব চটেছে।’ ‘বুড়ো’দের বলা কথা যে তিনি বিশ্বাস করেননি, জানিয়ে তাঁকে বলেছেন, ‘খুব সাবধানে এদের সঙ্গে চলবে।’ ১৯০৮ সালেই ইউনিভার্সিটি ল কলেজ, দু’বছর পরে রাজাবাজারে সায়েন্স কলেজের দুয়ার খুলে গিয়েছিল, যুক্ত হয়েছিল একের পর এক, সৌজন্য বাংলার বাঘ স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়।

তথ্যসূত্র:

  • স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, জীবন ও সমকাল - সম্পাদনা, ড: রীনা ভাদুড়ী

  • আনন্দবাজার পত্রিকা - 02.03.2019

লিখেছেন
Susen
Susen
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।